এ কেমন ভদ্রলোক
ইফতার করে খানিকটা বাদে শুয়ে পড়লাম। বন্ধুদের সাথে কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙতেই ঘড়ির কাটা জানান দিল, সময় রাত ৯.১৫ মিনিট। একটু অবাক হলাম। কেন্টিনের খাবার টাইম হল ৭.৩০ থেকে ৮.৩০ পর্যন্ত। তারমানে রাতের খাবার সেন্টারের বাহিরে খেতে হবে।
সেন্টারে বাহিরে এসে একটি রিক্সায় উঠলাম। জিরাবো চললাম। রিক্সা চালক বলে উঠলো, ভাইজান এই জগতে মানুষ আর মানুষ নাই।
- কেন কি হল?
চালক: আমি একটা লোকেরে বিশ্বাস করেছিলাম। সে আমার সাথে.... বলেই আটকে গেলো।
আমি: খোলে বলেন তো!
পরে জানতে পারলাম এক ভদ্রলোক নাকি ওরে বলেছে, সে এলাকাতে পাইপ কোম্পানিতে চাকরী নিয়েছে। সহজসরল রিক্সা চালক ঐ ভদ্রলোকের কথায় তাকে অনেক সহযোগীতা করেছেন। ভদ্রলোক তার বউকে নিয়ে ঘুরাঘুরি করেছেন ঐ চালকের রিক্সাতে। ভাড়া চাইলে ভদ্রলোক বলতো, সামনের মাসের বেতন পেয়ে দেবো। লাকড়ি কিনে এনে দিতো ভদ্রলোককে। টাকা চাইলে ভদ্রলোক বলতো, যাও সামনের মাসের বেতন পেয়ে দেবো। এমন ভাবে কৌসলে, ঐ ভদ্রলোক অতি সাধারণ রিক্সা চালকের কাছ থেকে অগণিত টাকা মেরেছে। পরের মাসে খোঁজখবর নিয়ে দেখে ভদ্রলোক তার বউ নিয়ে চলে গেছে অন্য কোথাও।
আমি বললাম, ভাই আপনার নাম কি?
চালক: আমার নাম সহিদুল ইসলাম।
আমি কাকতালীয় ভাবে বললাম, ভদ্রলোকের বউটি বুঝি খুব সুন্দরী ছিল।
সহিদুল: জ্বী ভাইজান। অনেক সুন্দরী.....
আমি: আপনি বুঝি ভদ্রলোকের বউকে পছন্দ করতেন।
সহিদুল: (লাজুক হয়ে) কি যে কন ভাইজান।
আমি বিস্মিত। মানুষ কত নিচে নামতে পারে। এই রকম একটা অতি সরল মানুষের সাথেও মানুষ বেইমানি করতে পারে! চলে এলাম জিরাবো রেস্টুরেন্টের সামনে। কি আর বলবো সহিদুলকে। আহারে বেচেরা ঐ ভদ্রলোকের কথা বলতে বলতে, চোখে মুখে বেদনার চাপ ভেসে উঠছে। ভাড়া দিতে গিয়ে বললাম, সহিদুল সাহেব রাতের খাবার খেয়েছেন।
সহিদুল না বোধক সংকেত দিল।
সহিদুলকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলাম। এবং তার পছন্দের খাবার ও আমার পছন্দের খাবার খেয়ে আবার ওর রিক্সাতে চড়ে সেন্টারের সামনে চলে এলাম। শেষপ্রান্তে তাকে তার ভাড়া দিয়ে বিদেয় দিলাম। সে অবশ্য অনেক কথা বলতে চেয়েছিল। আমি শুধু ওকে একটা কথায় বললাম, সেটা হল, শুনেন সহিদুল ইসলাম, পৃথিবীতে সব মানুষই ঐ ভদ্রলোকের মতো না......। সহিদুল ইসলামের মুখে হাসি ফোটে উঠে।




0 Comments: