(সূফীবাদের নিগূঢ় কথন)
কুল্লু= প্রত্যেক
নাফসিন=জীবন,ব্যক্তি,রুহের স্বভাব,যাবতীয় অভিব্যক্তির কেন্দ্রস্থল।
যায়েকাত= স্বাদগ্রহণ
আল-মউত= প্রতিষ্ঠিত মৃত্যু।
সুম্মা=অতঃপর
ইলাইনা=আমাদের দিকে
তুরজাউন=ফিরে যাওয়া,প্রত্যাবর্তন
"কুল্লু নাফসিন যায়েকাতাল মউত। সুম্মা ইলাইনা তুরজাউন।"
অর্থঃ
প্রতিটি অনুভূতির কেন্দ্রস্থলই প্রতিষ্ঠিত মৃত্যুর স্বাদগ্রহণ করবে/প্রতিটি জীবনই প্রতিষ্ঠিত মৃত্যুর স্বাদগ্রহণ করবে। অতঃপর আমাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন।
(সূরা আনকাবুত দ্রষ্টব্য)
এখানে নফসকে অনুভূতির কেন্দ্রস্থল বা জীবন অর্থেই নিলাম। কারণ অন্যান্য অর্থগুলো এখানে পৃথিবীর যাবতীয় জীবদের ক্ষেত্রে মানাবে না।
এক্ষেত্রে চারটি বিষয় বিবেচ্যঃ-
(১) রুহের মৃত্যুর বিষয়টি এখানে নেই।
(২) মৃত্যমাত্রেই ধ্বংস বুঝায় না। এজন্যই সোজাসুজি মৃত্যুবরণ না বলে মৃত্যুর স্বাদগ্রহণ করার কথা বলা হল।অর্থাৎ মৃত্যুর যন্ত্রণাটি ভোগ করানো হবে মাত্র। ইহা দ্বারা অস্তিত্ব চিরতরে মুছে দেয়া বুঝায় না।
(৩)শুধু "মউত" না বলে "আল-মউত" বলা হয়েছে। আল-মউত= প্রতিষ্ঠিত মৃত্যু। সবার মৃত্যুই প্রতিষ্ঠিতভাবে হয়না। যিনি এক জীবনে চার চার বার মৃত্যুবরণ করে মৃত্যুঞ্জয়ী লা-মউত হয়ে অখন্ড চেতন জগতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছেন তিনিই প্রতিষ্ঠিত মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে "শহীদ" হয়েছেন।কুরআনের নির্দেশানুসারে এদেরকে মৃত বলা যাবে না এবং এদেরকে প্রতি মুহুর্তে রেজেক দেয়া হচ্ছে(পার্থিব রেজেক নয়,ইহা সম্পূর্ণ বাতেনি রেজেক)।
প্রতিটি নফসকেই এভাবে প্রতিষ্ঠিত মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। এত বড় অথচ সূক্ষ্ম হেদায়াতের বিষয়টি বুঝতে না পেরে প্রচার করা হচ্ছে--"প্রত্যেক জীবই প্রতিষ্ঠিত মৃত্যুর স্বাদ নিচ্ছে।" অথচ বুঝা উচিত---প্রতিষ্ঠিত মৃত্যুটা কী।
(৪) "আমাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন"-- কথাটি রহস্যপূর্ণ। "আমাদের" শব্দটি দ্বারা সকল ওলী,আবদাল,গাউস,কুতুব,হক্কানি পীর-মাশায়েখকে বুঝায়। "আমাদের দিকে প্রত্যাবর্তন" বলতে কোন দিকে বুঝায়? হাদিসে আছে--প্রতিটি বস্তুই তার মূলের দিকে যায়। এই মূল হল জাতে উলুহিয়াতের দরিয়া। প্রত্যেক মুক্তিপ্রাপ্ত নফসের রুহ এই দরিয়াতেই বাকার অবস্থায় বিরাজমান আছে।এই দরিয়ার মৌজে হুবাব পয়দা হয়।লক্ষনীয়ঃ পাহাড়ের ঝর্ণাধারা হতে পানি বেয়ে পড়ে। এই পানিই দরিয়াতে আসে।প্রকৃতপক্ষে দরিয়ার পানিই বাষ্পীভূত হয়ে বৃষ্টি আকারে পাহাড়ে বর্ষিত হয়। শেষে এই পানি গড়িয়ে আবার দরিয়াতেই পৌঁছায়।অর্থাৎ যেখান এসেছিল সেখানেই ফিরে গেল। প্রতিটি জীবেরও ওই একই দশা। তবে মূলে ফিরে গিয়ে বারংবার আসা-যাওয়াটা আমাদের কাম্য নয়। আমাদের কাম্য হল জাতে উলুহিয়াতে কায়েম এবং দায়েম থাকা।উহাই শাহাদাতের হাকিকত।




0 Comments: