-হাত ছাড়ুন বলছি। এটা কোন ধরনের অসভ্যতা? কি হলো আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? কথা কানে যাচ্ছে না আপনার? আমি কিন্তু চিৎকার করতে বাধ্য হবো।
- সরি সরি এইতো হাত ছেড়ে দিয়েছি চিৎকার করোনা প্লিজ।
- আপনি তো যা তা ধরনের মানুষ। চিনেন না জানেন না আমাকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছেন আবার হঠাৎ আপনি থেকে তুমিও বলা শুরু করে দিয়েছেন দেখছি।
- প্লিজ চলো তোমার সাথে আমার কথা আছে। আর তুমি আমার থেকে বয়সে ছোট তাই তুমি বলেছি। আমি তোমাকে না চিনলেও তোমার কাছে কিন্তু আমি অপরিচিত নই।
- কি বলছেন এসব?
- দেখো আমি স্বাতির বয়ফ্র্যান্ড।
চোখ বড় করে আমি সেদিন বলেছিলাম, বলছেন কি? আপনি তো ডেকোরেশনের লোক, এখানে কার ওটি সাজাতে এসেছেন? ধূসর জবাবে সেদিন বলেছিলো, যার সাথে স্বাতির বিয়ে ঠিক হয়েছে তার। এখন বেশি কথা না বলে বলো স্বাতির সাথে আমাকে দেখা করাতে পারবে কি না?
- ওরে বাবা এটা কীভাবে সম্ভব?এতো লোকের মধ্যে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। আর ফুফি জানতে পারলে আমাকে মেরেই ফেলবে।
- দেখো অসম্ভব বলে পৃথিবীতে কিছুই নেই। আর দেখো
স্বাতির সাথে কথা বলাটা আমার খুব প্রয়োজন।

- দেখুন এটা সম্ম্ভব না।
- অবশ্যই সম্ভব। দেখো অনেক কষ্টে ডেকোরেশনের লোকদের ম্যানেজ করে এখানে এসেছি।
- আচ্ছা আমি স্বাতি আপুর সাথে কথা বলে আপনাকে জানাচ্ছি।
- ঠিক আছে আমি এখানেই অপেক্ষা করছি।

- আপু আমার কথা শুনো।
- হ্যা বল তবে তুই এত হাফাচ্ছিস কেনো?
- আপু ধূসর ভাইয়া এসেছেন তোমার সাথে কথা বলতে চান।
- ও এখানে কীভাবে এসেছে?
- এটা পরে শুনলেও হবে আগে বলো উনাকে আমি কি বলবো?
- ওকে স্টোর রুমে নিয়ে আয় তবে কেউ যেন টের না পায়।
- আচ্ছা কেউ জানতে পারবে না।
- লক্ষী বোন আমার।

- এই যে ভাইয়া চলুন, স্বাতি আপু আপনার জন্য স্টোর রুমে অপেক্ষা করছে।
- স্টোর রুমটা কোন দিকে?
- আপনি আমার সঙ্গে চলুন।

এই ঝুম কোথায় হারিয়ে গেলে শুনতে পাচ্ছো না? সেদিন ধূসরের ডাকে আমার হুশ ফেরে। চেয়ে দেখি চা পরে চুলাাটাই বন্ধ হয়ে গেছে।
- তোমাকে কে বলেছে কাজ করতে?
- না মানে একটু চা করতে চেয়েছিলাম।
- তোমাকে কিছুই করতে হবে না। এলিস আছে তাকে বলবে।
- আমি সারাদিন বসে বসে কি করবো?
- সেটা আমি কি জানি। আর আরেকটা কথা বাড়িটা ফাইনাল করে এসেছি একমাসের মধ্যে আমরা নতুন
বাড়িতে শিফট হবো। আমি এখন যাই।
- আপনি খেয়েছেন?
- হুম খেয়েছি।
কথাটা বলেই ধূসর চলে যেতে নেয় কিন্তু কি যেন ভেবে দরজা থেকে আবার ফিরে আসে।
- কিছু বলবেন?
হুম বলেই ধূসর আমার দিকে কিছুটা ঝুঁকে আমার খোপাটা খুলে দেয় আর পাশে থাকা ছুড়িটা নিয়ে আমার চুলে বুলাতে শুরু করে আর বলে,
আমার চুল নিয়ে কিছু বলার আগে একশত বার ভাববে।
নয়তো তোমার কোমর সমান মাদকতা ছড়ানো কালো চুলগুলো আর থাকবে না। এভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে থাকার
কোনো মানে হয় না, আমি তোমাকে খেয়ে ফেলিনি এখনই সরে যাচ্ছি বলে ধূসর চলে যায় আর আমি বড় করে এতক্ষণের রুদ্ধ নিঃশ্বাসটা ফেলি আর পাশে থাকা চেয়ারটা টেনে বসে যাই।
চলবে...

0 Comments: