#সেদিন পর্ব:৩
সেদিন সন্ধ্যায় ধূসর আমাকে বিশাল আলিশান এক বাড়ির সামনে নিয়ে দাঁড় করায় আর জিজ্ঞাসা করে বাড়িটা আমার পছন্দ হয়েছে কিনা। আমি পুরাই অবাক হয়ে তাকিয়েছিলাম কতক্ষণ তারপর বলি ওয়াও।
-আচ্ছা চলো ভিতরটা দেখি। তারপর আরো তিনটা বাড়ি আছে সেগুলো দেখতে হবে।
-এতো বাড়ি দেখে আমি কি করবো?
-কারণ আমরা বাড়ি কিনবো।
-এতোগুলো বাড়ি?
-না এখন একটাই কিনবো। যেটা তোমার পছন্দ হবে সেটাই হবে তোমার রাজমহল যেখানকার রাজরাণী, সম্রাজ্ঞী হবে তুমি।
আমি অবাক হয়ে সেদিন ধূসরের দিকে চেয়ে থাকি।
-কি হলো? চিন্তা করো না অতি শীঘ্রই আমি তোমাকে আরও বাড়ি কিনে দিবো।
- আমি কি করবো এতো বাড়ি দিয়ে? আমার এতোকিছুর দরকার নেই।
-তোমার না থাকলেও তোমার পরিবারের আছে।
-দেখুন আমার পরিবারকে নিয়ে প্লিজ কিছু বলবেননা।
-চলো ভিতরে যাই। দেখো পছন্দ হয় কিনা। আর শুনো তোমার পরিবার আমার কাছে সবসময় লোভী হিসেবেই
থাকবে।
সেদিন অভিমানে আর ধূসরের দেখানো আলিশান বাড়িটার ভিতরে যেয়ে দেখিনি। না দেখেই বাড়িটা পছন্দ হয়েছে বলে দেই। সারা রাস্তা চোখের জল ফেলতে ফেলতে বাসায় আসি। ধূসর একবারো আমার দিকে তাকায়নি। আমি কি কখনো এমন জীবন চেয়েছিলাম আল্লাহর কাছে? তাহলে আল্লাহ কেনো আমায় এমন জীবন দিলো? আমি কখনো এতো জাঁকজমকপূর্ণ জীবন চাইনি, শুধু চেয়েছিলাম কেউ সবসময় আমার পাশে থাকবে, আমার দুঃখ সহ্য করতে পারবে না, আমার অভিমানগুলোর দাম দিবে। অথচ কি পেলাম?
সেরাতে না খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়েও গিয়েছিলাম কিন্তু ধূসর ঠিকই খেয়ে দেয়ে নিজের কাজ করে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিলো। মানছি আমার পরিবার অন্যায় করেছিলো কিন্তু তাই বলে এভাবে অপমান কারই বা সহ্য হবে। অন্যায় তো সেদিন আমার সাথেও হয়েছিলো। নিজের আপন মানুষগুলোর প্রতারণা আর অবিশ্বাস আমাকে গত পাঁচটা পছর কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে তবুও নিজের পরিবার সম্পর্কে এমন কথা শুনলে বড় কষ্ট হয়। মনে করেছিলাম আল্লাহ আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে কিন্তু কষ্ট এখনো আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সেদিনগুলো কি কখনো আমাকে শান্তিতে থাকতে দিবে না। সকালে ঘুম থেকে উঠে চা খেতে খুব ইচ্ছে করছিলো তাই চুলোয় পানিতে চা পাতা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ গতকালের কথা মনে করে মনটা খারাপ হয়ে যায়। এসব কিছুতে আমার দোষটা কোথায়? তাহলে আল্লাহ কেনো আমায় শাস্তি দিচ্ছে?
আমার দোষতো এতটুকুই যে আমি উপকার করতে গিয়েছিলাম সেদিন।
সেদিন ধূসরের কাছ থেকে পালানোর পর রামিসাকে অনেক করে বলেছিলাম দেখেছিস ঝুম পারে না এমন কোনো কাজ নেই। রামিসা ছোট মুখ করে বসেছিলো।
তবে আমার মাথায় বারবার একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো ধূসর নামটা এত পরিচিত মনে হচ্ছে কেনো?
আর ওই মিস্টার ঝাঁকড়ার সাহস কতো বড় যে আমাকে বলে কিনা আমি পড়াশুনা পারিনা। নিজে মনে হয় কতো পারে। ভাব দেখে মনে হয় ডাক্তার ইণ্জিনিয়ার। আসলেতো ডেকোরেটর মাত্র। হবে বোধহয় মেট্রিক ফেল, আসছে আমাকে কথা শুনাতে। আমার ব্রেন নাকি ডাল। আমি জানি আমি কতো ব্রিলিয়ান্ট। যদিও মেডিকেলে চান্স পাইনি তারপরও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ি এটাই বা কম কিসে? আর মনোযোগী ছিলামনা দেখে চান্স পাইনি। তবে কেউ বলতে পারবেনা যে আমার ব্রেন ডাল। এইতো আবারো প্রমাণ পেলাম যে আমি যথেষ্ট ব্রিলিয়ান্ট। মনে পড়ে গেছে কোথায় ধূসর নামটা আগে শুনেছি। যাই গিয়ে বলে আসি। সেদিন অনেক খোঁজাখুঁজির পর ধূসরকে দেখতে পাই। ধূসর সেদিন বারবার এদিক ওদিক তাকিয়ে কি যেন খুঁজছিলো।
আমি তাকে বলেছিলাম,
- এই যে মিস্টার ঝাঁকড়া ভাইয়া চোরের মতন এদিক ওদিক কি দেখছেন?
- কি বললেন ?
- দেখুন আপনার সঙ্গে এখানে ঝগড়া করতে আসিনি।
আমি শুধু বলতে এসেছি ধূসর নামের আমি একটা ছেলেকে চিনি সে আমার আপুর বফ ছিলো। বুঝেছেন এই নামে আরও অনেকেই আছে তেমন আহামরি কোনো নাম না এটা।
যেই সেদিন আমি কথাটা বলে চলে যেতে নেই পিছন থেকে ধূসর আমার হাত ধরে। আমি কিছু বোঝার আগেই সে আমার হাত ধরে আমায় কোথায় যেন নিতে থাকে।
চলবে...
ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখছিলাম ধূসর আমাকে ডাকছিলো। আমি ঘুমের রেশটা তখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি তাই আবার অপরপাশ হতেই পড়ে যেতে নেই সোফা থেকে। ঠিক তখনই ধূসর আমাকে ধরে ফেলে।
-কি ব্যাপার? কতক্ষণ পর পর পড়ে যাওয়ার অভ্যাস আছে নাকি তোমার? কাল রাতেও একবার পড়ে যেতো নিয়েছিলে।
-না মানে
-হয়েছে আর বলতে হবে না এখন আমি আসছি।
সন্ধ্যায় তৈরি হয়ে থেকো তোমাকে নিয়ে এক জায়গায় যাবো।
-ঠিক আছে।
কোথায় যাব কি করবো কিছুই সেদিন জিজ্ঞাসা করিনি।
খুব সম্মান করিতো তাকে তাই। কোনোদিন ভাবিনি সে আমাকে ফিরিয়ে নিতে আসবে। যেদিন আমাকে রেখে চলে গিয়েছিলো সেদিন থেকেই তাকে খুব ভালোবাসতে শুরু করি আর যেদিন আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলো সেদিন থেকে শুরু করি সম্মান করতে।
সেদিন সন্ধ্যায় ধূসর আমাকে বিশাল আলিশান এক বাড়ির সামনে নিয়ে দাঁড় করায় আর জিজ্ঞাসা করে বাড়িটা আমার পছন্দ হয়েছে কিনা। আমি পুরাই অবাক হয়ে তাকিয়েছিলাম কতক্ষণ তারপর বলি ওয়াও।
-আচ্ছা চলো ভিতরটা দেখি। তারপর আরো তিনটা বাড়ি আছে সেগুলো দেখতে হবে।
-এতো বাড়ি দেখে আমি কি করবো?
-কারণ আমরা বাড়ি কিনবো।
-এতোগুলো বাড়ি?
-না এখন একটাই কিনবো। যেটা তোমার পছন্দ হবে সেটাই হবে তোমার রাজমহল যেখানকার রাজরাণী, সম্রাজ্ঞী হবে তুমি।
আমি অবাক হয়ে সেদিন ধূসরের দিকে চেয়ে থাকি।
-কি হলো? চিন্তা করো না অতি শীঘ্রই আমি তোমাকে আরও বাড়ি কিনে দিবো।
- আমি কি করবো এতো বাড়ি দিয়ে? আমার এতোকিছুর দরকার নেই।
-তোমার না থাকলেও তোমার পরিবারের আছে।
-দেখুন আমার পরিবারকে নিয়ে প্লিজ কিছু বলবেননা।
-চলো ভিতরে যাই। দেখো পছন্দ হয় কিনা। আর শুনো তোমার পরিবার আমার কাছে সবসময় লোভী হিসেবেই
থাকবে।
সেদিন অভিমানে আর ধূসরের দেখানো আলিশান বাড়িটার ভিতরে যেয়ে দেখিনি। না দেখেই বাড়িটা পছন্দ হয়েছে বলে দেই। সারা রাস্তা চোখের জল ফেলতে ফেলতে বাসায় আসি। ধূসর একবারো আমার দিকে তাকায়নি। আমি কি কখনো এমন জীবন চেয়েছিলাম আল্লাহর কাছে? তাহলে আল্লাহ কেনো আমায় এমন জীবন দিলো? আমি কখনো এতো জাঁকজমকপূর্ণ জীবন চাইনি, শুধু চেয়েছিলাম কেউ সবসময় আমার পাশে থাকবে, আমার দুঃখ সহ্য করতে পারবে না, আমার অভিমানগুলোর দাম দিবে। অথচ কি পেলাম?
সেরাতে না খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়েও গিয়েছিলাম কিন্তু ধূসর ঠিকই খেয়ে দেয়ে নিজের কাজ করে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিলো। মানছি আমার পরিবার অন্যায় করেছিলো কিন্তু তাই বলে এভাবে অপমান কারই বা সহ্য হবে। অন্যায় তো সেদিন আমার সাথেও হয়েছিলো। নিজের আপন মানুষগুলোর প্রতারণা আর অবিশ্বাস আমাকে গত পাঁচটা পছর কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে তবুও নিজের পরিবার সম্পর্কে এমন কথা শুনলে বড় কষ্ট হয়। মনে করেছিলাম আল্লাহ আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে কিন্তু কষ্ট এখনো আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সেদিনগুলো কি কখনো আমাকে শান্তিতে থাকতে দিবে না। সকালে ঘুম থেকে উঠে চা খেতে খুব ইচ্ছে করছিলো তাই চুলোয় পানিতে চা পাতা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ গতকালের কথা মনে করে মনটা খারাপ হয়ে যায়। এসব কিছুতে আমার দোষটা কোথায়? তাহলে আল্লাহ কেনো আমায় শাস্তি দিচ্ছে?
আমার দোষতো এতটুকুই যে আমি উপকার করতে গিয়েছিলাম সেদিন।
সেদিন ধূসরের কাছ থেকে পালানোর পর রামিসাকে অনেক করে বলেছিলাম দেখেছিস ঝুম পারে না এমন কোনো কাজ নেই। রামিসা ছোট মুখ করে বসেছিলো।
তবে আমার মাথায় বারবার একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো ধূসর নামটা এত পরিচিত মনে হচ্ছে কেনো?
আর ওই মিস্টার ঝাঁকড়ার সাহস কতো বড় যে আমাকে বলে কিনা আমি পড়াশুনা পারিনা। নিজে মনে হয় কতো পারে। ভাব দেখে মনে হয় ডাক্তার ইণ্জিনিয়ার। আসলেতো ডেকোরেটর মাত্র। হবে বোধহয় মেট্রিক ফেল, আসছে আমাকে কথা শুনাতে। আমার ব্রেন নাকি ডাল। আমি জানি আমি কতো ব্রিলিয়ান্ট। যদিও মেডিকেলে চান্স পাইনি তারপরও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ি এটাই বা কম কিসে? আর মনোযোগী ছিলামনা দেখে চান্স পাইনি। তবে কেউ বলতে পারবেনা যে আমার ব্রেন ডাল। এইতো আবারো প্রমাণ পেলাম যে আমি যথেষ্ট ব্রিলিয়ান্ট। মনে পড়ে গেছে কোথায় ধূসর নামটা আগে শুনেছি। যাই গিয়ে বলে আসি। সেদিন অনেক খোঁজাখুঁজির পর ধূসরকে দেখতে পাই। ধূসর সেদিন বারবার এদিক ওদিক তাকিয়ে কি যেন খুঁজছিলো।
আমি তাকে বলেছিলাম,
- এই যে মিস্টার ঝাঁকড়া ভাইয়া চোরের মতন এদিক ওদিক কি দেখছেন?
- কি বললেন ?
- দেখুন আপনার সঙ্গে এখানে ঝগড়া করতে আসিনি।
আমি শুধু বলতে এসেছি ধূসর নামের আমি একটা ছেলেকে চিনি সে আমার আপুর বফ ছিলো। বুঝেছেন এই নামে আরও অনেকেই আছে তেমন আহামরি কোনো নাম না এটা।
যেই সেদিন আমি কথাটা বলে চলে যেতে নেই পিছন থেকে ধূসর আমার হাত ধরে। আমি কিছু বোঝার আগেই সে আমার হাত ধরে আমায় কোথায় যেন নিতে থাকে।
চলবে...




0 Comments: