জীবন্ত কবরে আর মৃত কবরের কর্ম ফল।





এতদিন এই আহাদ নামক জীবন্ত দেহটির সেবা করেছি,
আর খান্নাসরূপী শয়তানের বিচিত্র সূক্ষ্ম ধোঁকার ফাঁদে পা দিয়েছি।
আহাদ নামক জীবন্ত দেহটি যে আমি নই তখন সবাই কমবেশি বুঝতে পারে, যখন আমিটা দেহ হতে চিরবিদায় গ্রহণ করে।
এই আহাদ নামক দেহটির কত যত্ন করেছি,
কত কিছু দেহটাকে খেতে দিয়েছি,
কত দামি দামি কাপড় দিয়ে সাজসজ্জা করেছি।
এই আহাদ নামক দেহটাই তো আমার নফ্সের তথা আত্নার জীবন্ত কবর।










তবে কি এতটি দিন কেবল কবরপূজা করে গেলাম মনের অজান্তে, মনের ভুলে! তহোলে কি কবরপূজা হারাম!
মাটির কবরটি তো লাশের কবর,
আর জীবন্ত দেহটি তো আত্নার কবর।





একটি শরিয়তি কবর আর একটি হাকিকি কবর।
দু'টোকেই মানতে হবে।
দু'টোর প্রতিই ইমান রাখতে হবে।
জীবন্ত দেহটি আত্নার জীবন্ত কবর।
যত শাস্তি যত যাতনা, যত রোগভোগ,
যত প্রকার টেনশান এই জীবন্ত কবরেরই সহ্য করে নিতে হয়।
সইতে না পারলে ওয়াহেদ আত্না আহাদ নামক জীবন্ত দেহ নামক কবর হতে আপন ইচ্ছায় বাহির হয়ে যায়।
আপন ইচ্ছায় বাহির হয়ে যাবার নামটিকে বলে আত্নহত্যা, খুদ কাশি, সুইসাইড, হারিকিরি ইত্যাদি।





একদিকে আগুন, পানি, মাটি আর বাতাসের তৈরি এই যন্ত্রণাময় আহাদে জড়িয়ে দেওয়া আবার তার উপর শয়তানকে খান্নাসরূপে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কী কষ্টকর ব্যাপার, কী অস্থিরতা, কী চঞ্চলতায় দিকভ্রান্ত হওয়া ॥
যেন সব রকম জঞ্জাল গোঁদের উপর বিষফোঁড়ার মতো যাতনা!
এ যেন জাহান্নামের আগুনে সব সময় নিজেকে জ্বালাতে হচ্ছে।
এ যেন জাহান্নামের আগুন আমারই আহাদরূপের মাঝে বিরাজিত।
এ যেন জাহান্নামরে আগুন কেবলই আমার অন্তরটিকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে অথচ বোকার মতো অন্য কোথাও জাহান্নামের আগুনটিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি।





এ যেন হরিণের মৃগনাভির মতো ॥
আপন শরীরের একটি অংশ থেকে সুগন্ধ ছড়াচ্ছে অথচ অন্যত্র খুঁজে বেড়ানো। আহাদ-সত্তার মাঝেই ওয়াহেদের রহস্য।
অন্যত্র কেবলই আকাশ, মাটি, নদী, সাগর,
চাঁদ তারা আর বহু বিচিত্র অগণিত নক্ষত্র।
কেবলই সিফাত আর সিফাত।
জাত ওয়াহেদ নাই।
জাত ওয়াহেদ কেবলমাত্র জিন এবং মানবের সঙ্গেই থাকেন।
তাই শয়তান জিন হতে পারে এবং তাই বলে সব জিনকে পাইকারিভাবে শয়তান ভাবাটা মোটেই ঠিক নয়।
কারণ জিনদের মাঝে বহু ওলি, সাহাবা ছিলো,
আছে এবং কাল কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে।
তা না হলে কোরান-এর সূরা রহমান শুনে কেন অনেক জিন অভিভূত হতো এবং হয় এবং কাঁদে।
জিনদের কান্না আর মানুষের কান্নার মধ্যে গুণগত পার্থক্য অবশ্যই আছে,
কিন্তু কান্না তো দুঃখ-বেদনার একটি উলঙ্গ আন্তর্জাতিক বোবা ভাষা।
কিছু ইসলাম-গবেষকের জিনদের নাম শুনলেই গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায় এবং নিরপেক্ষতা ছেড়ে মনগড়া কথাবার্তায় বই লিখে বিভ্রান্ত করে।
তাই আবার বলছি যে, কোরান-এর প্রাথমিক সূত্রগুলো ভালো করে না জেনে,
না বুঝে ধর্মের উপর বড় বড় গবেষণামূলক বই লিখে জাতিকে বিভ্রান্তির ঝুড়ি উপহার দেয়।
অবশ্য এটা না বুঝেই করা হয়।
কারণ বুঝবার পরও যদি না বোঝার ভান করা হয় তো তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
তাই আগের দিনের বড় বড় ওলিদের লিখনী হতে জানতে পারি যে,
জাহান্নামের আগুন গাছপালা, ঘরবাড়ি, কোনো কিছুই জ্বালায় না,
জ্বালাবার ক্ষমতা দেওয়া হয় নি।
কেবল জিন এবং মানুষের অন্তরটুকুই জাহান্নামের আগুন জ্বালায় আর কোনো কিছু জ্বালায় না এবং অনেকে জাহান্নামের আগুনের জ্বালায় জ্বলতে জ্বলতে আর সইতে না পেরে আত্ব হত্যা পর্যন্ত করে ফেলে।
শতকোটি টাকার মালিক,
সমস্ত শরীর সুইজারল্যান্ড হতে চেকআপ করে কোনো প্রকার রোগ নাই বলে সার্টিফিকেট পাওয়া মুকেশ আগরওয়ালা প্রেমিকার কাপড় দিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্ব হত্যা করলো।
এই জাহান্নামের আগুন ডাক্তার,
বৈজ্ঞানিক কেহই ধরতে পারে না,
অথচ মুকেশ আগরওয়ালা আত্ব হত্যার কাপড়ে ঝুলছে।
জাহান্নামের আগুন কতখানি গুপ্ত,
কতখানি রহস্যে লুকানো যে,
কেউ ধরতে পারে না,
কেউ বুঝতে পারে না।
আর আমাদের সমাজে এক জাতী রয়েছেন,
তরা মরার পরে যেই জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবেন,
সেই ভয়ে ইবাদত করে যাচ্ছেন আর নিজের ভিতরের খান্নাসরূপি শয়তানকে জাগিয়ে তুলে জীবন্ত কবরে আজাব ভোগ করছেন।
ধন্যবাদ।


0 Comments: