অনেকে বলেন, ভালোবাসার মাঝে নকি স্বার্থ থাকে। বন্ধুত্বের মাঝে থাকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। তাহলে কি বন্ধুত্বইকরবেন বেশি নাকি ভালোবাসারও ব্যাপার আছে? তবে জীবনে চলার পথে বন্ধুর হাত তো ধরতেই হয় ... আমি তো জানি তাই... আপনি জানেন কি?

কখনোও কি মনে হয়েছে আপনার, ভালোবাসার মানুষটা যদি বন্ধু হতো তাহলে ভালোবাসা আর বন্ধুত্ব উভয়ই এক সাথে থাকতো.. তাই কি? আর যদি তা না হয় আলাদা আলাদা হয় তাহলে একটা ভালো বন্ধুই প্রাধান্য পায় সেটা স্বাভাবিক।

ছেলে-মেয়ের সম্পর্ক বন্ধুত্বেরও হয়, আবার ভালোবাসারও হয়। অবস্থা বুঝে হয় একেক রকম সে সম্পর্ক। অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলোই ভালোবাসার দিকে গড়ায়। তা থেকে শেষ পর্যন্ত পাশাপাশি হেঁটে একটা জীবন পার করে দেওয়া কিন্তু মন্দ হয়না। সম্পর্ক কীভাবে কোন দিকে মোড় নেবে তা তাৎক্ষণিক বলা বড়ই মুশকিল। মানুষের ইচ্ছার ওপরই সবকিছু নির্ভর করে।

তবে একজন ছেলে ও মেয়ের মাঝে শুধু ভালোবাসার সম্পর্ক হয়, এটা ভুল। বরং তার চেয়ে একটা ছেলের সঙ্গে একটা মেয়ের খুব ভালো বন্ধুত্ব হতে পারে। সবাই তো আর বন্ধুত্বকে ভালোবাসায় পরিনয় রূপে রূপায়িত করে না।

বন্ধুত্বর মধ্যে ভালোবাসা অন্তর্নিহিত। ভালো বন্ধু পেলে ভালোবাসা খোজার প্রয়োজন হয় না। আর যদি ভালোবাসা ভিন্ন। তাহলে কেমন হয়... ঠিকাছে একটু পরিস্কার করেই বলি।

আসলে শুরুতেই তো আর কোনো সম্পর্ক নির্ভরশীলতা বা অন্যরকম ভালোবাসার জায়গায় যায় না। একজন ছেলে আর একজন মেয়ে অবশ্যই প্রথমে বন্ধু হয়। যখন সেই সম্পর্ক আর কাছের মানুষটা অনেক বেশি আপনার ভালোলাগা আর পছন্দগুলো বুঝতে পারে, সেটা তো অন্য বন্ধুর চেয়ে একটু আলাদা করেই নজরে আসবে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে এমনটা হবে, তা না। বন্ধুত্ব যদি সীমার মধ্যে থাকে, তবে অবশ্যই সারাজীবন বন্ধু হয়ে থাকা সম্ভব। অনেকেই চায় বন্ধুত্ব বন্ধুত্বের জায়গায় থাকবে, সম্পর্কের জায়গাটা হবে একেবারেই আলাদা।

ইংরেজি সাহিত্যের একজন লেখক ভার্জিনিয়া উলফ বলেছিলেন, ‘কেউ কেউ পুরোহিতের কাছে যায়, কেউ কবিতার কাছে। আমি যাই বন্ধুর কাছে।’

শিক্ষাজীবনের শুরুর দিনগুলোতে অনেকেরই নতুন অভিজ্ঞতার নাম বন্ধুত্ব। পরিবারের চেনা জগতের বাইরে যে এক লাফে অনেক দূর চলে গিয়েছিল সে তো বন্ধুদের হাত ধরেই। বন্ধুত্ব বিষয়টি তুলনা বোধহয় আর কিছুর সঙ্গেই চলে না। খুব প্রিয় বন্ধুটির জন্য যদি অন্যরকম অনুভূতির জন্ম হয় আর তা যদি আপনাকে দ্বিধায় ফেলে দেয়, তাহলে সম্পর্কটা অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে না তো? আসলেই কি বন্ধুত্ব নাকি ভালোবাসা।

এমন দ্বিধায় অনেকেই ভোগেন। এই দ্বিধা দূর করার অবশ্য বেশকিছু সহজ উপায় আছে। কিছু লক্ষণ রয়েছে যা মিলে গেলেই বুঝবেন মেয়েটি শুধুই বন্ধু হিসেবে পছন্দ করে আপনাকে, এর বেশি কিছু নয়।

পছন্দের মানুষের কথা বলে

মেয়েটি যদি তার কাকে পছন্দ হয়েছে, তার আগের প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা নতুন কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানায় তাহলে বুঝে নিন সে আপনাকে শুধুই একজন বন্ধু ভাবে। তাই এই সম্পর্কে আর আগানোর পরিকল্পনা না করাই ভালো।

আপনার জন্য প্রেমিকা খোঁজে

মেয়েটি যদি আপনার জন্য বেশ সিরিয়াস হয়েই প্রেমিকা খোঁজা শুরু করে কিংবা আপনার সঙ্গে বিপরীত লিঙ্গের কাউকে দেখলেও হিংসা করে না তাহলে সে শুধুই আপনাকে বন্ধু ভাবে। তাই আপনার প্রত্যাশা কমিয়ে ফেলার সময় এখনই।

বডি ল্যাংগুয়েজ

মেয়েটি আপনার হাত ধরছে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছে মানেই সে আপনাকে পছন্দ করে এমনটা নয়। মেয়েটি যদি আপনাকে ভালোবেসে থাকে তাহলে বরং আপনার সামনে আসলে সে কিছুটা লাজুক থাকবে এবং আপনাকে স্পর্শ করতে ইতস্তত বোধ করবে। সেই সঙ্গে আপনার দিকে সরাসরি তাকাতেও লজ্জা পাবে যদি সে আপনাকে পছন্দ করে।

দল বেঁধে ঘোরা

আপনি যখনই মেয়েটির সঙ্গে একা সময় কাটাতে চান, তখনই সে তার অন্য বন্ধুদেরকেও ডেকে আনে। যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে বুঝে নিন মেয়েটি আপনাকে শুধুই একজন বন্ধু মনে করে।

আপনার থেকে কোনো প্রত্যাশা নেই

মেয়েটি আপনার থেকে কিছুই প্রত্যাশা করে না। বাসায় নামিয়ে না দিলে রাগ করে না কিংবা জন্মদিনে উপহার না দিলেও তার কোনো রাগ নেই। যদি আপনাদের সম্পর্কটা এমন হয়ে থাকে তাহলে মেয়েটি আপনাকে বন্ধুর চাইতে বেশি কিছু ভাবে না।

দৈনন্দিন জীবনে নানা প্রয়োজনে একসঙ্গে চলার কারণে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। আর এ কারণে সম্পর্কটি শুধুই ।। নাকি অন্যকিছু, তা নিয়ে অনেক সময় মনের মধ্যে এক ধরনের সংশয় তৈরি হয়। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন মনে হতে থাকে যে এটা আর স্বাভাবিক না, তখন? ভালোবাসায় জীবনকে ভরিয়ে দিন। সুখে থাকুন, সুখে রাখুন, সুস্থ্ থাকুন। জীবনটাকে সব মিলিয়ে সাজিয়ে নিন।

0 Comments: