** আত্মা বলতে সত্তাকে বুঝায় । মানুষের মূল চালিকা শক্তিই হল আত্মা ।
উহা প্রথমতঃ ২ ভাগে বিভক্ত- জীবাত্মা ও পরমাত্মা ।
জীবাত্মা ৩টি জিনিসের সমন্বয়ে গঠিত । যথা- ১. পশুর আত্মা, ২. হিংস্র জন্তুর আত্মা ও ৩. শয়তানের আত্মা ।
পরমাত্মা ২টি জিনিসের সমন্বয়ে গঠিত । যথা- ১. মানবাত্মা ও ২. ফেরেশতাদের আত্মা ।
মানুষের জন্ম প্রক্রিয়ায় পিতার শুক্রকীট থেকে যে সত্তার জন্ম হয় এবং যা দেহের ষড়রিপুতে পরিণত হয় উহা জীবাত্মা বা নফস, আর মায়ের উদরে সন্তান মানবাকৃতি লাভ করার পর আল্লাহ্র যে সত্তা রূহ হিসেবে মানবের ভিতরে ফুঁকে দেয়া হয়, উহাই পরমাত্মা ।
জীবের জন্ম প্রক্রিয়ার বিচারে মানুষ এবং অন্যান্য জীবের কোন মৌলিক পার্থক্য নেই । পশুর মধ্যে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য এই ষড়রিপু বিদ্যমান, যা মানুষের মধ্যেও রয়েছে ।
কিন্তু মানুষের মধ্যে পরমাত্মা বিদ্যমান থাকার কারণে তারা সৃষ্টির সেরা জাতি বলে গণ্য হয়ে থাকে ।
আল্লাহ্ ফরমান- "আমার রূহ হতে তাঁর (আদম) ভিতরে রূহ ফুঁকে দিলাম ।" এই রূহ হল পরমাত্মা ।
একমাত্র মানুষ ব্যতিত অন্য কোন প্রাণীর মধ্যে এই পরমাত্মা নেই ।
পবিত্র কোরআন এর আলোকে মানুষ আল্লাহ্র প্রতিনিধি,,
"নাফাকতু ফিহি মির রূহি" অর্থ :আমি (আল্লাহ্) আমার রূহ থেকে আদমের ভিতরে রূহ ফুঁকে দিলাম"(সূরা-হিজর ;আয়াত-২৯)।
"ওয়াফি আনফুসিকুম আফালা তুবছিরুন" অর্থ :"(আমি আল্লাহ্) তোমাদের দীলে (ক্বালবের সপ্তম স্তরে নাফসির মাকামে)অবস্থান করি, তোমরা কি তা দেখ না "(সূরা-জারিয়াত:আয়াত-২১)।
"আল্লাহু ওয়ালিয়্যুল লাজিনা আমানু" অর্থ :আল্লাহ্ মুু'মেনদের অভিভাবক"(সূরা-বাকারা;আয়াত--২৫৭)।
আল্লাহ্ বলেন:- "উছজুদু লি আদামা" অর্থ :"আদমকে সেজদা কর"।
জবাবে :শয়তান বলে- "খালাকতানি মিননারিও ওয়া খালাকতাহু মিনতিন" অর্থ :"আমি আগুনের সৃষ্টি আর আদম মাটির সৃষ্টি "(সূরা-আ'রাফ;আয়াত-১২)।
সুতারাং শয়তান বলে আমি তাকে কেন সেজদা করব?তার চেয়ে আমি শ্রেষ্ঠ।
এ আমিত্ব, এ ফকর এরূপ চরিত্র যাদের মাঝে আছে, আত্মার দৃষ্টিতে, অন্তর চক্ষু দিয়ে যদি কেউ তাকে দর্শন করে কিংবা সে যদি নিজেকে নিজে দর্শন করে, তাহলে আত্মার ছুরতে শৃগাল কিংবা বানরের রূপে দেখবে, তাকে মানুষ রূপে দেখবেনা।
"ইল্লা মান আতাল্লাহা বি ক্বালবিন সালিম" অর্থ :পরিশুদ্ধ আত্মা নিয়ে যে আল্লাহ্র নিকট আসবে সেদিন কেবল সে-ই উপকৃত হবে"(সূরা-শু'আরা;আয়াত-৮৯)। অর্থাৎ :"নিশ্চয়ই মানব জাতির উপাসনার জন্য সর্ব প্রথম যে ঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা মক্কায়;তা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী,সেখানে বহু স্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যথা- ইব্রাহীমের দাঁড়াবার স্থান ;আর যে কেউ এখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্য যার সেখানে যাওয়ার সামার্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ ঘরের হজ্ব করা তার অবশ্য কর্তব্য। আর যে অস্বীকার করে সে জেনে রাখুক আল্লাহ্ জগতের মুখাপেক্ষী নন"(সূরা - আলে ইমরান;আয়াত-৯৬-৯৭)।
আল্লাহ বলেন :"হে বিশ্বাসীগন! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর;সত্যাশ্রয়ীদের সংসর্গ লাভ কর"(সূরা-তাওবা;আয়াত-১১৯)। ভাবার্থ হল এই যে: যে ব্যক্তি রাসূলের অনুসরন করলো প্রকারান্তরে সে আল্লাহ্কেই অনুসরন করলো।




0 Comments: