আমি ঝুম। প্রিয়তমের কাছে যার নাম একরাশ বিরক্তি। হুম ধূসর । ধূসর আমার প্রিয়তম ব্যক্তির নাম। যাকে ভালোবেসে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউকে পাড় করে, নিজের দেশকে ছেড়ে,পরিবারকে ছেড়ে, আজ আমি এক অন্য মহাদেশে। তাকে ভালোবেসে, একরাশ স্বপ্ন নিয়ে তার সাথে আমেরিকায় চলে আসি। কিন্তু বুঝতে পারিনি আসলে সে আমাকে বোঝা হিসেবে এখানে এনেছে, ভালোবেসে নয়। এখানে আসার পর ধূসর সেদিন রাতেই
মাতাল হয়ে কলিংবেল চাপতে থাকে। আমি দরজা খুললে দেখতে পাই এক সেনালীকেশী নীল চোখের এক মেয়ে তাকে কোনোরকম ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি সেদিন স্তব্ধ হয়ে যাই। মেয়েটা ধূসরকে আমার কাছে দিয়ে চলে যায়। সেদিন সারা রাত আমি ঘুমোতে পারিনি। সকালে ধূসর যখন ঘুম থেকে উঠে তাকে কিছু বলতেও পারিনি। জানিনা কেনো? মনে হয় একটু বেশিই ভালোবেসে ফেলেছিলাম তাই। সেদিন ধূসর ডাইনিং এ ব্রেকফাস্ট করে নিঃশব্দে। এমনিতেও সে আমার সাথে আগ বাড়িয়ে কোনোদিন কথা বলতো না। আর আমিও বলতাম না কারণ ভয় হতো সে যদি আমাকে গায়ে পড়া স্বভাবের মনে করে তাই। আমি জানি আপনজনদের কাছে মেয়েরা হতে চায় অর্ঘতুল্য। আর আমিও একটা মেয়ে। একারণে তার কাছে নিজেকে সহজলভ্য বানাতে চাই না। রাতের কথা মনে করে আমার গলা দিয়ে খাবার নামছিলো না। হঠাৎ গলায় খাবার আটকে যায়, কাশতে শুরু করি। ধূসর পানির গ্লাসটা এগিয়ে দিলে সেটা আমি একবারে পুরোটা শেষ করে ফেলি। তারপর আর আমাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। তবে ধূসর ব্রেকফাস্ট শেষে শুধু একটা কথা বলে যেটা এখনো আমার কানে বাজছে। কথাটা ছিলো "She is not my girlfriend ".তারপর সে আর কিছু না বলে রুমে গিয়ে রেডি হয়ে বাইরে চলে যায় । আমি তখনো সেখানে ঠাই বসে থাকি। দরজা লক করার আওয়াজে বাস্তবে ফিরে আসি।মনে আছে সেদিন ধূসর যাওয়ার সাথে সাথে হাত ধূয়ে রুমে এসে অনেকক্ষণ নাচানাচি করি। নিজেকে তখন ধূসর এর প্রেমে পাগল মনে হচ্ছিল। আমার জায়গায় অন্যকেউ হলে হাজারটা প্রশ্ন করতো কিন্তু আমি কিছুই বলিনি। আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট ছিলো
যে ধূসরের জীবনে আর কেউ নেই। অতি আনন্দে সেদিন রান্না করতেই ভুলে গিয়েছিলাম। ধূসর বাসায় এসে ফ্রেশ হতে যখন ওয়াশরুমে যায় তখন আমার মনে পড়ে আয় হায় আমি তো কিছুই রান্না করিনি। এখন দূপুরে কি খাবে? রীতিমতো ভয়ে আমার হাত পা কাঁপা শুরু করেছিলো।কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। না জানি ধূসর কীভাবে রিএক্ট করবে তা ভেবে অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। কোনোরকম দৌড়ে গিয়ে একটু
নুডুলস করতে চেয়েছিলাম। ভাগ্য খারাপ থাকলে যা হয় তাই হয়েছিলো তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে কিচেনের একপাশে রাখা একগাদা কাঁচের প্লেট হাতে লেগে ভেঙে যায়। আমি তাড়াহুড়া করে নীচে পড়ে থাকা ভাঙা প্লেটের টুকরো পরিষ্কার করছিলাম যেন ধূসর রেগে না যায়। ধূসর আওয়াজ শোনে কিচেনে চলে আাসে। আমি উপরে মুখ তুলে তাকাবার সাহস পাচ্ছিলাম না। কাঁচের টুকরো পরিষ্কার করছিলাম আর ধূসরের পায়ের দিকে তাকিয়েছিলাম।এক পা দুপা করে ধূসর আমার দিকে এগিয়ে আসছিলো, ভয়ে সেদিন আমার মনে হচ্ছিলো যম আমার দিকে এগিয়ে আসছিলো। খুব অবাক করে দিয়ে ধূসর সেদিন আমার পাশে বসে আমার সাথে প্লেটের টুকরোগুলো পরিষ্কার করে সেখান থেকে বেড়িয়ে যায়। আমি উঠে নুডুলস রান্না করতে থাকি। নুডুলস রান্না করে টেবিলে রাখতেই দেখি ধূসর অনেকগুলো খাবারের প্যাকেট নিয়ে এসেছে। প্যাকেটগুলো খুলে প্লেটে নিয়ে খেতে শুরু করে আর বাকি দুইটা প্যাকেট আমার দিকে এগিয়ে দেয়। আমি খাওয়া শুরু করছি না দেখে ধূসর সেদিন বলেছিলো, দেখো তোমাকে কোনো রান্নাবান্না করতে হবে না, আমি বাইরে থেকেই কিনে আনবো খাবার। আর একজন মেইড এর জোগাড়ও হয়ে গেছে কাল থেকে আসবে।
আমি বলেছিলাম কোনো প্রয়োজন নেই, আজকে ভুল হয়ে গেছে তাই সরি। এখন থেকে সময়মতো রান্না করবো। আর মেইড কেনো লাগবে?তেমন কোনো কাজতো দেখছিনা।এটাতো আর বাংলাদেশ না যে কাজের লোক রাখবেন। বিদেশে মানুষ তেমন একটা কাজের লোক রাখেনা। ধূসর উত্তর দিয়েছিলো আমার টাকার অভাব নেই। তোমার পরিবারকে বুঝতেই হবে যে তাদের মেয়ে এখানে রাজরানী হয়ে আছে।
আমি কিছু বলতে যাবো তখনই আমাকে থামিয়ে দিয়ে আবার বলতে শুরু করে,তোমার স্বাতী আপুকে বুঝতেই হবে সেদিন তার বলা কথাগুলো যে সে কতোটা ভুল ছিলো।আচ্ছা তোমার স্বাতি আপুর সাথে তোমার যোগাযোগ আছে?আমি কোনোরকম না বলেই সেখান থেকে উঠে আসি। রকিং চেয়ারটায় বসে চোখ বন্ধ করে আমার জীবনের সবচেয়ে অন্যরকম দিনটার কথা মনে করতে থাকি আর চোখের জল বিসর্জন দিতে থাকি হ্যা সেদিনটার কথা যেদিন ধূসরের সাথে আমার প্রথম দেখা হয়।
চলবে..
মাতাল হয়ে কলিংবেল চাপতে থাকে। আমি দরজা খুললে দেখতে পাই এক সেনালীকেশী নীল চোখের এক মেয়ে তাকে কোনোরকম ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি সেদিন স্তব্ধ হয়ে যাই। মেয়েটা ধূসরকে আমার কাছে দিয়ে চলে যায়। সেদিন সারা রাত আমি ঘুমোতে পারিনি। সকালে ধূসর যখন ঘুম থেকে উঠে তাকে কিছু বলতেও পারিনি। জানিনা কেনো? মনে হয় একটু বেশিই ভালোবেসে ফেলেছিলাম তাই। সেদিন ধূসর ডাইনিং এ ব্রেকফাস্ট করে নিঃশব্দে। এমনিতেও সে আমার সাথে আগ বাড়িয়ে কোনোদিন কথা বলতো না। আর আমিও বলতাম না কারণ ভয় হতো সে যদি আমাকে গায়ে পড়া স্বভাবের মনে করে তাই। আমি জানি আপনজনদের কাছে মেয়েরা হতে চায় অর্ঘতুল্য। আর আমিও একটা মেয়ে। একারণে তার কাছে নিজেকে সহজলভ্য বানাতে চাই না। রাতের কথা মনে করে আমার গলা দিয়ে খাবার নামছিলো না। হঠাৎ গলায় খাবার আটকে যায়, কাশতে শুরু করি। ধূসর পানির গ্লাসটা এগিয়ে দিলে সেটা আমি একবারে পুরোটা শেষ করে ফেলি। তারপর আর আমাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। তবে ধূসর ব্রেকফাস্ট শেষে শুধু একটা কথা বলে যেটা এখনো আমার কানে বাজছে। কথাটা ছিলো "She is not my girlfriend ".তারপর সে আর কিছু না বলে রুমে গিয়ে রেডি হয়ে বাইরে চলে যায় । আমি তখনো সেখানে ঠাই বসে থাকি। দরজা লক করার আওয়াজে বাস্তবে ফিরে আসি।মনে আছে সেদিন ধূসর যাওয়ার সাথে সাথে হাত ধূয়ে রুমে এসে অনেকক্ষণ নাচানাচি করি। নিজেকে তখন ধূসর এর প্রেমে পাগল মনে হচ্ছিল। আমার জায়গায় অন্যকেউ হলে হাজারটা প্রশ্ন করতো কিন্তু আমি কিছুই বলিনি। আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট ছিলো
যে ধূসরের জীবনে আর কেউ নেই। অতি আনন্দে সেদিন রান্না করতেই ভুলে গিয়েছিলাম। ধূসর বাসায় এসে ফ্রেশ হতে যখন ওয়াশরুমে যায় তখন আমার মনে পড়ে আয় হায় আমি তো কিছুই রান্না করিনি। এখন দূপুরে কি খাবে? রীতিমতো ভয়ে আমার হাত পা কাঁপা শুরু করেছিলো।কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। না জানি ধূসর কীভাবে রিএক্ট করবে তা ভেবে অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। কোনোরকম দৌড়ে গিয়ে একটু
নুডুলস করতে চেয়েছিলাম। ভাগ্য খারাপ থাকলে যা হয় তাই হয়েছিলো তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে কিচেনের একপাশে রাখা একগাদা কাঁচের প্লেট হাতে লেগে ভেঙে যায়। আমি তাড়াহুড়া করে নীচে পড়ে থাকা ভাঙা প্লেটের টুকরো পরিষ্কার করছিলাম যেন ধূসর রেগে না যায়। ধূসর আওয়াজ শোনে কিচেনে চলে আাসে। আমি উপরে মুখ তুলে তাকাবার সাহস পাচ্ছিলাম না। কাঁচের টুকরো পরিষ্কার করছিলাম আর ধূসরের পায়ের দিকে তাকিয়েছিলাম।এক পা দুপা করে ধূসর আমার দিকে এগিয়ে আসছিলো, ভয়ে সেদিন আমার মনে হচ্ছিলো যম আমার দিকে এগিয়ে আসছিলো। খুব অবাক করে দিয়ে ধূসর সেদিন আমার পাশে বসে আমার সাথে প্লেটের টুকরোগুলো পরিষ্কার করে সেখান থেকে বেড়িয়ে যায়। আমি উঠে নুডুলস রান্না করতে থাকি। নুডুলস রান্না করে টেবিলে রাখতেই দেখি ধূসর অনেকগুলো খাবারের প্যাকেট নিয়ে এসেছে। প্যাকেটগুলো খুলে প্লেটে নিয়ে খেতে শুরু করে আর বাকি দুইটা প্যাকেট আমার দিকে এগিয়ে দেয়। আমি খাওয়া শুরু করছি না দেখে ধূসর সেদিন বলেছিলো, দেখো তোমাকে কোনো রান্নাবান্না করতে হবে না, আমি বাইরে থেকেই কিনে আনবো খাবার। আর একজন মেইড এর জোগাড়ও হয়ে গেছে কাল থেকে আসবে।
আমি বলেছিলাম কোনো প্রয়োজন নেই, আজকে ভুল হয়ে গেছে তাই সরি। এখন থেকে সময়মতো রান্না করবো। আর মেইড কেনো লাগবে?তেমন কোনো কাজতো দেখছিনা।এটাতো আর বাংলাদেশ না যে কাজের লোক রাখবেন। বিদেশে মানুষ তেমন একটা কাজের লোক রাখেনা। ধূসর উত্তর দিয়েছিলো আমার টাকার অভাব নেই। তোমার পরিবারকে বুঝতেই হবে যে তাদের মেয়ে এখানে রাজরানী হয়ে আছে।
আমি কিছু বলতে যাবো তখনই আমাকে থামিয়ে দিয়ে আবার বলতে শুরু করে,তোমার স্বাতী আপুকে বুঝতেই হবে সেদিন তার বলা কথাগুলো যে সে কতোটা ভুল ছিলো।আচ্ছা তোমার স্বাতি আপুর সাথে তোমার যোগাযোগ আছে?আমি কোনোরকম না বলেই সেখান থেকে উঠে আসি। রকিং চেয়ারটায় বসে চোখ বন্ধ করে আমার জীবনের সবচেয়ে অন্যরকম দিনটার কথা মনে করতে থাকি আর চোখের জল বিসর্জন দিতে থাকি হ্যা সেদিনটার কথা যেদিন ধূসরের সাথে আমার প্রথম দেখা হয়।
চলবে..




0 Comments: