কায়া হীন ছায়া আর নারী হীন সংসার একই।
পুরুষ রাগান্বিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীও যদি সমপরিমান রেগে যায় তবে সেই গৃহে শয়তান প্রবেশ করে মাঝখানে অবস্থান করতে থাকে।
কায়া হীন ছায়া আর নারী হীন সংসার একই। নারীর মাহাত্যই এখানে। একমাত্র নারীই বিধাতার অন্যতম রহস্যময় কীর্তি। একজন পুরুষ হিসেবে বিধাতার এই রহস্যময় নারীকে নিজ ভেবে তার সাথে পথ চলা একটি কঠিনতম কাজ। কারন বিধাতা যেখানে নারীকে তার সৃষ্টির মধ্যে রহস্যময় হিসাবে উপাধি দিয়েছেন। তাই তো জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা তবেকি মানুষ মানবীয় প্রেম থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখবে? নিশ্চই না , কারণ ভালোবাসাই সারাতে পারে সমস্ত রোগ। ভালোবাসার আকাশেই জ্বলে হৃদয়ের শুকতারা। প্রেম জীবনের ধ্রুবতারা। সুতরাং সংসার জীবনে যদি উভযের মধ্যে ভালোবাসার আবয়ে সিধ্বান্ত নিয়ে পথ চলতে চেষ্টা করি তবে শয়তান কখনই দুইয়ের মাঝে স্থান নিতে পারবে না।
আমরা সাধারনত ভালোলাগায় ভালোবাসি এই ধারাই জীবনের কঠিন তম পথ চলতে চেষ্টা করি। যাহা আমাদের ভুল। সোনায় যেমন একটু পানি মিশিয়ে না নিলে গহনা মজবুত হয়না ঠিক সেই রকম ভালোবাসায় একটু শ্রদ্ধা ভক্তি না মিশিয়ে নিলে সে ভালোবাসাও দীর্ঘস্থায়ী হয়না। কঠিনতম পন্থা অবলম্বন করে অর্থাৎ রাগান্বিত হয়ে সমাজ জীবনেই হউক আর সংসার জীবনেই হউক কখনই সফলতা বয়ে আনে না। রাগ মানুষকে ধংস করে। অপরদিকে কোমলতায় ভরা আত্মত্যাগে একজন মানুষকে মহীয়ান করে তোলে। সুতরাং যে মানুষের হৃদয়ে আত্মত্যাগের সুবাতাসে পথ চলতে শিখিয়েছে সে কখনই রাগান্বিত হয়ে সংসারে অসান্তি ডেকে আনে না। এই বোধ টুকু যদি উভয়ের মধ্যে রেখে সংসার ধর্ম পালন করে তবে শয়তান কখনই তাদের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। যে সংসার ধর্মে উভয়েই আত্মত্যাগের মাধ্যমে সচ্চ হৃদয় নিয়ে চলতে পেরেছে তারাই একমাত্র ইহ জগতের মধ্যে অতূলনীয় ঐশ্বর্য্যের অধিকারী হবার গৌরব অর্জন করতে পেরেছে। এজন্যই জ্ঞানীরা বলে থাকেন, একটি সচ্চ হৃদয় হচ্ছে আমার প্রিয় উপাসনালয়। এই প্রিয় উপাসনালয় হতে সৃষ্টি করা যেতে পারে ঐশী প্রেমের মধুরস। যার সৃষ্টিতে ইহজগতে ও পরজগতে লাভবান হওয়া সম্ভব। সংসার জীবনে যদি উভয উভয়কে বুঝতে না পারে তবে উভয়ের মধ্যে বন্ধন কখনই দৃঢ় হবে না। ভালোবাসা রঙিন প্রজাপতির মত উড়ে উড়ে ছন্দ তুলে যায় আবার চলে যাবার সময় রেখে যায় বিষন্নতা। জ্ঞানী ব্যক্তিরা এই বিষন্নতাকে ধুয়ে মুছে সর্বদা পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করেন। ক্ষনিকের জীবনকে গড়ে তুলতে চেষ্টা করে এক মধুময় জীবন। বিবাহ জীবন দুটি হৃদয়কে মিলিয়ে দেয়। আর এই মিলনকে আবিষ্কার করার জন্য সারা জীবনে প্রয়োজন কঠোর সংগ্রাম। যে ব্যক্তি এই কঠোর সংগ্রামে নিজেকে জয়ী করতে পেরেছে সেই প্রকৃতপক্ষে সংসার জীবনে সাফল্যময়ী। বিবাহ জীবন যদি শুধু আনুষ্ঠীনিকতায় বেড়া জালে আবদ্ধ থাকে সেখানেই শয়তান প্রবেশ করতে সুযোগ পায়। তাইতো জ্ঞানী ব্যক্তিরা বলে থাকেন বিবাহ বন্ধনে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে যদি প্রেম সৃষ্টি করে সংসার ধর্ম পালন করা যায় তবেই সংসার হয়ে উঠবে মধুময়। ভালোবাসার মধ্যে শ্রদ্ধা বোধ না থাকলে সে ভালোবাসার স্বায়ীত্ব থাকে না। যারা উভয়ে জীবনে চলার পথে শ্রদ্ধার আবয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠীত করার চেষ্টা করে তাদের জীবন হয়ে ওঠে সুন্দার তম। এই জন্যে বলা হইয়া থাকে যাকে শ্রদ্ধা করা যায় না তাকে ভালোবাসাও যায় না। হৃদয়ের ভালোবাসাই পারে মানুষকে চিরঞ্জীবি করে রাখতে। তবে সত্য কথা বলতে কি কখনই প্রতিদানের আশা না করে শুধু ভালোবেসে নিজেকে ভালোবাসার স্থায়ী আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে জীবন হবে সহজতর।
আমীন ।




0 Comments: