ইসলামের প্রথম যুগে বঙ্গের রাজধানী বিক্রমপুরে বেশ কয়েকজন সূফি দরবেশ ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আগমন করেন। মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানার অন্তর্গত বড় কেওয়ার গ্রামে একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে। তা থেকে প্রমাণ মিলে, প্রাচীন বিক্রমপুর তথা বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে একটি কাফেলার আগমন ঘটে। ১৯৭৪  সালে কেওয়ার গ্রামের তেঁতুলতলা নামক মাজারের সংস্কার কাজ চলছিল। তখন ভগ্ন একটি মাজার হতে এক খণ্ড পাথরের আরবি ও ফার্সি ভাষায় লিখিত ১২ সূফী দরবেশ বা ইসলাম ধর্ম প্রচারকের নাম পাওয়া যায়। সেটি কলেমা তায়্যিবা খচিত ও ৪২১ হিজরি শিলালিপিতে স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১২ জন অলি বা দরবেশের নাম পাথরটিতে উল্লেখ রয়েছে। তত্কালীন শ্রীনাথ গুপ্তের রাজত্ব কালে এই অলিরা এখানে এসে ইসলাম প্রচার করেন। অর্থাত্ মুন্সীগঞ্জের কেওয়ার তেঁতুলতলা গ্রামে এসে তাঁরা বসতি স্থাপন করেন।মাজারের শিলালিপিতে আরো উল্লেখ রয়েছে যে, আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইসলাম প্রচারে মুন্সীগঞ্জের কেওয়ার গ্রামে এসে তারা বসতি স্থাপন করেন। মাজারের শিলালিপি অনুসারে ১২ জন অলির নাম হলো: শাহ সুলতান হোসাইনী মাদানী (রহ), সুলতান সাব্বির হোসাইন (রহ), কবীর হাশিমি (রহ), আল হাসান (রহ), শেখ হোসাইন (রহ), আবুল হাশেম হোসাইনী (রহ), হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক (রহ), হযরত ইয়াছিন (রহ), ওবায়েদ ইবনে মুসলিম আসাদী (রহ), আব্দুল হালিম (রহ), শাহদাত্ হোসাইনী (রহ) এবং আবুল কাহার আল বাগদাদী (রহ)।এসব অলি-আউলিয়া মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে সরস্বতী, কেওয়ার, মহাকালী, বজ্রযোগিনী, চাম্পাতলা, রাজাবাড়ী, শ্রীপুর, কার্তিকপুরে ইসলাম প্রচার করেন। কেওয়ার এলাকার পানির অভাব দূরীকরণে দীঘি খনন করেন। সেই দীঘি এখনো বিদ্যমান। ১৯৭৪ সাল থেকে কেওয়ারে তেঁতুলতলা মাজার বার আউলিয়ার মাজার হিসেবে মুন্সীগঞ্জ জেলায় পরিচিতি লাভ করে।lলেখক :সাংবাদিক ও গবেষক 


0 Comments: