সেই দুটি বস্তু কী ?









আমাদের মুসলিম সমাজে একটি বিষয় ব্যাপক ভাবে প্র্রচলিত আছে যে,





সেটা হলো :---





"কোরআন ও হাদিস মেনে চললেই হবে" আর কিছু প্রয়োজন নাই, তাতেই ইসলাম মানা হয়ে যাবে,ধর্ম পালন করা হয়ে যাবে ইত্যাদী।





অথচ কোরআন ও হাদিস শরীফের ভিতরে যাহাদেরকে অনুস্বরণ আনুগত্য করা ও প্রাণের চাইতে বেশী ভালবাসার জন্য আদেশ দেওয়া আছে। তাহা বলা হয়না।





তাহলে সেই ফরজ আদেশ বা সুন্নাহটি কাহাকে বলে ? অবশ্যই তা জানা প্রয়োজন আছে।





আসল সত্যটি কী ক্ষমতার স্বার্থে মানুষের কাছে গোপন রেখে তৎকালিন মোনাফেকগণ মুসলমানের মাঝে বাতিল ফেরকা তৈরীর সূত্রপাত করেছিল এখনো অব্যাহত আছে।





চিন্তাশীলদের জন্য হাদিস শরীফ দুই খানি নিম্নে উল্লেখ করা হলো :---





'রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন--
ﺍﻧﻲ ﺗﺎﺭﻙ ﻓﻴﻜﻢ ﺍﻟﺜﻘﺎﻟﻴﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ
ﻋﺘﺮﻃﻲ ﺍﻫﻞ ﺑﻴﺘﻲ
অর্থঃ





"আমি তোমাদের নিকটে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি প্রথম হচ্ছে-- আল্লাহর কিতাব, এবং দ্বিতীয় হচ্ছে-আহলে বাইত।"





( নবী করিম (সা:)'র পরিবারের সদস্যগণ।" অর্থাৎ-- পাক পাঞ্জাতনের চার জন সদস্য যথা-- হযরত মওলা আলী (আ:), মা ফাতেমা (আ:), ইমাম হাসান (আ:), ইমাম হোসাইন (আ:)।





সূত্রঃ--
(মুসলিম ৭/১২২, হামিদিয়া লাইব্রেরী বুখারী ৫/২৮০--২৮২।তিরমিযী ৬ষ্ঠ খন্ড,
মুসতাদরাক আল হাকীম ৩/১০৯। শিবলি নুমানীর সিরাতুন নাবী ২য় খন্ড,
মুসনাদে আহমাদ ৩/১৪--১৭।









ইসলামিক ফাউন্ডেশন মুসলিম শরীফ ৭ম খন্ড । আমি কেন তাবলীগ করি--২৮ নং পৃঃ)





★★★★★
প্রশ্ন :- কিস্তিয়ে নূহ্ (আ:) কী ?





অর্থাৎ--নূহ (আ:)'র নৌকা কোনটি ?





উত্তরঃ--আহলে বাইয়াত। (আলে মোহাম্মদ (সা:)।





" নবী (সাঃ)-এর প্রিয় সাহাবি হযরত
আবুজার আল গিফারী (রাঃ) একদা পবিত্র কা'বার দরজায় দাঁড়িয়ে উপস্থিত
সাহাবাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে--
" হে লোক সকল । আশা করি তোমরা
আমাকে ভাল করেই চিন এবং জান । আর তোমাদের মাঝে কেউ যদি এমন থেকে থাকে, যারা আমার পরিচয় জানো না,তাঁদের কাছে আমার পরিচয় হচ্ছে, আমি আবুজার আল গিফারী ।
রাসুল (সাঃ) এর একজন ঘনিষ্ঠ সহচর । আর এই ঘনিষ্ঠ সাহচার্যের দরুন,
আমি রাসুল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে- --





"আমার আহলে বাইত এর সদস্যগণ মানুষের জন্য ( মানব জাতীর জন্য ) তেমনি আশ্রয় ও নাজাতের কিস্তি যেমন, আল্লাহর নবী হযরত নূহ (আঃ) এর কিস্তি মহা প্রলয়ের সময় তার কওমের আশ্রয় ও নাজাতের প্রতীক ( বা মাধ্যম) ছিল । অর্থাৎ, যাহারাই হযরত নূহ (আঃ) এর কিস্তিতে উঠেছিল, তারাই মহাপ্রলয় থেকে নাজাত পেয়েছিল,





তেমনি এই উম্মতের যারা আমার আহলে বাইতকে ভালোবাসবে,অনুসরণ করবে বা তাদের দলভুক্ত থাকবে তারাই নাজাত পাবে ও যারা অনুসরণ করবে না তারা ধ্বংস প্রাপ্ত হবে।"





" সুত্রঃ--
কানজুল উম্মাল খঃ-৬,পৃঃ-২৫৬। মুসনাদে হাম্বাল খঃ-২-পৃঃ-৭৮৬, তাফসীরে কাবির-- খঃ-২৭, পৃঃ-১৬৭, মেশকাত--খঃ-১১, হাঃ-১৬৭, --
মুস্তাদারাকে হাকেম-- খঃ-৩, পৃঃ-১৫১, খঃ-২, পৃঃ-৩৪৩,
তারিখে খোলফা পৃঃ-৩০৭,





সাওয়ায়েকে মোহরেকা পৃঃ-১৫০।





"সংক্ষিপ্ত আলোচনা"





আহলে বাইতের প্রধান হলেন মাওলা আলী (আ:) । যিঁনি মুমিন ও মুনাফিক চিনার বা স্বনাক্ত করার মানদন্ড ।





মাওলা আলী (আ:) কে যে ভালবাসে সে মুমিন । যে বিরুধীতা করে সে মুনাফিক।





( হাদিস)





মাওলা আলী (আ:) হতে ত্বরীকার ছিলছিলা শুরু হয়েছে যা হাত বাই হাত সিনা ব সিনা হক্কানী পীর-মুর্শীদ ওলী-আওলীয়াগণের মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। বেলায়েতি নূর বা জ্ঞান ছাড়া কেহ কোরআনের জ্ঞানে জ্ঞানি বা আলেম হতে পারবে না।





শরীয়তের ভাষায় তিনিই আলেম যার জাহেরী ও বাতেনী এলেম আছে ।





রাসুলে পাক (সা:) বলেছেন যে --





" আমি জ্ঞানের শহর বা ভান্ডার, এই শহরে প্রবেশের (এক মাত্র) দরওজা হচ্ছে মওলা আলী (আ:)।" ( হাদিস)





কেবল আক্ষরিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যাক্তিবর্গ কখনোই কোরআনের জ্ঞানে আলেম হতে পারবে না। এটাই শরীয়তের বিধান।





অথচ ইয়াজিদি উমাইয়া বংশের শাসন আমলে প্রতিষ্টিত আহলে বাইয়াত বিরুধী শিক্ষা ব্যাবস্থার যাতাকলে প্রকৃত তাছাউফ শিক্ষা ও আহলে বাইয়াত এর ভালবাসার আদর্শ ধামাচাপা পরে আছে।





সত্য স্বন্ধানীদের তাহাই আবিষ্কার করে আমল করতে হয়





প্রচারে মোঃ শামসীর হায়দার


0 Comments: