সৃষ্টি ও স্রষ্টা বলে মূলত আলাদা কিছু হয় না ।

সৃষ্টি ও স্রষ্টা বলে মূলত আলাদা কিছু হয় না ।


সৃষ্টি ও স্রষ্টা বলে মূলত আলাদা কিছু হয় না ।
কারণ স্রষ্টা নিজেই সৃষ্টিতে পরিণত হয় ।





চেতনা হলো চিরস্থায়ী ।
যা কভূ শেষ হয়না ।
এ থেকে উত্পত্তি হয় অনুভব ও ভাবনা ।
এ দুটি থেকে উত্পত্তি হয় হিত ও বিপরীত ।
সাথে সাথে শুরু হয় শান্তনা ও যন্ত্রণা। তার পর শুরু হয় আশা আর এভাবেই বিকাশ হতে থাকে । এই চলন্ত প্রক্রিয়া কেই বলে জীবন ।
আর এই জীবনের মূল উৎস "চেতনা" কে কেন্দ্র করে গতি করছে "অনুভব" । তার পর "ভাবনা "। আবার "ভাবনা" কে কেন্দ্র করে গতি করছে ক্রমে "হিত" , "বিপরীত" ও "আশা" । "হিত " কে কেন্দ্র করে গতি করছে "শান্তনা " । "বিপরীত" কে কেন্দ্র করে গতি করছে "যন্ত্রণা " । এ ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে ।
এবার দেখা যাচ্ছে সৌর জগতের মত আমি নিজেই একটি জগত ।
তাহলে বুজা যাচ্ছে যেহেতু "চেতনা" "পৃথিবী"র গায়ে জড়িয়ে আছে । "চেতনা"র উত্পত্তি " পৃথিবী " থেকে । "পৃথিবীর " উৎপত্তি "সূর্য " থেকে ।
যেমন সৌরজগতের কোনো কিছু যেমন সীমা অতিক্রম করার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে । বিস্ফোরণ বেরে গিয়ে হয় মহা বিস্ফোরণ । কিন্তু শুন্যতা বলে কিছু হয়না ।
তেমনি জীবনে কোনো কিছু সত‍্যের সিমা অতিক্রম করলে ঘটে যন্ত্রনা । যন্ত্রণা বেরে গিয়ে হয় মৃত্যু । কিন্তু শেষ বলে কিছু হয়না ।
গ্যালাক্সি যেমন এক ধরনের আকর্ষণ বলের মাধ্যমে টিকে রয়েছে ।
তেমনি মানব সংসার ভালোবাসার মাধ্যমে টিকে থাকে ।





স্রষ্টা যখন সৃষ্টিতে রূপান্তরিত হয় তখন জীবনের উৎপত্তি ঘটায় ।
সাথে সাথেই জীবন চলার জন্য রেখা(নিয়ম) তৈরী করে ।
এই রেখার এক এক স্থানে এক এক রকম অবস্থা তৈরী করে ।
যেমন পৃথিবীর কক্ষপথের এক এক স্থান অনুযায়ী পৃথিবীর অবস্থা(ঠাণ্ডা ও গরম) এক এক রকম হয় ।
তেমনি জীবন চলার পথে জীবনের অবস্থা (শান্তনা ও যন্ত্রণা) এক এক রকম হয় ।





এই অবস্থাকেই বলা হয় ভাগ্য ।





স্রষ্টা হতে নির্ধারিত রেখায় যে জীবন চলে , সে জীবনের ফলাফল স্রষ্টা হতে নির্ধারিত ভাগ‍্যের ওপর ভিত্তি করেই হয় ।





আর যে জীবন আমিত্ব বা আবেগের দ্বারা তৈরী করা রেখায় চলে তার ভাগ্য‌ও সে নিজেই তৈরি করে । সেই অনুযায়ী তার ফলাফল হয় ।





যে জীবনে স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা হারায় ।
সে জীবন স্রষ্টার তৈরী নিয়ম রেখাও হারায় ‌।





যে জীবনের অবাস্তব ভাবনা নাই , সত্য ভালোবাসা আছে । অর্থাৎ সীমা লঙ্ঘন করেনা সে জীবনের যন্ত্রণা নাই ।
যে ব্যক্তি নিজের মনের গভীরে(নিজের সরল রেখায়) ডুবে থাকে , সে নিজেই নিজেকে চিনে ।
তখন তার কোনো অবাস্তব ভাবনা থাকেনা । সে হয় সত্য ।
সে যখন সত্য হয় তখন তার সব কিছুই সত্য হয় ।
শুধু মুখের কথা কেন ?
বাহিরের বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে যেমন ঝড়ের কবলে পরে গ্রহ , উপগ্রহ ইত্যাদি গতি পথ হারায় ।
তেমনি রিপুর বশবর্তী হয়ে জীবনের ভিতরেও তেমন হয়ে থাকে।
রিপুর ঝড় থেকে বাচতে হলে দম সাধন বা মেডিটেশন করে মনকে ভারী ও শান্ত করতে হবে ।
তবেই প্রকৃত শান্তি হবে ।





স্রষ্টার ভিতর বা বাহির বলে কিছু হয়না । অনন্ত বা অসীমের ভিতর বা বাহির বলে থিউরি বা বাস্তব কোনো টা তেই প্রমাণ করা যায় না ।
। ব‍্যাখ‍্যা বিহীন শক্তি থেকে এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের লীলা খেলা চলতে ছিল , চলতেছে , চলতে থাকবে ।
যে ব্যক্তি বলে স্রষ্টা নেই ।
সে নিজেকেই অস্বীকার করে ।
কারণ জীবন মানেই স্রষ্টার অবস্থান আছে ।
স্রষ্টা দৃশ্যমান হওয়া সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কোন আকার আকৃতি নেই ।
কারণ স্রষ্টা সর্বরূপী ।
তবে যে ব্যক্তি যেখানে স্রষ্টাকে নির্দিষ্ট করবে সেখানেই তার স্রষ্টার রূপ ।
প্রশ্ন বা উত্তর কোনো টায় শেষ হয় না ।
শান্তি তখনি আসে , যখন মন থেকে প্রশ্নের উদয় ক্ষান্ত হয় ।
তুমি নিজেই প্রশ্ন বা উত্তর ।
নিজেকে কোন টা হিসাবে প্রয়োগ করবে সে টা একমাত্র তোমার ইচ্ছা ।





এই হলো আমার জীবনের গভীর ভাবনার মূল সারাংশ ।





কথা-----নুরুল ইসলাম ।





শেয়ার করে জগতের কল্যাণ করুন


0 Comments: