হযরত খাজা শেখ ফরিদ (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরলাম ।।

হযরত খাজা শেখ ফরিদ (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরলাম ।।


হযরত খাজা শেখ ফরিদ (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরলাম ।।





কুতুবুল আকতাব হযরত খাজা শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি , ওনার পিতাঃ- কাজি জালাল উদ্দিন রহমতুল্লাহ আলাইহি, ওনার মাতাঃ- মহা তাপসি সবুরা খাতুন রহমতুল্লাহ আলাইহি ।





কঠোর সাধনাঃ-
তিনি চিশতিয়া তরিকার আওলিয়া ছিলেন।তিনি আধ্যাত্মিকতা অর্জনের উদ্দেশ্যে স্বীয় মায়ের আদেশে ১২ বছর আল্লাহর ধ্যানে কাটিয়ে দেন। এ সময়ে তার ক্ষুধা লাগলে তিনি গাছের লতা-পাতা ও ফল মূল খেয়ে নিতেন। ১২ বছর কঠোর সাধনা করার পর যখন তাহার মার কাছে আসেন তখন তাহার মা তাকে বনের গাছ গাছালিকে তাহার আহারের জন্য কষ্ট দিয়ে সাধনা করায় তা সিদ্ধি হয়নি বলে তাকে আবার ১২ বছরের সাধনা করতে জঙ্গলে পাঠান। এবার শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি তাহার খাবারের জন্য একটা কাঠের তৈরি রুটি নিয়ে সাধনা করতে লাগলেন। যখন তাহার ক্ষুধা লাগত তখন মনকে এই বলে সান্ত্বনা দিতেন যে হে মন আজকে না কালকে রুটি টা খাবো।এইভাবে মনকে সান্তনা দিতে দিতে তাহার আরও ১২ বছর আল্লাহর ধ্যানে অতিবাহিত হয়ে যায়। এরপর তাহার মায়ের কাছে আসলে তাহার মা তাকে এই বলে তাড়িয়ে দেন যে, যে নিজের আত্মার সাথে খাবারের কথা বলে ধোঁকা বাজি করে,তাহার সাধনা কখনই সিদ্ধি হয় নাই।





পরবর্তীতে শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি একটা কুয়ার ভিতর দড়ি বেধে উপরে পা দিয়ে উল্টা হয়ে কোন প্রকার খানা-পিনা ছাড়াই অনবরত ১২ বছর আল্লাহর জিকির করেন। আল্লাহপাক শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহির আল্লাহর প্রতি প্রেমের পরীক্ষা করার জন্য জিব্রাইল (আ) কে ক্ষুধার্ত কাক রূপে প্রেরন করেন। সেই কাক শেখ ফরিদের কাছে নিজের ক্ষুধা মিটাতে শেখ ফরিদে রহমতুল্লাহ আলাইহির চোখ খেতে চাইলে শেখ বিনা দ্বিধায় তার দুটি চোখ উপরে কাককে দিলে আল্লাহপাকের আরশ সঙ্গে সঙ্গে কেপে উঠে। তখন আল্লাহ পাক খুশি হয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছর সাধনার ফসল হিসেবে শেখ ফরিদকে বেলায়তে কোবরা দান করেন এবং তার দুইটি চোখ ফিরিয়ে দেন।





এরপর শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি তাহার মায়ের নির্দেশে আরও আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনের জন্য কামেল মুর্শিদের তালাশে প্রেরণ করলে শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি কাগজের নৌকায় চরে আল্লাহর কুদরতে সমুদ্রের পারে বিখ্যাত আউলিয়া বুওয়ালি শাহ কলন্দর রহমতুল্লাহ আলাইহির দরবারে গেলে কলন্দর রহমতুল্লাহ আলাইহি শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহির আধ্যাত্মিকতা ক্ষমতা তার থেকে বেশি বলে শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি কে নিজের মুরিদ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তৎকালীন আওলিয়া কুলের শিরোমনি খাজা কুতুবুদ্দিন বখতিয়ার কাকি রহমতুল্লাহ আলাইহির কাছে পাঠান।





খাজা কুতুবুদ্দিন বখতিয়ার রহমতুল্লাহ আলাইহি তাকে এই শর্তে মুরিদ করেন যে প্রতি তাহাজুদ্দ নামাজের সময় সঠিক সময় অজুর জন্য টানা ৭ বছর পানি গরম করে দিতে হবে। তবেই আমি তোমাকে আমার মুরিদ করবো। তিনি আরও বলেন যদি এই সময়ে একদিন ও তোমার পানি দিতে দেরি হয় তাহলে তুমি আমার থেকে কিছুই পাবে না।শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি টানা ৭ বছর ঠিক সময়ে পানি দেয়ার পর যখন ৭ বছর হইতে ১ দিন বাকি ছিল সেদিন হঠাৎ তাহার পানি গরম করার পাত্র ভেঙ্গে যায়। এতে শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি কে আবার ও ৭ বছর পানি দেয়ার গুলামি করতে হয়। এবার ৭ বছর শেষ হওয়ার মাত্র ১ দিন আগে আল্লাহ পাক শেখ ফরিদকে পরীক্ষা করার জন্য উক্ত এলাকার সকল আগুন নিভিয়ে দেন। পানি গরম করার আগুন না পেয়ে শেখ ফরিদ দিশে হারা হয়ে ছুটা-ছুটি করে হঠাৎ দেখতে পান যে এক নর্তকীর ঘরে আগুন জ্বলছে। কোন উপায় না দেখে সেখানে গিয়ে আগুন চাইলে নর্তকী শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহির সুন্দর চোখ দেখে মুগ্ধ হয়ে আগুন দেয়ার শর্তে উক্ত চোখের একটি চাইলে শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি উপায় না পেয়ে তার চোখ উপরে উক্ত মহিলাকে দিয়ে আগুন নিয়ে আসেন এবং যথা জথ সময়ে পানি গরম করে খাজা কুতুবুদ্দিন বখতিয়ার রহমতুল্লাহ আলাইহি কে দিলে কুতুব উদ্দীন বখতিয়ার কাকি রহমতুল্লাহ আলাইহি শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি এর গুরু ভক্তিতে অবাক হয়ে সাথে সাথে তাহার চোখ পুনরায় ফিরিয়ে দেন এবং শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি কে নিজের খেলাফত দান করে উচ্চ স্তরের আওলিয়াতে পরিনত করেন।





শেখ ফরিদের কারামতঃ-
১। এক পলকেই আওলিয়াঃ- শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি এমন উঁচু মাপের আওলিয়া ছিলেন যে মুরিদের প্রতি এক দৃষ্টি দিয়ে তাকে আওলিয়া বানিয়ে দিতে পারতেন।
২।ঝড়ের বেগে দুয়া কবুলঃ- শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি কোন বিষয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে আল্লাহপাক পাক তা সাথে সাথে কবুল করে নিতেন।
৩। ৪২ জন কুতুবুল আকতাবের সর্দারঃ- শেখ ফরিদ রহমতুল্লাহ আলাইহির সিলসিলা থেকে পরবর্তীতে চিশতিয়া তরিকার সর্বাধিক আওলিয়া তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ৪২ জনই ছিল কুতুবুল আকতাব।





আল্লাহর অলিদের কারামত বলে শেষ করা সম্ভব নয়। আমি এখানে সংক্ষেপে শুধু মাত্র ১% শেয়ার করার চেষ্টা করেছি মাত্র। বাকি টা নিজ নিজ মুর্শিদ কেবলা হইতে জানিয়া লইবেন আশা করি।





শেখ ফরিদ (রহ.) একটা কারামত :
তিনি একজন সাধুফকির। তিনি বহু অলৌকিক কাজ করতে পারতেন।





একদিন তিনি পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় এক গাড়োয়ানের সঙ্গে দেখা হলো তাঁর। গাড়ীখানি চিনি বোঝাই ছিল। গাড়োয়ানকে শেখ ফরিদ বলল : তোমার গাড়িতে কী আছে?





গাড়োয়ানটা ছিল বদ স্বভাবের। দিনটাও উত্তপ্ত আর বলদ জোড়াও হাঁটছিল না তেমন। সে গাড়ী চালাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। সুতরাং সে বাঁকা করে জবাব দিল : ছাই।
: ভালো - শেখ ফরিদ বললেন - ছাই-ই হোক।





গাড়োয়ান বাজারে এসে সওদাগরের ঘরে বস্তা নামিয়ে দিল। সওদাগর একখানা বস্তা খুলল চিনি দেখতে। কিন্তু আশ্চর্য! বস্তায় আদৌ চিনি নেই - কেবল ছাই আর ছাই। সকল বস্তাই খোলা হলো এবং প্রত্যেক বস্তায়ই ছাই ছাড়া আর কিছুই দেখা গেল না।





: তুমি একজন শঠ - সওদাগর রেগে বলল - তোমার বস্তা নিয়ে যাও। আমি তোমাকে চিনির জন্য টাকা দিয়েছি আর তুমি নিয়ে এসেছ কি না ছাই - ফাঁকি দেওয়ার আর জায়গা পেলে না। আমাকে চিনি দিয়ে দাও, নইলে আমি তোমাকে জেলে পুরব।





গাড়োয়ান সেই রাস্তা দিয়েই ফিরে চলল এবং সেই শেখ ফরিদের সঙ্গে পুনরায় তার দেখা হয়ে গেল। সে তার পায়ে পড়ে কেঁদে বলল : হুজুর, আমি গরিব মানুষ। আমার সব চিনি ছাই হয়ে গেছে। রাগের মাথায় আমি আপনাকে মিথ্যা বলেছি, আমাকে মাফ করুন।





: ভালো - শেখ ফরিদ বলল - গাড়িতে ফিরে যাও। বস্তাতে চিনি ঠিক দেখতে পাবে। আর ভবিষ্যতে কখনও মিথ্যা বলো না, বুঝেছ?





গাড়োয়ান গাড়ীতে ফিরে গেল। সে বস্তা খুলে দেখল, প্রত্যেক বস্তায় তেমনি চিনি ভরা রয়েছে। খুশী হয়ে সে বাজারে ফিরে গেল এবং সবাইকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল।





গাড়োয়ানের বন্ধু জনৈক গ্রামবাসী ভাবল : আমিও ফকির হব। এমনি কাজ করে আমি শীগ্গীরই ধনী হয়ে উঠব। শেখ ফরিদের কাছে গিয়ে শিখে আসব কেমন করে ফকির হওয়া যায়।





অতএব সে শেখ ফরিদের কাছে গেল। কিছুক্ষণ পর শেখ ফরিদকে সে রাস্তা দিয়ে আসতে দেখল। সে দৌড়ে গিয়ে তাঁর পায়ের ওপর পড়ে বলল : হুজুর, আমাকে ফকির হতে শিক্ষা দিন।
শেখ ফরিদ জবাব দিলেন : আমাকে অনুসরণ কর।





শেখ ফরিদ জানতেন, এই লোকটি প্রকৃতপক্ষে কী চায়। তিনি স্তূপীকৃত ইঁটের পাশ দিয়ে যেতে যেতে বললেন : এই ইঁটগুলো সোনা হয়ে যাক। তৎক্ষণাৎ ইঁটগুলি সোনা হয়ে গেল। শেখ ফরিদ এগিয়ে চললেন। লোকটি অতি সন্তর্পণে দু’খানা ইঁট তুলে নিল এবং দু’খানা দু’বগলে রেখে দিল।
সহসা শেখ ফরিদ ঘুরে দাঁড়ালেন। লোকটিকে বললেন : তোমার বাহুর নিচে দু’খানা ইঁট আছে।
লোকটি ইঁটের দিকে তাকাল। ইঁট আর সোনা নেই, পুনরায় ইঁট হয়ে গেছে। লোকটি ইঁট দু’খানা ফেলে দিল। শেখ ফরিদ বললেন : তুমি সামান্য ইঁট চুরি করার লোভ সামলাতে পারলে না আর আমাকে বলছ, ‘আমি ফকির হতে চাই’!





লোকটি লজ্জায় মাথা নত করে রইল। আর একটি কথাও না বলে সে গ্রামে ফিরে গেল।





সংগ্রহে : মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ভুইয়া নক্সবন্দী-মোজাদেদ্দী-ওয়াইসী





[আশেকে হযরত খাজা হাসিমউদ্দিন এনায়েতপুরী (রহ.) ও হযরত খাজা আজিজুল হক শেরপুরী (রহ.) ও নেজবতে হযরত খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রহ.), নেজবতে হযরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী মেহেদীবাদী (রহ.), নেজবতে হযরত জোহরা খাতুন (রহ.), নেজবতে রাসুলে নোমা হযরত ফতেহ আলী ওয়াইসী (রা.) ]


0 Comments: