হাদিসে কুদসিতে আছে -মানব দেহের বাম প্বার্শে বক্ষস্হলের নিম্নদেশে একখন্ড গোশত আছে,যাহাকে ক্বলব বলে।উহা সনৌবর(বিলাতি ঝাউ বা সরো)বৃক্ষের ন্যায় তাই উহাকে ক্বলবে সনৌবরী বলা হয়।উহা নিজ স্হানে উলটা ভাবে লটকাইতেছে,তজ্জন্য উহাকে ক্বলব বলা হয়।কারন আরবি ভাষায় ক্বলব অর্থ উল্টা।হৃদপিন্ডকে ক্বলব বলার এক কারন আছে।মন হৃদয় থেকে উৎপত্তি। লোকের মন কোন জিনিসের বা বিষয়ের উপর স্হায়ী থাকেনা।সর্বদা উল্টা হইতে থাকে।এই ভাব পরিবর্তন অনুসারে এই একখন্ড মাংসের সাতটি নাম রাখা হয়েছে।উহাকে ফকিরি ভাষায় ক্বলবের সাতটি মোকাম বলা হয়।
যথা -(১)সদর (২)ক্বলন (৩)শগফ (৪)ফোওয়াদ (৫)জান্নাতুল ক্বলব(৬)সোওয়ায়দায় ক্বলব (৭)মোহযাতুল ক্বলব।
ধ্যানকারী সাধক বা মোরাকেবাকারী পাক শরিরে ওযুর সহিত দুই জানু বসিয়া সিনার বাম প্বার্শে ক্বলব সদর- মোকামের দিকে মস্তক নত ও চক্ষু বন্দ্ধ করিয়াএকাগ্র চিত্তে প্রিয়বিভুর ঝলকের প্রত্যাশী হইয়া ধ্যানে নিমগ্ন থাকতে হবে।দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে মাহবুব (বন্ধু)ওয়াদা করিয়াছেন যে, তিনি যখন ইচ্ছা তাহার তালাসীকে ক্বলবের জানালা হইতে উকি দিয়া নিজ ছেফাত ও আসমার প্রভাবের ঝলক দেখাইয়া দিবেন।যদ্দারা অভাবনীয় ও অবর্ন নীয় আনন্দ, উচছাস, ওলজ্জত (স্বাদ)অনুভুত হইবে।
সাধক যদি প্রকৃতই বিভুপ্রেমে বিহবল হয়,তাহা হইলে তাহার উচিত মাহবুবের জানালার উপর নিজ নিরিখ বাধিয়া রাখে।পাছে এমন না হয় যে,সেই জানালা হতেউকি দিয়া রুপের হঠাৎ ঝলক দেখাইয়া দেয় আর সাধক অন্য মনস্ক থাকিয়া প্রিয় দর্শনের অমুল্য রত্ন হইতে বন্চিত হইয়া যায়।
আমি সংক্ষিপ্তভাবে ক্বলবের সাতটি মোকাম সম্পর্কে আলোচনা করবো।
( ১)সদর-সাধক উপরোক্তভাবে মোরাকেবা করলে সদর মোকাম হাছেল হবে।সাধক এই মোকামে কেবল নম্রতা আত্বসমর্পনতা এবং মাহবুবের দর্শন অভিলাষী ওআকাক্ষী।
(২)ক্বলব-সাধক এই স্থানে ঈমানের ধনাগারের অধিকারি হইয়া সতত প্রভু খোদাতায়ালার ইয়াদ ও চিন্তায় নিমগ্ন থাকে এবং মাহবুবের প্রতি ভালবাসার টান প্রবল থাকে।
(৩)শগ্বফ- শগ্বফ অর্থ হৃদয়বরন,ভালোবাসা, প্রেম ওপ্রনয়।এই স্হান প্রেমের এবংযদি প্রেমিক কে পায় যথাস্বর্বস্ব বিসর্জন দিতে সমর্থ হয়।
(৪)ফোওয়াদ-সাধক এই স্হানে পৌছলে ভালোবাসা ও প্রেমের অনন্য লক্ষন যথা বিরহানলে দগ্ধ হওয়া,মনোকষ্ট অনুভব হাহুতাস কান্নাকাটিও হুন্কার করা ইত্যাদি প্রকাশ পায়।ফোয়াদ অর্থ মনব্যাথা এইস্হানে আল্লার আসমা ও ছেফাতের তাজাল্লিয়াতের (ঝলক)দর্শন লাভের স্হান।
(৫)জান্নাতুল ক্বলব-এই মোকামে সাধক বিভু প্রেম বিরহে উন্মাদ হইয়া মজনুর ন্যায় হৃদয় লায়লার অন্বেষনে দৌড়াদৌড়ি ওছুটাছুটি করিতে থাকে।এই অবস্হাপ্রাপ্ত নাহইলে সাধকের বিভুপ্রেম প্রকৃত বলিয়া বিবেচিত হয় না।
(৬)সোওয়ায়দায় ক্বলব-সৌদা অর্থ কালী ব্যতিত পল্লি ও নগর ও হইয়া থাকে।এখানে পল্লি ও নগর অর্থে ক্বলবের নাম করা হয়েছে।এই মোকামে সাধক খোদাতায়ালার কুদরত আযমত,ও হিকমতের জ্ঞান ও অনুমিত (মোশাহেদা)হইয়া সাধক রহস্যপূর্ণ ও আশ্চর্যজনক জ্ঞান লাভের পরিতুষ্টি অর্জন করে।ইহার হাকিকত সেই বুঝে যে অনুভব করে।
(৭)মোহযাতুল ক্বলব-মোহযাত অর্থ প্রান ভবে প্রানই শ্রেষ্ঠ বস্ত।সাধক যখন এই মোকামে পৌছায়, তখন তাহার বিভু প্রেম নেশায় এতদুর নিমগ্ন ও বিস্মৃতির আবির্ভাব হয় যে,তাহার নিকট ঢোল বেড়ি বাজালেও কিছু শুনতে পায়না।সে নিজেই নিজত্ব হারায়।ইহাই ফানা ফিল্লার মোকাম। সাধক কালেমা তাইয়েবার ইলাহ জগৎ পরিত্যাগ করে ইল্লাল্লাহ জগতে বা ঐশি জগতে প্রবেশ করে।
ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং গঠনমুলক সমালোচনা আশা করি।




0 Comments: