আমি কি করে জন্মগ্রহণ করেছি?
"সত্যিই কি আমি জন্মগ্রহণ করেছি?
হয়ত প্রাকৃতিক নিয়মে হয়ত ভালবাসার টানে,
হয়ত নিতান্ত যৌন চাহিদা মেটাতে গিয়ে একজন পুরুষ- একজন মহিলা আমার কোন অনুমতি ছাড়াই তাদের প্রবৃত্তি বা ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাকে পৃথিবীতে চালান করে দিয়েছে।

ঠিক একই ভাবে আমিতো মরবনা,
আমার অস্তিত্ব মরবেনা।
প্রাকৃতিক দেওয়া কিছু যন্ত্রপাতি বিকল করে দিয়ে বা প্রকৃতি তার নিজের নিয়মে আমাকে মেরে ফেলবে।
তাহলে মাঝখানে আমি কি করলাম?
শুধু দুই চোখ মেলে পৃথিবী নামক গ্রহটিকে দেখে গেলাম।
জীবনের উৎস বা বিনাশের যেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য নেই তেমনি বেঁচে থাকার কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নেই।
জীবনের উদ্দেশ্য জীবনই,
বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য শুধু বেঁচে থাকাই।
এর বাইরে ভিতরে সত্যি আর কোন গোপন উদ্দেশ্য নেই।
গীতাতে একটা কথা আছে ‘
তুমি কি নিয়ে এসেছ যা তুমি হারিয়েছ'!
সত্যি একবার ভেবে দেখ তুমি কি নিয়ে এসেছ-
বিবস্ত্র একটা শরীর, কিছু অসহায় কান্না,
আর জন্মদাতা- জন্মদাত্রী মুখে কিছু গুরুত্বহীন খুশী দেওয়া ছাড়া আর কিছু আননি।
তাহলে জীবন জুড়ে কেন এত হারানোর ব্যথা,
কেন এত পাওয়ার আকুলতা।
জীবন জুড়ে এই বিশ্বাভ্রমন কালে সবি আপাত কিছু পাওয়া আর হারানোর সহজ সরল সমাধান।
কিছু পেলে অতি খুশি হওয়ার কিছু নেই –
হারালে তেমন কষ্ট পাওয়ারও কিছু নেই।
জীবনে অনেক বড় হতে হবে এমন তাগাদা কে দিয়েছে তোমাকে?
তোমার বাবা মা?
তোমার চারপাশ?
জীবনে অনেক বড় হলে কি হবে?

বড়ই তো হবে-আর কিছু তো হবে না-অমর তো হবে না।
যাদের তাগাদাতে বড় হলে তারাও হয়ত তোমার এই বড় হওয়াটা দেখে যেতে পারবেনা।
যদি নিজে তাগিদ অনুভব কর তাহলে বড় হও-
যদি নিজে বড় হওয়াটাকে ভালবাস তাহলে বড় হও।
নিজেকে ভালবাসে বড় হও,
অন্যের ভালবাসা অর্জনের জন্য বড় হয়ে লাভ নেই।
এই পৃথিবীতে তুমিই সব- তোমারই সব।
যদি নিজে দুইবেলা ভাত খেয়ে খুশি থাকতে পার তাহলে শুধু দুইবেলা ভাতেরই ব্যবস্থা কর।
যদি বিরানী খেতে ভালবাস তাহলে বিরানীর চিন্তা কর।
নিজের সুখ কোথায় আছে সেটা নিজেই খুঁজে বের কর,
সেই পথে হেঁটে চল।
কারো দেখানো পথে সুখ খুঁজতে যেওনা।
আগে নিজের জীবনকে ভালবাসতে শেখ।
সেই জীবনকে সুশোভিত করতে ইচ্ছে হলে অন্যকে ভালবাস।
ভালোবাসো যাকে খুশি তাকে।
ভালো মন্দ বিচার করতে হবে না।
সঠিক ভালোবাসার মানুষের জন্য অপেক্ষা করে লাভ নেই।
ভালোবেসে যাও-
ভালবাসতে বাসতে একদিন সেই মানুষের দেখা পেয়ে যাবে।
যৌনতা নিয়ে ভাবার কিছু নেই।
যৌনতাও আমিত্বের একটি বৈশিষ্ট্য, একটি প্রয়োজন।
জীবনে যৌনতা লাগে তবে ভালোবাসার প্রার্থনাময় অংশটুকু বেশি ভালোবাসো। এটাই জীবনকে জীবনের সুখ দিবে।
নিছক যৌন সুখের জন্য ভালোবাসার এই সুখ হারাতে যেওনা।
কে তোমাকে খারাপ বলল,
চরিত্রহীন বলল,
মিথ্যাবাদী বলল,
ছলনাময়ী বলল তা কানে নিও না।
তোমাকে এসব বলার অধিকার তাকে কেউ দেইন।
নিজে যা করেছ এবং যা করবে সবি ভেবে নাও নিজের ভালো লেগেছে তাই করেছ।
যে তোমাকে ছলনাময়ী বলে সে হয়ত তোমার সাথে করেনি কিন্তু সে নিজেই ছলনা করেছে আরও অনেকের সাথে। \
কে তোমাকে চরিত্রহীন বলবে-
যে বলবে সে বুঝে চরিত্র কাকে বলে ?
কে তাকে চরিত্রের সংজ্ঞা শিখিয়েছে?
খুঁজে দেখলে এরকম তথাকথিত চারিত্রিক খুঁত তারও পাওয়া যাবে অনেক। ভালো খারাপের সংজ্ঞা অনেকে অনেক দিয়েছে।
তুমি কেন তাদের সংজ্ঞা মানবে?।
ভালো খারাপের সংজ্ঞা নিজেই তৈরি কর নিজের মত করে।
নিজে যদি মনে কর সঠিক তাহলে সঠিক,
নিজে যদি মনে কর ভুল তাহলে সংশোধন করে নাও নিজের মত করে।
কোন ভুল তোমাকে থামিয়ে রাখতে পারবেনা।
নিজের বিশ্বাসে নিজেকে এগিয়ে নাও।
যেদিন নিজেকে নিজেই চালিয়ে নিতে শিখবে সেদিন পৃথিবী তোমাকে বাড়তি চালানোর জ্বালানী দিবে।
আর নিজেকে থামিয়ে রাখলে পৃথিবী তোমাকে আরও থামিয়ে রাখবে।
জীবন থেকে কেউ হারিয়ে গেলে বা হারিয়ে যেতে চাইলে হারাতে দাও-
কিছু যায় আসে না।
শুধু হারিয়ে যাওয়া জিনিসটার জন্য নিজেকে হারিয়ে ফেল না।
তার কাছে ভাল লাগেনি তাই সে হারিয়ে গেছে।
আর একজন তোমাকে ভালবাসবে ,
সে দেখবে তোমাকে হারাতে চাইবে না।
এই পৃথিবী তোমারই- তুমি তোমার মত করে বাঁচো।
নিজের আমিত্ব প্রতিষ্ঠা করে বাঁচ।
নিজেকে নিজেই খুঁজে নাও-
কে তোমাকে খুঁজে নিবে তার জন্য অপেক্ষা করনা।
Thanks to osho.




জয় দয়েময়
উত্তরমুছুন