-এই যে আস্তে আস্তে করছেনটা কি?
ধীরে চলুন।
-সরি ম্যাম।
-ইটস্ ওকে।
-ঝুম এই ঝুম।
-আরে দিগন্ত ভাইয়া তুমি?
-হুম কার সাথে কথা বলছিলি তুই?
-আরে ডেকোরেশনের কাজ করছে যে তাদের সঙ্গে।
-তাদের সাথে তোর আবার কিসের কথা?
-ভাইয়া! এতো শাসন করো কেনো? মনে হয় আমার থেকে তুমি মাত্র চার পাঁচ বছরের বড় হবে। এসব তোমাকে মানায় না।
-ভুল বললি তিন বছরের বড়। এখন বল কি কথা হচ্ছিলো সেখানে?
-আরে বাবা ডেকোরেটারদের মধ্যে একজন তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে আমার উপর ডেকোরেশন এর অনেকগুলো ফুল ফেলে দিয়েছে তাই বলছিলাম যেন দেখেশুনে কাজ করে।
-এতোকিছু থাকতে ফুলই কেন ফেললো বলতো।
-ভাইয়া এখন কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে।
আচ্ছা বাবা হয়েছে হয়েছে। কখন এসেছিস?
-মাত্র এনট্রি নিলাম আর তোমার তদারকি শুরু হয়ে গেলো।
-সরি সরি। এখন যা স্বাতি আপুর সাথে দেখা কর গিয়ে।
-হুম বধূ কোথায়?
-স্বাতি আপু রুমেই আছে।
-ওকে বাই।
-স্বাতি আপু! কেমন আছো?
-ভালো তুই?
-আমিও ভালো।
হুম হুম তা তুমিতো ভালো থাকবেই তোমার বিয়ে বলে কথা।
-বেশি পেকে গিয়েছিস।
- বললেই হলো আমি এবার অনার্সে ভর্তি হয়েছি। যথেষ্ট বড় হয়েছি।
-আরে আমার আদিকালের দাদী এসেছে।
-আপু দুলাভাইতো ডাক্তার তাইনা?
-হুম।
-তোমার ইন্টার্ণি কি শেষ?
-না।
- দুলাভাই এর ও তাহলে শেষ হয় নি। আর কয়দিন অপেক্ষা করতে পারলে না। এত তাড়া কিসের হুম?
-না ওরতো কবেই শেষ। আরো দুবছর আগে। সে এখন আমেরিকায় সেটেল্ড।
-এই তোমার কার সাথে বিয়ে হচ্ছে? তোমার ব্যাচমেটের সাথে না?
-মা বাবা মেনে নেননি সম্পর্কটা।
-আমিতো ভাবলাম তার সাথেই। সেবার যখন এসএসসি দিয়ে তোমাদের এখানে বেড়াতে এসেছিলাম তখন দেখেছিলাম তুমিতো পুরাই পাগল ছিলে তোমার বয়ফ্র্যান্ডের জন্য। যা করতে আধা ঘণ্টা পরপর কথা না বললেতো তোমাদের হতোই না।
-প্লিজ সেসব আর মনে করাস না অনেক কষ্টে মনকে বুঝিয়েছি।
-তুমি খুশিতো?
-জানিনা রে।
-ফুফা-ফুফি কেনো মানেননি?
-ওদের স্ট্যাটাস আমাদের মতো এত হাই না তাই।
-উনিতো ডাক্তার আর কি দরকার?
-মা-বাবা আমাকে কোনো সাধারণ এক কিন্ডারগার্ডেন এর শিক্ষক এর ছেলের কাছে বিয়ে দিতে রাজি না। ওদের কতো যুক্তি বলে শেষ করা যাবে না। ওর বাবা নেই, মা একজন সাধারণ শিক্ষক, ছোট ভাই আছে তাকে ওর দেখতে হবে,নিজের বাড়ি নেই কতো কিছু। তাও আবার এখনো স্টেবলিশ ডাক্তার হতে পারেনি।
-আপু তোমার অনেক কষ্ট হচ্ছে তাই না?
-জানিনা রে। তোকে বোধহয় রামিসা ডাকছে।
-আচ্ছা আমি এখন যাই।
রামিসা দেখ আমি তোর থেকে কতো লম্বা,বেটে কোথাকার।
-মোটেই না। আর ঝুম আমি তোর থেকে গুণে গুণে সাত দিনের বড়। আমাকে আপু বলে ডাকবি।
-তাতো তোর হাইট দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
-একদম হাইট নিয়ে কথা বলবিনা। নয়তো আমি চাচ্চুর কাছে বিচার দিবো।
-তুইতে বাবার কাছে আমার নামে বিচার দেওয়া ছাড়া আর কিছুই পারিস না। বাচ্চা কোথাকার।
-তুই মনে হয় সব পারিস।
-দেখ্ ঝুম পারেনা এমন কোনো কাজ নেই।
-তাহলে যা ঐখানে যে একগাদা ঝাঁকড়া চুল মাথায় নিয়ে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে তাকে গিয়ে তার চুল নিয়ে টিজ করে আয়।
-এই না এটা পারবো না। আমি একদম ছেলেদের সাথে কথা বলতে পারিনা,ভয় হয়।
-এই না বুঝি তুই সব পারিস, কচু পারিস।
- দেখ একদম এভাবে বলবিনা রামিসা।
-ঝুম কচু পারে।
-দেখ আমি এখনই যাব আর ঐ ছেলেটাকে টিজ করে আসবো।
-তো যা না। এখনো এখানে কেন দাঁড়িয়ে?
রামিসা সেদিন আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলেছিলো দেখি কেমন তুই পারিস।
আমি সেদিন ভয়ে ভয়ে এগুতে থাকি ছেলেটার দিকে।আর ভাবতে থাকি কি বলবো গিয়ে উনাকে? একটু পরেই ছেলেটা যখন সামনে ফিরে তখন আমি দেখতে পাই ছেলেটা হলো সেই ডেকোরাটর ছেলেটা যে আমার উপর তখন ডেকোরেশন এর সব ফুল ফেলে দিয়েছিলো। আমি তখন হাসিমুখে এগিয়ে গিয়ে বলি এই ঝাঁকড়া ভাইয়া ধীরে ধীরে কাজ করুন তাড়াহুড়া করবেননা। সেদিন ছেলেটা আমার দিকে রাগে কটমট করে তাকিয়ে বলেছিলো, দেখুন একদম আমার চুল নিয়ে কথা বলবেন না। আর আমার একটা নাম আছে।
-আমিতো আপনার নাম জানিনা তাই বলেছি আরকি।
-নাম না জানলে জেনে কথা বলবেন।
-তা কি আপনার নাম শুনি।
-ধূসর!
-আচ্ছা ঝাঁকড়া ভাইয়া আসি।
-আবার। মনে থাকে না কেন আপনার।এতো ডাল ব্রেন কীভাবে হয় একজন মানুষের? পড়ালেখাতো মনে হয় কিচ্ছু পারেনা।
-এমন কি নাম যে মনে রাখতে পারবো না। এইরকম পিকুলিয়ার নাম বলতে চাইনা তাই বলিনি।
-কি বললেন পিকুলিয়ার? আসলে এতো সুন্দর আর আনকমন নামতো কোনোদিন শুনেননি তাই আপনার কাছে পিকুলিয়ার।
-শুনিনি কে বলেছে। আমি এই নামের আরও কতোজনের নাম শুনেছি জানেন?
-দেখি বলুনতো কার কার নাম ধূসর শুনেছেন?
এখনো মনে আছে সেদিন আমি কি বলেছিলাম। আমি সেদিন ধূসরকে ঝাঁকড়া ভাইয়া এখন মনে পড়ছে না মনে পড়লে জানিয়ে দিবো বলে এক দৌড় দিয়েছিলাম। পিছনে ফিরে সেদিন আর তাকাইনি।
সেদিনের কথা মনে পড়তেই হাসি পাচ্ছে। চোখের পানিগুলো মুছে বারান্দা থেকে ঘরের দিকে যাই।বেডরুমের দরজাটা খুলেই বিছানার দিকে এগুতেই দেখি টেবিল ল্যাম্পের আলোতে আমার ধূসরকে একদম আমার প্রিন্স চার্মিং লাগছে। ওর ফর্সা কপালে পরে থাকা বিখ্যাত ঝাঁকড়া চুলগুলো ছুঁতে ইচ্ছে করছে।
কিন্তু ভয় হচ্ছে যদি উঠে যায় তখন আবার না জানি কি করবে। এতো সাত পাঁচ না ভেবে যখনই মাত্র ধূসরের চুলে হাত দিয়ে বুলাতে শুরু করলাম ধূসর ধুম করে ঘুম থেকে উঠে যায়। ভয়ে আমার হাত পা কাঁপা শুরু করে দেয়।
-কি করছিলে?
-না মানে আপনার ঝাঁকড়া চুলগুলো একটু বলেই
হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরি।
-কি বললে?
-আসলে সরি আর কোনোদিন হবে না এমন।
-আমার চুলকে কি বললে তুমি?
ভয়ে সেদিন আবারো একবার দৌড়ে পালিয়েছিলাম।
এখনো মনে আছে ধূসরের ভয়ে সেদিন বেডরুম থেকে দৌড়ে বের হয়ে যাই। বের হওয়ার সময় শাড়িতে পা আটকে পরে যেতে নিলে পাশে থাকা টেবিল ধরে কোনোরকম বাঁচি। তবে পায়ে একটু ব্যাথাও পেয়েয়েছিলাম মনে আছে। সেইরাতে আমি ড্রয়িংরুম এর সোফাতেই ঘুমিয়ে যাই ভয়ে আর বেডরুমে যাওয়ার কথা ভাবতেও পারিনি।
চলবে..




0 Comments: