'হুর' রুহ" 'সাধক নফস"'
এর উপর মোহাম্মদী নূরের একটি বিকাশের অবতরণকে রুহ বলে।
রুহ জাগ্রত হইয়া দৃশ্যমান হইলে তাহাকে হুর বলে।
যখন সাধকের আপনরূপে মূর্তিমান হইয়া দৃশ্যমান হয় উহাই হুর নামে আখ্যায়িত। আপন আলোকিত মূর্তিকে হুর বলে।

'হুর' অর্থ আপন পরিশুদ্ধ ও আলোকিত রূপ।
আপন জ্ঞানময় সত্তাকে হুর বলে।
হুর চক্ষু বিশিষ্ট অর্থাৎ জ্ঞানী।
আপন জ্ঞানময় সত্তা দর্শনকে হুর দর্শন বলে।
হুর-দর্শন আত্মদর্শনের নামান্তর।
এই হুর প্রত্যেকের মধ্যে লুকাইয়া আছে।
সাধনা দ্বারা ইহার সংগে মিলন ঘটে।
হুরপ্রাপ্ত ব্যক্তির হুর অন্য সবার জন্য দৃশ্যমান নয়।
বাংলার মরমী সূফী সাধক স্বভাব কবি ফকির লালন শাহ রুহকে
'অচিন পাখী' বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছেন।
রুহ নাজেল হইলে উহা নফসের কর্তা হইয়া যায়।
রুহ সৃষ্টির অন্তর্গত নহে, উহা সৃজনী শক্তির অধিকার।
রুহ রহস্যময়।
উহার পরিচয় ভাষায় ব্যক্ত করা দুরূহ।
রুহ প্রাপ্তি দ্বারা আত্মপরিচয়ের পূর্ণতা আসে।
প্রভুগুরুর ভাবমূর্তি ( Image of Lord Guru) সাধকের আপন চিত্তের উপর অধিষ্ঠানকে 'রুহ নাজেল' বলে।
সুফিগণ মনে করেন ----গুরুর চেহারা,
গুরুর ভাব এবং গুরুরবানী যখন কোন সাধক চিত্তে অংকিত হইয়া আসে তাহাকে রুহ বলে। অপরপক্ষে সাধকচিত্তে রুহরূপে অংকিত ভাব যখন সাধকের প্রতিটা কর্মধারায় বাস্তব রূপ নেয় তখন সেই সাধককেই 'হুর' বলা হয়। ফেরেশতাগণ ও রুহ এক দিনে তাঁহার (অর্থাৎ আল্লাহর দিকে) উরুজ করে (বা অধিরোহণ করে) যাহার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। *১.-(সূরা মা'রেজঃ৪)
ব্যাখ্যাঃ-
রুহ প্রাপ্তি ব্যতীত মোমিনের মেরাজ হয় না।
বিশ্বাসকারীর মধ্যে রুহ নাজেল হইলে পর,
তাঁহার সাহায্যে মোমিন ব্যক্তি মেরাজের সৌভাগ্য অর্জন করিয়া থাকেন। ফেরেশতা মত আমিত্ব বর্জিত সরল স্বভাব অর্জন না করিলে মানুষের মধ্যে রুহ নাজেল হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হইতে পারে না। মানবীয় নফস ফেরেশতা মত সরল নিস্পাপ হইলে তাহাতে রুহ নাজেল করা হয়। নফস তখন রুহের সাহায্যে আধ্যাত্মিক ঊর্ধ্বগতি বা মেরাজ করিতে সক্ষম হইয়া থাকে। ফেরেশতার গুণে গুণান্বিত মানবীয় নফস রুহের সমন্বয়ে আল্লাহ্র দিকে এত দ্রুত গতিতে অগ্রসর হইতে পারে যে, তাহা দুনিয়াবাসির ধারণার অতীত। তাহারা এক জীবনেই মেরাজের সাহায্যে মুক্তিপ্রাপ্ত হয়, যাহা অন্যান্যের জন্য পঞ্চাশ হাজার বছরেও সম্ভব হয় না। রুহ রহস্যের ভাণ্ডার। এইজন্য রহস্যময় আল্লাহ্র দিকে সান্নিধ্য লাভ করা তাহার পক্ষে সম্ভব। রুহ নাজেল করিয়াই মোমিনকে মেরাজ ভ্রমণে লইয়া যাওয়া হইয়া থাকে (৯৭:১ দ্রষ্টব্য)
টীকাভাষ্যঃ
*১. রুহ প্রাপ্তির পূর্বে মানুষ তাহার নিজের চেষ্টায় ৫০ হাজার বছর এবাদত করিলে আল্লাহর দিকে যতটুকু অগ্রসর হইতে পারিবে ফেরেস্তা এবং রুহ 'একদিনে' ততটুকু অগ্রসর হইতে সক্ষম। নফস যখন ফেরেস্তা স্বভাব প্রাপ্ত হয় তখনই কেবল আল্লাহর দয়া স্বরূপ রুহ লাভ করিবার বা রুহ নাজেল হওয়ার সম্ভাবনা তাহাতে তৈরি হইয়া থাকে। অপরপক্ষে নফসের আমিত্ব যতটুকু দূর হয় ফেরেস্তা স্বভাব ততটুকু তাহার অর্জিত হয়। আত্মশুদ্ধির জন্য আমাদের উচিত ফেরেস্তার সংশ্রব ও সহায়তা অর্জনের চেষ্টা করা এবং অপরপক্ষে জিন-সংশ্রব ত্যাগ করা।
'একদিনে' অর্থাৎ এককালে বা এক জীবনে।
*২.এবং চক্ষু বিশিষ্ট হুর,প্রচ্ছন্ন মুক্তা সদৃশ (চক্ষু)।
(ইহা) অসীম একটি প্রতিদান যে আমল সে করিয়াছে তাহা দ্বারা। (৫৬:২২-২৪) ব্যাখ্যা (২২-২৪):-ইহারা জ্ঞান-চক্ষুওয়ালা হুর।
মুক্তা যেমন আশ্রয় লয় ঝিনুকের মধ্যে তেমনই জ্ঞান তাহাদের মধ্যে আশ্রয় লইয়াছে। পুরস্কার শব্দটির উপর অসীম মদ আছে ; কারণ তাহাদের জ্ঞানচক্ষু একটি অক্ষয় পুরস্কাররূপে প্রাপ্ত হইয়াছে।
মনে রাখিতে হইবে, বীর্যক্ষয় মানসিক বিস্মৃতির মূল কারণ।
*হুরঃ তাঁবুর মধ্যে আবদ্ধ (বা আবৃত)আছেন।
অথবা—বাড়ির প্রধান হুর তাঁবুর মধ্যে গোপন রহিয়াছেন। (৫৫:৭২)
ব্যাখ্যাঃ-
“মাক্সুরাতুন” অর্থ বাড়ির প্রধান;
আবদ্ধ; প্রাসাদে আবদ্ধ মহিলা; গোপনীয় মহিলা।
রুহ আল্লাহ্র জাতি নূর।
নূরে মোহাম্মদী’র একচ্ছটা আলো প্রত্যেক মানুষের মধ্যে প্রচ্ছন্ন হইয়া বিরাজ করেন তখন উহাকে হুর বলে। হুরের চেহারা মানুষের আপন আলোকিত সুক্ষ্ম চেহারা ব্যতীত অন্য কিছু নয়। ইহাই আত্মদর্শনের চরম পর্যায়। আপন প্রচ্ছন্ন হুরের সঙ্গে মিলনের মধ্যেই মানব জীবনের চরম সার্থকতা।মানবদেহ আল্লাহ্র ঘর বা প্রাসাদ। এই প্রাসাদের গোপন রানী হইয়া হুর বিরাজ করিতেছেন।
হুর স্ত্রীলিঙ্গে প্রকাশিত।
এইজন্য সূফী সাধকগণ তাহাদের মাশুককে প্রেয়সী,
রানী ইত্যাদি নামে সম্বোধন করিয়া থাকেন।
রুহুল # কুদ্দুসঃ
'রুহুল কুদ্দুস' অর্থ স্থান পাককারী রুহ।
দেহ এবং বস্তু পবিত্রকারী রুহ।
অর্থাৎ শক্তিশালী রুহ সাধকের উপর অবতরণকৃত নুরে-মোহাম্মদীকে রুহ বলে। এই রুহ সাধকের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হইয়া সাধকের দেহ-মনকে পাক-পবিত্র করিয়া তোলে। তখন এই রুহকে 'রুহুল কুদুস' বলে, যেহেতু ইহা স্থান পবিত্রকারী রুহরূপে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। সাধকগণকে 'রুহুল কুদুস' দ্বারা শক্তিশালী করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ ঈশা (আঃ)।
ধনবাদ।




উত্তরমুছুনইয়া মালিক সবাইকে বোঝার তৌফিকদান করুন