খাজা বাবার আবুল হাসান নামের এক আশেক ছিল ,
সে খাজা বাবা জীবিত থাকতে তার কাছে মুরিদ হতে চেয়েছিল , কিন্তু খাজা সঠিক সময়ে তাকে মুরিদ করবেন
বলে ওয়াদা দিলে আশেক সেই আশায় বুক বেঁধে রইল ।
কিন্তু ইতিমধ্যেই খাজা বাবার ইন্তেকাল হয়ে যায় , ফলে সেই লোকের আর মুরিদ হওয়ার সৌভাগ্য হয় নাই ।
মুরিদ না হওয়ার দুঃখে লোকটি আল্লাহ দরবারে কান্না কাঁটি জুড়ে দিলেন আর বলল :- হে আল্লাহপাক তোমার অলি-
আওলিয়ারা মরে না , মরতে পারে না , আমাকে খাজা বাবা ওয়াদা করেছিলেন যে তার মুরিদ করবেন কিন্তু কোথায় সেই ওয়াদা ?
তোমার অলি-আওলিয়ারা যদি সত্যি জীবিত থেকে থাকেন
তাহলে আজকে হয় আমাকে খাজা বাবার মুরিদ হাওয়ার সৌভাগ্য দিবা , আর নইলে আমি খাজা নামে আত্মহত্যা করবো , আর আমি যদি মুরিদ না হয়ে মারা যাই তাহলে তোমার ইয়া কাদিরুন নামের কলঙ্খ হয়ে যাবে ।
লোকটির সত্য মোহাব্বত দেখে মহানবী (সঃ) তাকে সপ্নে বললেন "হে আবুল হাসান, অলি-আওলিয়ারা যে মরে না,
তার প্রতি তোমার ইমান দেখে আমি নবী খুব সন্তুষ্ট , তুমি কালকে সকালেই খাজার মাজারে যেয়ে তোমাকে মুরিদ করার বাসনা জানাও ।
আমি কথা দিচ্ছি খাজা মুরিদ করে নিবে " এই সপ্ন দেখে লোকটি খুশি হয়ে আজমির শরিফে গিয়া ইয়া খাজা জিন্দা পীর বলে ডাক দেয়ার সাথে সাথেই খাজা বাবা মাজার শরিফ হইতে বাহির হইয়া তাকে জড়ায় ধরে সশরীরে হাতে হাত রেখে তার মুরিদ তথা ভক্ত বানিয়ে নিলেন ।
শুধু তাই নয় তার মুখ খাঁ করতে বলে খাজা বাবা রুহানি ফায়েজ এ ভরপুর তার মুখে একটা মিশরির দানা ছুড়ে মারলেন , ফলে সাথে সাথে লোকটা কলব খুলে গেল তখন
সে আল্লাহর আরশ কুর্সি লৌহ কলম দেখার যোগ্যতাও লাভ করল । এ থেকে আরেক বার প্রমানিত হল আল্লাহর
অলিরা মরে না । তারা রুহানিতে সদাই জীবিত ।
আমরা সবাই কমবেশি মোগল সম্রাট বাদশাহ আওরঙ্গজেব
আলমগীরের কথা জানি । তিনি ছিলেন ইলমে শরিয়তের
বিশেষজ্ঞ একজন প্রখ্যাত আলেম । অপরদিকে মোগল সম্রাট্ ।
বাদশাহ আলমগীরের''ফতোয়ায়ে আলমগীর'' বিশ্ব নন্দিত
ফিকাহের কিতাব তা এদেশের অধিকাংশ আলেম সমাজই জানেন আশা করি ।
এই বাদশাহ আলমগীর প্রথম দিকে চিশতীয়া তরিক খাজা বাবার দরবারের অনেক কাজ শরিয়ত বিরুধী মনে করতো ।
এর বিরুদ্ধে অনেক কথাও বলতেন । একদিন বাদশাহ আলমগীর খাজা গরীবে নেওয়াজের আজমীরে আগমন করেন । বাদশাহ তার উজির-কর্মচারীদের মাঝে ঘোষণা করলেন আমি আজমীরে খাজা বাবার মাজারে গিয়ে সালাম
দিবো যদি তার সালামের জবাব না আসে তাহলে খাজা বাবার মাজার সহো পাশ্ববর্তী সমুদয় এলাকা মাটির সাথে মিশে দেবেন ।
অর্থাত তিনি মাজার শরীফ ভেঙ্গে ফেলবেন । অত:পর বাদশাহ আলমগীর তার রাজ কর্মচারীদের নিয়ে খাজা বাবার মাজার শরীফে গিয়ে অভ্যন্ত করে উচ্চ স্বরে সালাম
প্রদান করেন । সঙ্গে সঙ্গে খাজা বাবা খাজার শরীফ হতে সালামের জবাব আসে'' ওয়া আলাইকুম আস সালাম
ইয়া হুজ্জতে আলমগীর ।
কারো কারো মতে তিন দিন পরে তার সালামের জবাব আসে । সালামের জবাব পেয়ে বাদশাহ আলমগীর তার ভুল
বুঝতে পারেন এবং খুবই অনুতপ্ত ও লজ্জিত হন । ফলে খাজা বাবার বুর্জুগীর ব্যাপারে তার আর কোন সন্দেহ রইলো না ।
পরবর্তীকালে বাদশাহ আলমগীর ও তার বংশের সকলেই
খাজা বাবার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন । পরবর্তীকালে মোগল সম্রাটের সকলেই চিশতীয়া তরিকার প্রচার ও
প্রসারে যথেষ্ট সাহায্য করেন ।




0 Comments: