ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস যে কারণে হেলেনের প্রেমে পড়েছিলেন

ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস যে কারণে হেলেনের প্রেমে পড়েছিলেন





[highlight color="yellow"]ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস যে কারণে হেলেনের প্রেমে পড়েছিলেন[/highlight]







শিল্পী পিটার পল রুবেন্সের তুলিতে আঁকা ‘জাজমেন্ট অব প্যারিস’। ছবি: সংগৃহীত

 ‘ছোট ছোট বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল,


গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল।’

একটা মহাসাগরের সূচনা কিন্তু এক বিন্দু জলেই হয়েছিল। তেমনি আমাদের জানা-অজানা ইতিহাসের পেছনেই কিন্তু তুচ্ছ কিছু ঘটনা আছে, যা না ঘটলে হয়তো ইতিহাসটাই অন্যরকম হতো। এমন তুচ্ছ ঘটনাগুলো ইংরেজি সাহিত্যে বাটারফ্লাই ইফেক্ট বলে পরিচিত। প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য আজকের এই লেখায় তেমনই এক বাটারফ্লাই ইফেক্ট নিয়ে কথা বলব, যা কিনা একটা জাতির ইতিহাসের বাঁক বদলে দিয়েছিল।

তুরস্কের ট্রয়’ নগরীর পতন এবং এর পতনের পেছনের কারণ আমাদের কম-বেশি সবারই জানা। ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস গ্রিসের রানি হেলেন অব স্পার্টার সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে তাকে নিয়ে ট্রয়ে পালিয়ে গেলে গ্রিক রাজা মেনেলাউস ট্রয় আক্রমণ করেন। এই যুদ্ধেই ধ্বংস হয়ে যায় ট্রয় নগরী। কিন্তু এর সূত্রপাত কি করে হয়েছিল, তা কি আমরা সবাই জানি? প্যারিস কীভাবে আর কেনইবা প্রেমে পড়েছিল হেলেনের?

শুরুটা হয়েছিল দেবলোকে। যখন জিউস অ্যাকিলিসের পিতামাতা পেলিয়াস এবং থেটিসের বিয়ে উদযাপন করার জন্য একটি ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে সঙ্গত কারণে গডেস অব ডিসকর্ড বা অসম্মানের দেবী এরিসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কিন্তু এতে রাগান্বিত হয়ে এরিস অনামন্ত্রিত হয়েও ভোজে উপস্থিত হন এবং হেসপেরাইডসের বাগান থেকে একটি সোনালি আপেল সঙ্গে করে নিয়ে আসেন।

এই আপেলটি ‘অ্যাপল অব ডিসকর্ড’ নামেই পরিচিত। যাই হোক, অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এরিস সেই আপেলটিকে সৌন্দর্যের পুরষ্কার হিসেবে ঘোষণা করে। অর্থাৎ, দেবলোকের সবচেয়ে সুন্দরী দেবীই সেই আপেলটির দাবিদার হবেন। কিন্তু দেখা গেল, হেরা, এথেনা ও আফ্রোদিতি দেবী আপেলটি দাবি করছেন। কেউই সৌন্দর্যে কারো চেয়ে কম যান না। কিন্তু আপেলটি পেতে পারেন শুধু একজন। তাই তারা জিউসের কাছে আবেদন জানান, তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী নির্বাচন করার জন্য। কিন্তু জিউস নিজে এই বিচার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তিনি চাইলেন, এই বিচার করবে মর্ত্যের ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস, যে কি না সম্প্রতিই একটি বিচারকাজে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছিলেন।

হেলেন

শিল্পীর তুলিতে গ্রিক রাজা মেনেলাউসের স্ত্রীহেলেন। ছবি: সংগৃহীত

পরবর্তী সময়ে প্রার্থী দেবী তিনজন হারমিসকে তাদের গাইড হিসেবে নিয়ে মাউন্ট আইডার ঝরনায় স্নান করে প্যারিসের সামনে হাজির হন এবং প্যারিসকে বলেন তাদের সৌন্দর্যের বিচার করতে। কিন্তু দেবীদের মনে হয়, তারা পোশাক পরা থাকার ফলে প্যারিস হয়তো সঠিকভাবে তাদের সৌন্দর্য বিচার করতে পারছেন না। তাই দেবী তিনজন প্যারিসের সামনে নগ্ননৃত্য পরিবেশন করেন এবং প্যারিসকে তাদের সৌন্দর্য দিয়ে ভোলাতে চেষ্টা করেন। তারা পারিসকে ঘুষ দেওয়ারও চেষ্টা করেন।

‘মাদার অব অল গডেস’ নামে পরিচিত দেবী হেরা প্যারিসকে ইউরোপ ও এশিয়ার রাজা করার প্রস্তাব দিয়ে প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্যারিসের রাজ্য পরিচালনায় আগ্রহ ছিল না। তা ছাড়া সে এমনিতেই ট্রয়ের যুবরাজ ছিল। ‘গডেস অব উইসডম’ এথেনা তাকে যুদ্ধজ্ঞানে দক্ষতা ও বিজ্ঞতার প্রলোভন দেখান। কিন্তু প্যারিস তাতেও রাজি ছিল না।

অন্যদিকে প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি নেচে-গেয়ে প্যারিসকে মোহিত করেন এবং তাকে সমগ্র দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দরী নারী গ্রিক রাজা মেনেলাউসের স্ত্রী, হেলেন অব স্পার্টার প্রেম উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্যারিস সানন্দে আফ্রোদিতির উপহার গ্রহণ করেন ও আফ্রোদিতিকে দেবলোকের সবচেযে সুন্দরী আর অ্যাপল অব ডিসকর্ডের দাবিদার হিসেবে রায় দেন। এই ঘটনা গ্রিক পুরাণে ‘জাজমেন্ট অব প্যারিস’ নামে পরিচিত। এভাবেই সূচনা হয় হেলেন আর প্যারিসের প্রেম ও একটি জাতির-সভ্যতা ধ্বংসের।





0 Comments: