ছোট থেকেই দেখে আসছি মানুষ মসজিদকে খুব নিরাপদ মনে করে।

ছোট থেকেই দেখে আসছি মানুষ মসজিদকে খুব নিরাপদ মনে করে।


ছোট থেকেই দেখে আসছি মানুষ মসজিদকে খুব নিরাপদ মনে করে। বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় লোকজনকে মসজিদে আশ্রয় নিতে দেখেছি। গ্রামের মসজিদ থেকে ঝড় শান্ত করার জন্য আযান দেয়া হতো। মসজিদের নিকটবর্তী যারা, তারা দৌড়ে মসজিদে চলে আসতেন। বজ্রপাতের বা ভূমিকম্পের সময়ও একই অবস্থা দেখেছি। নিরাপদ মনে করার কারণ মূলত কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা, যেখানে আল্লাহ বলছেন আমি মসজিদের হেফাজত কারী। যে জিনিসের হেফাজতের দায়িত্ব মহাবিশ্বের সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা নিজেই নিয়েছেন সেই বস্তু ধ্বংস হওয়া বা বিনষ্ট হওয়া কিংবা তার মধ্যে থেকে কারো বিপদের সম্মুখীন হওয়ার চিন্তা কারো করার কথা নয়। শুনেছি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত মসজিদ ধ্বংস হবে না, সারা বিশ্ব ধ্বংস হয়ে গেলেও মসজিদগুলি অবিকৃত অবস্থায় থাকবে। মুসলিমরা যে মসজিদ ধ্বংস হবে না বলে বিশ্বাস করেন তার একটি প্রমাণও আমি দেখাতে পারি। দেখবেন মাঝেমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ছবি দেখা যায়, দেখা যাচ্ছে নদী ভাঙনে পুরো গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে কিন্তু সেখানে একটি মসজিদ ঠিকই দাঁড়িয়ে রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের ছবি গুলোতে কারুকার্য করা হয়েছে বলে মনে হয়, কিন্তু কে এই সমস্ত কিছু দেখছে! হাজার হাজার লাইক কমেন্ট শেয়ারের বৃষ্টি যেন শুরু হয়। প্রত্যেকে সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ লিখে কমেন্ট করছেন। সত্যিই এ বিশ্বাস তাদের রয়েছে কিংবা জোর করে হলেও চোখ বন্ধ রেখে এই বিশ্বাস তারা করতে চায়। কারণ তাদের ধর্ম গ্রন্থের সাথে এই ভাষ্যের মিল তারা খুঁজে পায়। যত মিল খুঁজে পায় ততো ধর্মের প্রতি তাদের বিশ্বাস বাড়ে, আবার যখন মিল খুঁজে আওয়া যায় না, কেউ চোখে আঙ্গুল দিয়ে তাদের দেখিয়ে দেয় এর অকার্যকারিতা। তখন তারা তার উপরে খেপে যায়, কেননা তাতে তাদের কাল্পনিক বেহেশতে যাওয়ার পথে অন্তরায় তৈরি করে। কিন্তু চোখ খুললেই বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায় ভিন্ন। প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনে নদী গর্ভে মসজিদ ভেঙ্গে বিলীন হয়ে যাচ্ছে টিভির খবরে এর দৃশ্য হরহামেশা দেখা যায়। আল্লাহ নিজেই কাবা শরীফের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ ভাবে ওয়াদা করেছেন, মুসলমানরা এখনো ভাবে কাবা শরীফ কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। বাইতুল হারাম অর্থাৎ যেখানে রক্তপাত হবে না বা করা যাবে না সেখানেই তো ক্রেন পড়ে হাজার খানেক মানুষ পিষ্ট হয়ে মারা গেল। হজের সময় প্রতি বছরেই অনেক মানুষ পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে কিংবা অন্য মানুষদের ঠেলা গুতা খেয়ে মারা যায় তার হিসাব সঠিকভাবে কেউ কোথায় রাখে বলে মনে হয়না,কেননা সেখানে যেয়ে মরলে বেহেশ্ত পাওয়া যাবে বলে মুসলমানদের বিশ্বাস। ইরাক যুদ্ধের সময় হাসান হোসেনের স্মৃতিবিজড়িত মুসলমানদের কাছে অতি পবিত্র কারবালার মসজিদের এক অংশ বোমার আঘাতে ধংস হয়ে গেল, কই সেখানে তো হাত দিয়ে ফেরেশতা মিসাইল ঠেকিয়ে দেয়নি। অথবা মক্কা শরীফে উপর থেকে ক্রেন যখন নিচে পড়ছিল সেখানেও তো একজন ফেরেশতা এসে ক্রেনটি ধরে আরব সাগরে ছুড়ে ফেলল না। এই কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডে নিশ্চিন্তে নামাজ রত মুসল্লিদের উপর গুলি চালানো হলো। সেখানে হতাহত হল বহু মানুষ। গতকাল ঝড়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের বর্ধিত প্যান্ডেলের মধ্যে নামাজ পড়া অবস্থায় এক মুসল্লী নিহত হলেন, সেখানে আরও অনেকে হয়েছেন আহত। ওই একই দিনে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভোজগাতি গ্রামে তারাবির নামাজের সময় দান বাক্সের মাত্র পাঁচ টাকা কে কেন্দ্র করে ওই মসজিদের মধ্যে মারামারি করে বাদল সদ্দার নামে এক ব্যক্তি নিহত হলেন। এবং আরো অনেকে হয়েছেন আহত। দেখুন যে কোন মৃত্যুই দুঃখজনক, আর যদি অপমৃত্যু হয় তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। এই সমস্ত মৃত্যু হয়েছে সেই কারণে আমি উল্লাসিত হয়েছি আর সেই জন্যেই আমি এই নিবন্ধ লিখছি, ঘটনা মোটেও সেরকম নয় বরং যারা মসজিদ বা ধর্মালয়ের অমরত্ব বিষয়ে মিথ্যা ধারণা পোষণ করেন, ভাবেন প্রকৃতি ঈশ্বরের নিয়ম মেনে চলে আর ধর্মালয় কখনোই ধ্বংস হওয়ার নয়, তাদের চেতনাকে জাগ্রত করতে চাওয়ায় আমার এই নিবন্ধ লেখার কারণ। চোখ বন্ধ করে এডিটিং ছবিগুলোতে লাইক শেয়ার এর বন্যা বইয়ে মনকে তৃপ্ত করা যায়, কিন্তু চোখ খোলার পর দিনের পরিষ্কার আলোতে এগুলোকে ব্যাখ্যা করবেন কি করে? বলবেন আল্লাহ কথা রাখেনি, নাকি আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলবেন? নাকি বলবেন প্রকৃতিক ঘটনা প্রকৃতির নিয়মেই হয়, গ্রামে আগুন লাগলে দেবালয় রক্ষা পায় না। তাহলে কি মেনে নিবেন মানুষ দ্বারা সৃষ্ট কাবা শরীফ প্রকৃতিক কিংবা যে কোনো দুর্ঘটনা জনিত কারণে ধ্বংস হতে পারে?


0 Comments: