ভক্তি লাভের চৌষট্রি উপায় বা অঙ্গ
ভক্তের ভক্তি লাভের চৌষট্রি বা উপায় অঙ্গ রয়েছে। এই চৌষট্রি উপায়ের মাধ্যমেই প্রত্যেক ভক্তের ভক্তি লাভ হয়ে থাকে। যাদের হৃদয়ে লেশ মাত্র ভক্তির ছোঁয়া নেই, তাঁরা এই চৌষট্রি উপায়ের যেকোন একটি অবলম্বন করে ভক্তি অধিকারী হতে পারেন। ভগবান ভক্তের কাছে ভক্তির দ্বারা বাঁধা পড়ে যায়। সুতারাং ভক্তিই ভক্তের শেষ সম্বল।
ভক্তের ভক্তি লাভের চৌষট্রি উপায় বা অঙ্গ হলঃ
১) শ্রীগুরুর পাদপদ্মে আশ্রয় গ্রহণ, ২) শ্রীগুরুদেবের নিকট কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ ও শ্রীভগবানদ্বিষয়ে শিক্ষালাভ করা, ৩) শ্রীগুরুদেবকে ভগবৎ স্বরূপ বিশ্বাস সহকারে সেবা করা, ৪)
সাধুদিগের আচরিত শ্রুত্বাদি বিহিত বিধিসমূহের প্রতিপালন, ৫)
সৎধর্ম জিজ্ঞাসা অর্থাৎ ভগবৎধর্ম তত্ত্ব অবগত হইবার জন্য তদ্বিষয়ে ভজন রীতি সম্বন্ধে প্রশ্ন করা, ৬)
শ্রীকৃষ্ণের প্রীতির নিমিত্ত ভোগাদি ত্যাগ করা, ৭) দ্বারকাদির ধামে বা গঙ্গাদির সমীপে বাস করা, ৮) নিয়মের নূন্যতা বা আধিক্য হইলে পরমার্থ হইতে ভ্রষ্ট হইতে হয়, সে কারণে সর্বপ্রকার কার্যে যে পরিমাণ নিয়মের অনুষ্ঠান করিলে আপনার ভক্তি নির্বাহ হইতে পারে, সেইরূপে নিয়ম স্বীকার করা, ৯)
হরিবাসর-সম্মান অর্থাৎ একাদশীতে উপবাসাদি করা, ১০)
আমলকী, অশ্বত্থ, তুলসী, গো, ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণবের গৌরব রক্ষা করা, ১১)
ভগবদ্বহির্ন্মুখ জনের সঙ্গ দূরে পরিত্যাগ করা, ১২) অনধিকারী ব্যক্তিকে শিষ্যরূপে অঙ্গীকার না করা, ১৩) আড়ম্বরপূর্ণ ভগবদ্বহিন্মুখ কার্যানুষ্ঠানের চেষ্টা না করা,
১৪) ভগবদ্বহির্ন্মুখ বহুবিধ গ্রন্থ ও চতুঃষষ্ঠী কলার অভ্যাস বা ব্যাখ্যা এবং তদ্বিষয়ে তর্কবর্জন করা, ১৫) ভোজনাচ্ছাদনে সাধন বিষয়ে লাভ না হইলে বা ক্ষতি হইলে শোক না করিয়া শ্রীহরির স্মরণ করা, ১৬) শোক, মোহ, ক্রোধাদির বশীভূত না হওয়া, ১৭)
অন্য মাত্রকে উদ্বেগ না দেওয়া,
১৮) সেবাপরাধ ও নামাপরাধ জন্মিতে না দেওয়া, ১৯) কৃষ্ণ ও কৃষ্ণভক্তের দ্বেষনিন্দাদি সহ্য না করা, ২০) তিলক মালা প্রভৃতি বৈষ্ণব চিহ্ন ধারণ, ২১) শরীরে হরিনামাক্ষর লিখন, ২২) নির্মাল্য ধারণ, ২৩) শ্রীভগবানের অগ্র নৃত্য করা, ২৪) শ্রীভগবানে দণ্ডবৎ প্রণাম করা, ২৫) শ্রীমূর্তির পশ্চাৎ গমন, ২৬)
শ্রীমূর্তির পাশ্বে বা অগ্রে গমন করা, ২৭) শ্রীভগবৎ স্থানে গমন বা তৎসম্বন্ধীয় চিন্তা, ২৮)
শাস্ত্রনিন্দা না করা, ২৯)
শ্রীভগবানের জন্য তুলস্যাদির পরিক্রমা করা, ৩০) শ্রীভগবানের অর্চনা পূজা করা, ৩১) শ্রীভগবানের সেবা করা, ৩২) শ্রীভগবৎলীলাদি বিষয়ক গান করা, ৩৩)
শ্রীভগবানগুণাদির সংকীর্তন, ৩৪)
শ্রীবগবান্ মন্ত্র জপ, ৩৫) শ্রীভগবৎ সমীপে আত্মবিষয়ে নিবেদন, ৩৬)
শ্রীভগবানের স্তব পাঠ, ৩৭)
নৈবেদ্যের আস্বাদ প্রহন অর্থাৎ প্রসাদ ভোজন, ৩৮) শ্রীচরণামৃত পান,
৩৯) পুষ্পমালাদির সৌরভ-গ্রহণ, ৪০)
শ্রীমূর্তি স্পর্শন, ৪১) শ্রীমূর্তি দর্শন, ৪২) আরতি ও উৎসবাদি দর্শন,
৪৩) শ্রীভগবন্নামগুণাদি-কীর্তন ও তদীয় লীলা কথাদি শ্রবণ, ৪৪)
শ্রীকৃষ্ণের কৃপার প্রতি নিরীক্ষণ করিয়া থাকা, ৪৫) শ্রীকৃষ্ণের স্মরণ,
৪৬) শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান, ৪৭)
শ্রীভগবানের দাস্য অর্থাৎ তাঁহাকে কর্মার্পণ ও সর্বতোভাবে তাঁর দাসত্ব করা, ৪৮) শ্রীভগবানে বিশ্বাস ও মিত্রতা স্থাপন, ৪৯)
শ্রীভগবানে আত্মসমর্পণ, ৫০)
শ্রীভগবানকে অত্যুৎকৃষ্ট ও নিজ প্রিয় বস্তুসমূহ নিবেদন করা, ৫১)
শ্রীকৃষ্ণের নিমিত্তই সমস্ত চেষ্টা বা কার্য করা, ৫২) সর্বতোভাবে শ্রীভগবানের শরণাগত হওয়া, ৫৩)
তুলসী সেবন, ৫৪) শ্রীমদ্ভাগবতাদি বৈষ্ণব শাস্ত্রের সেবন, ৫৫) মথুরার সেবন, ৪৬) বৈষ্ণবাদির সেবন, ৫৭)
স্বীয় বৈভবানুসারে সজ্জ্বনগণের সহিত মহোৎসব করা, ৫৮) কার্তিক মাসের বিশেষরূপ সমাদর করা, ৫৯)
জন্মাষ্টমী প্রভৃতি পর্বদিনে যাত্রা মহোৎসব করা, ৬০) শ্রদ্ধা ও প্রীতিপূর্বক শ্রীমূর্তি সেবন, ৬১)
রসিক ভক্তের সহিত শ্রীমদ্ভাগবতের অর্থ ও রস আস্বাদন, ৬২) নিজের, সদৃশ বাসনা বিশিষ্ট ও নিজ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, স্নিগ্ধ প্রভৃতি সঙ্গ করা, ৬৩)
শ্রীভগবানের নাম সংকীর্তন এবং
৬৪) মথুরামন্ডলে বাস করা।


0 Comments: