আবু ছাওর নামে একজন আলেম মাজুসী মেয়েদের বিবাহ করার বৈধ হওয়ার ফতওয়া দিলে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রঃ) বলেন,
أبو ثور كاسمه
আবু ছাওরের নামের সাথে কাজের মিল রয়েছে।
{তাফসীরে ইবনে কাছীর}

আবু ছাওর অর্থ গরুর পিতা। একটি মাসয়ালাতে ভুল করার কারণে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল অন্য একজন আলেমকে গরুর সাথে তুলনা করেছেন।

পূর্বে দেখা যেতো কোনো আলেম ভুল ফতওয়া দিলে চারিদিক হতে সেটার নিন্দা করা হতো। ফলে উক্ত আলেম হয়তো তার ফতওয়া পরিবর্তন করতো অথবা মানুষের নিকট অগ্রহনযোগ্য সাব্যস্ত হতো। কিন্তু বর্তমান যুগ মুর্খতার যুগ। ইসলাম সম্পর্কে মানুষ যা খুশি বলে বেড়াচ্ছে তাতে না কেউ প্রতিবাদ করছে আর না সধারন লোক হক বাতিল চিনতে পারছে।

যে সকল আলেমরা ভুল ফতওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীন পরিবর্তন করে তারা ইসলামের যতোটুকু ক্ষতি করে তা কোনো কাফিরও করতে সক্ষম নয়। আল্লাহ ইয়াহুদীদের সম্পর্কে বলেন,
يحرفون الكلم عن مواضعه
তারা (আল্লাহর কিতাবের ) শব্দের অর্থকে তার সঠিক স্থান হতে বিচ্যুত করে।

এক কথায় আল্লাহর কিতাবের বিকৃত অর্থ বর্ণনা করে। এটা আল্লাহর নিকট খুবই ঘৃণিত এবং মহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মুরতাদের শাস্তি সম্পর্কে ডঃ জাকির নায়েকের মন্তব্য পূর্বেও জানা ছিল তিনি বলেন, মুরতাদকে হত্যা করতে হবে এটাই একমাত্র ও অপরিবর্তনীয় বিধান নয় বরং চারটি অপশন রয়েছে,
(১) হত্যা করা,
(২) শুলে চড়ানো
(৩) হাত ও পা বিপরীত দিক হতে কেটে দেওয়া
(৪) দেশ হতে বহিষ্কার করা

তার মতের স্বপক্ষে তিনি সূরা মায়েদার এই আয়াত পেশ করে থাকেন,
{إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ}
নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তার রসুলের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় আর পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করার জন্য চেষ্টা করে তাদের শাস্তি এই যে তাদের হত্যা করা হবে অথবা শুলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত ও পা বিপরীত দিক হতে কেটে ফেলা হবে। দুনিয়াতে এটা তাদের প্রতিদান আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
{সূরা মায়েদা/৩৩}

আলেমরা বলেছেন, এই আয়াত মুরতাদ সম্পর্কে নয় (ইবনে আরাবীর আহকামুল কুরআন) আয়াতটি যে মুরতাদ সম্পকে নয় এটার সর্বাপেক্ষা বড় প্রমান এই আয়াতটির পরবর্তী আয়াত অর্থাত ৩৪ নং আয়াতটি, আল্লাহ বলেন,
{إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ} [المائدة: 34]
তাদের শাস্তি দেওয়া হবে না তোমাদের হাতে পাকড়াও হওয়ার আগেই যারা তওবা করে।

উপরের আয়াতটি যদি মুতাদ সম্পর্কে হয় তাহলে প্রমানিত হবে পাকড়াও করার পর যদি মুরতাদ হওবা করে মুসলিম হতে চায় তবু তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু এ কথা সঠিক নয়। বরং মুরতাদ তাওবা করলে তার তওবা সর্বক্ষেত্রে গ্রহনযোগ্য হবে মুসলিমরা তাকে পাকড়াও করার পর তওবা করুন বা আগে করুক।

সূরা মায়েদার উক্ত আয়াতটি ডাকাত ও বিদ্রহীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে যাদের ফিকহী পরিভাষায় মুহারিব (محارب) বলা হয় এই আয়াতেও ইউহারিবুনা (يحاربون) শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। আয়াতের কোথাও মুরতাদ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। যে সকল মুসলিম বা কাফিররা মুসলিমদের ভুখন্ডে হত্যা, রহাজানী ইত্যাদির মাধ্যমে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে তাদের জন্য এই চারটি অপশন। যদি তারা মুসলিমদের হাতে ধরা পরার আগে তওবা করে তবে তা গ্রহণযোগ্য কিন্তু ধরা পরার পর তওবা করলে সে কারণে আখিরাতে ক্ষমা পাবে কিন্তু দুনিয়াতে এই আয়াতের শাস্তি হতে বাচতে পারবে না। আয়াতে তাদের বিধানই বর্ণিত হয়েছে। মোট কথা এই আয়াত যদি মুরতাদ সম্পর্কে হয় তাহলে মুসলিমরা মুরতাদকে বন্দি করার পর যদি সে তাওবা করে তাহলে তা গ্রহনযোগ্য হবে না এমন প্রমানিত হয়। এদিকে খেয়াল রাখলেই আয়াতটির প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করা সম্ভব হবে।

মুরতাদের শাস্তির ব্যাপারে রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন,
من بدل دينه فاقتلوه
যে কেউ তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো।
{সহীহ বুখারী}

ইবনে কুদামা বলেন,
وأجمع أهل العلم على وجوب قتل المرتد
আলেমরা ইজমা করেছেন যে মুরতাদকে হত্যা করা ওয়াজিব।
{আলমুগনী}

সুতরাং মুরতাদের ক্ষেত্রে অন্য কোনো অপশন নেই আলেমদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো দ্বীমত নেই।

সম্প্রতি (গত ১১ ই ফ্রেবরুয়ারী ২০১১) ব্রিটেনে অক্সফোর্ড ইউনিয়ানে ডঃ জাকির নায়েক (Islam & 21 st century) শিরোনামের উপর আলেচনা উপস্থাপন করেন। আলোচনার পর প্রশ্নউত্তর পর্বের প্রায় প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে প্রশ্নকর্তার মর্জিমত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় প্রতিটি উত্তরে তিনি ইসলামের কোনো না কোনো বিধানকে বিকৃত করেছেন পরে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ কিন্তু এখন শুধু বর্তমান প্রসঙ্গে কিছু কথা উপস্থাপণ করতে চাই। জন নামের একজন প্রশ্ন কর্তা প্রশ্ন করে,
Question: Hi my name is John and I am a doctoral student from the USA. My question has to do with persecution, specifically how former Muslims are sometimes killed if they have chosen to leave Islam, deciding that another religion is more true.

For example my girlfriend is Turkish and she lives in turkey, she used to be Muslim but she decided to become a Christian after understanding Jesus in a new way as god made flesh.

She’s had fears in the past that she may be harmed or even killed for her decision.

In light of the recent attention to this matter in Pakistan with Miss. Bibi and the blasphemy laws my question is this – what are you doing to educate or you plan to do to educate the Muslims that if someone chooses to leave Islam that person should not be killed?

সংক্ষেপে প্রশ্নটির মূল বিষয় ছিল যদি কেনো মুসলিম অন্য ধর্মকে সত্য মনে করে তা গ্রহন করে তবে তাকে কিভাবে হত্যা করা যেতে পারে? প্রশ্নে শেষে বলা হয়েছে,
what are you doing to educate or you plan to do to educate the Muslims that if someone chooses to leave Islam that person should not be killed?
একজন লোক যদি ইসলাম ত্যাগ করতে চাই তবে তাকে হত্যা করা উচিত নয় এই মুসলিমদের এটা শিখানোর জন্য আপনারা কি করছেন বা কি করার প্লান করছেন?

এর উত্তরে জাকির নায়েক অনেক লম্বা কথা বলেছেন, তার কথার উল্লেখযোগ্য অংশ হলো,
And all these articles that came about me – a preacher of hate – one of the point was that Dr. Zakir prescribes death penalty for those Muslims who leave their faith and they profess any other faith.

Again these reports were out of context, they took up a portion of my speech where I said that many scholars say that a Muslim who leaves his faith and professes any other religion, death penalty is the punishment but I went on to further say that death penalty is not the standard punishment for any Muslim who leaves his faith and professes any other religion.

I gave the example that once during the time of Prophet Muhammad (peace be upon him), there was a Muslim who converted to another faith and had done some wrong deed for which the Prophet had told that he should be put to death, but later on when Hazrat Uthman approached the Prophet and he said that the man should be forgiven, the Prophet pardoned him.

This incident proves that death penalty is not the standard rule for any Muslim who changes his faith.

আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হয় তার মধ্যে একটি বিষয় এই যে, বলা হয় যেসব মুসলিমরা তাদের বিশ্বাস ত্যাগ করে অন্য কোনো বিশ্বাস গ্রহন করে ডঃ জাকির নায়েক তাদের হত্যা করার রায় দিযেছেন।

এই প্রতিবেদনটিও প্রসঙ্গের বাইরে। তারা আমার কথার একটি অংশ উল্লেখ করেছে যেখানে আমি বলেছি যেসব মুসলিম তাদের বিশ্বাস পরিত্যাগ করে অন্য বিশ্বাস গ্রহন করে অনেক আলেম বলেছেন তাদের হত্যা করতে হবে। কিন্তু আমি আরো বলেছি যে, যেসকল মুসলিমরা তাদের বিশ্বাস পরিত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহন করে তাদের জন্য হত্যার বিধানই অপরিবর্তনীয় বিধান নয়।

আমি উদাহরনও দিয়েছি যে নবী মুহাম্মাদ (সঃ) এর সময় একবার একজন মুসলিম অন্য ধর্মে ফিরে গিয়েছিল এবং কিছু খারাপ কাজ করেছিল যে কারণে রসুলুল্লাহ (সঃ) তাকে হত্যা করার আদেশ দেয়েছিলেন কিন্তু পরে যখন হযরত উসমান (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট পৌছালেন এবং বললেন, এই ব্যাক্তিকে ক্ষমা করে দিন রসুলুল্লাহ (সঃ) তাকে ক্ষমা করে দিলেন। এই ঘটনা প্রমান করে যে, যে কোনো মুসলিম যদি তার বিশ্বাস পরিবর্তন করে তবে হত্যাই তার একমাত্র বিধান নয়।

প্রশ্নকর্তা আবার জানতে চান ডঃ জাকির নায়েক মুসলিমদের এই বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার কি ব্যাবস্থা গ্রহন করেছেন। তিনি বলেন,

There are tens of millions of people watching this program on ‘Peace TV’, they are being educated that death penalty is not the standard rule but why will they believe in me because I have given the reference. I gave the reference of the saying of Prophet from Abu Dawood. I am giving the reference for authenticity – Abu Dawood, vol. 3, hadeeth no. 4345.

Now when I give reference… anyone can go and check up. In this hadeeth, the prophet pardoned the person who was a Muslim and changed to another faith.

Now the difference between my answer and the other answers are that the other people just say without giving reference. Now when I give a reference, … … this gives more authenticity and I am sure now, there are millions of Muslims who will agree that death penalty is not the standard rule for any Muslim who changes his faith to any other religion

লক্ষ লক্ষ লোক পিচ টিভিতে এই অনুষ্ঠান দেখছে তার শিখছে যে হত্যা (মুরতাদের জন্য) স্থায়ী বিধান নয়। কিন্তু তারা কেনো আমাকে বিশ্বাস করবে? কারণ আমি দলীল দিয়েছি। আমি রসুলুল্লাহ (সঃ) এর কথা হতে দলীল দিয়েছি এটা আবু দাউদ এর হাদীস। সত্যতার জন্য আমি দলীল দিচ্ছি,
আবু দাউদ, ভলিউম-৩, হাদীস নং ৪৩৪৫।
এখন যেহেতু আমি দলীল দিচ্ছি তাই যে কেউ যাচায় করে দেখতে পারেন। এই হাদীসে রসুলূল্লাহ (সঃ) এমন একজনকে ক্ষমা করছেন যে মুসলিম ছিল কিন্তু অন্য বিশ্বাস ফিরে গিয়েছিল। এখন আমার উত্তরের সাথে অন্যদের উত্তরের পার্থক্য হলো অন্যরা কেবল বলে দেয় কোনো দলীল উল্লেখ করেনা। এখন আমি যেহেতু দলীল দিলাম ফলে ব্যাপারটি অধিক সত্যতা পেল। এখন আমি নিশ্চিত যে লক্ষ লক্ষ মুসলিম আমার সাথে একমত হবেন যে, কোনো মুসলিম তার নিজ বিশ্বাস পরিত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করলে তাকে হত্যা করতে হবে এটা নিশ্চিত বিধান নয়।

ডঃ জাকির নায়েক এতো গর্ব করে যে হাদীসটি পেশ করেছেন সেটা যাচায় করতে গিয়ে কিন্তু হাস্যকর পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হলো। হাদীসটি আবুদাউদ শরীফের কিতাবুল হুদুদ এর মুরতাদের হুকুম অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে। এখানে পরপর দুটি হাদীস বর্ণিত আছে ইংরাজী ভার্সনের ৪৩৪৫ এং ৪৩৪৬ নং হাদীস। প্রথম হাদীসটি সংখিপ্ত ভাবে বর্ণিত আর তার পরের হাদীসটিতে উপরের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। প্রথম হাদীসটি হলো,
عن ابن عباس قال: كان عبد الله بن سعد بن أبي سرح يكتب لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فأزله الشيطان، فلحق بالكفار، فأمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يقتل يوم الفتح، فاستجار له عثمان بن عفان، فأجاره رسول الله صلى الله عليه وسلم
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দ ইবনে আবি ষারাহ রসুলুল্লাহ (সঃ) এর ওহী লেখক ছিলেন পরে শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করে সে কাফিরদের সাথে মিলিত হয়। রসুলুল্লাহ (সঃ) মক্কা বিজয়ের দিন তাকে হত্যা করতে আদেশ করেন। পরে উসমান ইবনে আফ্ফান তাকে আশ্রয় দেন সেকারণে রসুলুল্লাহ (সঃ) ও তাকে আশ্রয় দেন।
{আবু দাউদ/কিতাবুল হুদুদ/বাবুল হুকমি ফিমান ইরতাদ্দা}

আশ্চর্যের বিষয় যে, ডঃ জাকির নায়েক যাকে মানুষ সর্বধর্মের উপর মহাপন্ডিত মনে করে তিনি এই হাদীসটির পরের হাদীসটি পড়তে ভুলে গেলেন? নাকি সর্ব ধর্মের উপর গবেষণা করার ব্যাস্তাতায় ইসলাম নিয়ে লেখাপড়ার অবসর পান না? আফসস তার মতো গবেষকদের জন্য! কোনো হাদীস হতে দলীল গ্রহণ করতে হলে ঐ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীসের উপর একত্রে গবেষণা করা প্রয়োজন আর এখানে ভিন্ন কোনো গ্রন্থ নয় বরং একই গ্রন্থের একই পৃষ্ঠাতে বর্ণিত হাদীসটি হতে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে গর্ব করে বলা হচ্ছে অন্যরা দলীল দেয়না কেবল কথা বলে আর আমি দলীল দিচ্ছি কেউ চাইলে দেখে নিতে পারে।

পরের হাদীসটিতে উপরের হাদীসে বর্ণিত ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,
يا رسول الله، بايع عبد الله، فرفع رأسه، فنظر إليه ثلاثا، كل ذلك يأبى، فبايعه بعد ثلاث، ثم أقبل على أصحابه، فقال: «أما كان فيكم رجل رشيد يقوم إلى هذا حيث رآني كففت يدي عن بيعته، فيقتله؟»
উসমান (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসুল (সঃ) আব্দুল্লাহর বায়াত গ্রহন করুন। রসুলুল্লাহ (সঃ) তার মাথা উচু করলেন এবং তার দিকে তিনবার দৃষ্টি দিলেন প্রতি বারই তিনি তার বায়াত গ্রহণ করতে অস্বীকার করছিলেন পরে তিনি তার বায়াত গ্রহন করলেন এবং তার সাহাবাদের দিকে তাকিয়ে বললেন তোমাদের মধ্যে কি কোনো বুদ্ধিমান লোক ছিল না, যখন আমি তার বায়াত গ্রহন করতে অস্বীকার করলাম তখন তাকে হত্যা করতো?

দেখা যাচ্ছে আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারাহ তওবা করে মুসলিম হয়ে রসুলূল্লাহ (সঃ) এর হাতে বায়াত হতে এসেছিল আর কোনো মুরতাদ যদি তওবা করতে চাই তবে তাকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে আমরা পুর্বেই কথা বলেছি। কিন্তু জাকির নায়েক এই হাদীস থেকে যেসকল মুসলিমরা ধর্মত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায় তাদের ছেড়ে দেওয়া বৈধ প্রমান করেছেন। সত্যিই প্রসংশা করার মতো তার প্রতিভা ও ধর্মজ্ঞান! যে ব্যাক্তি ইসলাম পরিত্যাগ করার পর আবার তওবা করে ফিরে আসতে চায় আর যে ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায় এবং সেভাবেই টিকে থাকে এই উভয়ের মধ্য কতটা পার্থক্য তা জাকির নায়েকের মতো লোকেদের কিভাবে অজানা থাকে সেটাই প্রশ্ন। তার থেকেও বড় কথা এমন একটা হাদীসকে সামনে এনে পুরো মুসলিম উম্মার ইজমাকে বাতিল প্রমানের চেষ্টা করাটাও কম দুঃসাহসের ব্যাপার নয়!

এসব ব্যাপারে চিন্তা করে সত্যিই অবাক হলাম!!!

আসলে এ সবই হচ্ছে আল্লাহর বিধানকে নিজের ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টা। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। সুম্মা আমীন।

মূল লিখাঃ
http://www.sonarbangladesh.com/blog/abdullah_al_munir/59429

[NB: অনেকেই এই বিষয়টি ডঃ জাকির নায়িককে জানাতে বলেছেন। তাদের জ্ঞাতার্থে বলে রাখি ফেসবুকে নোট লিখে সেটার কপি ডঃ জাকির নায়িককে অনেক আগেই(গত বছর ২০১১ সালে লেকচারটার পরপরই) পাঠানো হয়েছিল এবং যারা পাঠিয়েছিল তারা খোদ ওহাবী/সালাফী/আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের অনুসারীই। কিন্তু তার পক্ষে থেকে কোনো উত্তর আসে নি। ফেসবুকের নোটটি ছিল এটা
https://www.facebook.com/note.php?note_id=492659288343%5D

0 Comments: