২ বছরে ১২ বার বাচ্চা মিসকিউরেজ হয়েছে। কেন এমন হচ্ছে জানি না।ডাক্তাররাও এর কোন হদিশ খুজে পাচ্ছে না।সাধারণত মিসকিউরেজ হওয়ার পর কনসিভ হতে দেড়ি হয়।আমি কেন এত তাড়াতাড়ি কনসিভ করতেছি আর আমার মিসকিউরেজ হচ্ছে তা আমি জানি না।এত অদ্ভূত ঘটনা কেন আমার সাথে ঘটতেছে তার কোন উত্তর আমার কাছে নেই।প্রতিটা মুহুর্তে শুধু ভিতরে ভিতরে জ্বলতেছি।





প্রতিবারেই মিসকিউরেজ হওয়ার আগে আমি অদ্ভূত একটা স্বপ্ন দেখি আর আমার প্রতিটা বাচ্চায় মিসকিউরেজ হয় সোমবার দিন আর রাত ঠিক ৩ টার দিকে।বিষয় টা প্রথম প্রথম নরমাল মনে হলেও এখন সেটা আর নরমাল মনে হয় না।মিসকিউরেজ এর আগে আমি স্বপ্ন দেখি যে, আমি একটা লাল টকটকে শাড়ি পরে নদীর ধারে বসে থাকি।হঠাৎ একটা ভেলা এসে আমার সামনে পড়ে।আমি কোনকিছু না ভেবেই সে ভেলাটার মধ্যে উঠে পড়ি।ভেলাটা ভাসতে ভাসতে একটা দ্বীপের মধ্যে এসে পড়ে।আমি দ্বীপটায় গিয়ে ভেলাটা থেকে নামি।জনশূন্য একটা দ্বীপ তবু ও কেন জানি না আমার ভয় লাগে নি ঐ দ্বীপটায়।কেন জানি না মনে হয় এটা আমার পূর্ব পুরুষের ভিটা।অদ্ভূত একটা মায়া অণুভব করি।দ্বীপের একটা সরু পথ দিয়ে একটা আলোর জলকানি এসে আমার চোখে পড়ে।আমি ঐ পথ ধরে হেঁটে চলেছি।হঠাৎ গন্তব্যে পৌঁছানোর পর একটা আলোর জলকানি আমার চোখটা ধাঁধিয়ে দিল মনে হচ্ছে।আমি পরক্ষনে চোখটা বন্ধ করে আবার খুললাম দেখলাম একটা চকচকে পাথর অনেকটা সাপের মনির মত দেখতে।আমি কিছু না ভেবেই পাথরটা হাতে নিলাম।ঠিক ঐ মুহুর্তে পাথরটা থেকে কি একটা বের হয়ে আমার পেটে ঢোকে আর আমার পেটে যন্ত্রনা শুরু হয়।আর উঠে দেখি আমার বেবিটা মিসকিউরেজ হয়ে গেছে।





কিন্তু আজকে হঠাৎ আবার একেই স্বপ্ন দেখলাম।কিন্তু এবার আমি পাথরটায় হাত দেওয়ার পর খেয়াল করলাম পাথরের আলোটা নিভে গেছে।সেটা থেকে কি যেন একটা পাতা বের হয়েছে কেউ একজন যেন আমাকে বলতেছে পাতাটা খাওয়ার জন্য।আমি পাতাটা খেলাম।পরক্ষনেই আমার পেটটা হালকা ফুলে যায়।আমি ঘুম থেকে উঠেই গড়গড় করে বমি করতে লাগলাম।আমার স্বামী আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার যা বলল আমি বিস্মিত না হয়ে পারলাম না।আমাকে বলা হলো আমার পেটে দুইমাসের বাচ্চা।অথচ আমার মিসকিউরেজ হয়েছে একমাস আগে।ডাক্তারও কিছুটা বিস্মিত হয়েছে।তবে ডাক্তার বলল হয়তো আমার পেটে জমজ বাচ্চা ছিল একটা মিসকিউরেজ হয়েছে আর একটা রয়ে গেছে।মেডিকেল সাইন্স এ এমন ঘটনা খুব কম ঘটে।তবে এটা অস্বাভাবিক কিছু না।এ কথাটা শোনার পর একটু স্বস্তির নিঃশ্বাষ ফেললাম।





যাইহোক আমি খুব খুশি যে আমার একটা বাচ্চা হবে।যেমনেই হোক আমার একটা বাচ্চা হলেই হবে।খুশি মনে বাসায় ফিরলাম।আজকে এতটা খুশি লাগছে কি বলব।নিজের যত্ন নেওয়া শুরু করলাম।কিন্তু ইদানিং আমার খুব দুধ খাওয়ার প্রতি জোক বেড়ে যায়।যে আমি কোনদিন দুধ খেতে পারতাম না সে আমি এখন সারাদিন দুধ খাই।হয়তো আমার বাচ্চাটা এটা পছন্দ করে।কিন্তু তিন মাসেই আমার পেটটা অস্বাভাবিক ভাবে বড় হয়ে যায়।ডাক্তার আল্টা করার পর যা বলল আমি অনেকটা অবাক না হয়ে পারলাম না।ডাক্তার বলল যে আমার পেটে বাচ্চা মোটামোটি তিনমাসে ম্যাচুউর হয়ে গেছে আগামি মাসেই ডেলিভারি করে বাচ্চা বের না করলে বাচ্চার ঝুঁকি আসতে পারে।





আমি জানতাম সবার বাচ্চা হয় ১০ মাসে আর আমার বাচ্চা হচ্ছে ৪ মাসে।ডাক্তার ও হতভম্ব ওনার লাইফে ওনি এ প্রথম এমন ঘটনা দেখেছেন।কিন্ত কি করা, বাচ্চার ভালোর জন্য আমাকে তাই করতে হবে।





আজকে আমার ডেলিভারী করবে। জানি না কপালে কি আছে।রাতের স্বপ্নটা মনে পড়তেছে।গত রাতে স্বপ্ন দেখছিলাম একটা অদ্ভূত সুন্দরী মেয়ে এসে আমাকে জরিয়ে ধরে বলছে মা ঐ পাথরটা আমার মাথায় পড়িয়ে দাও।মেয়েটার মুখে এত মায়া ছিল আমি পাথরটা নিয়ে ওর মাথায় পড়িয়ে দিলাম।পড়ানোর সাথে সাথে মেয়েটার রূপের জলকানিতে যেন সব কিছু জলসে গেল।আমি ঘুৃম থেকে খপ করে উঠলাম।দেখলাম আমার হালকা পেট ব্যাথা করছে।ডাক্তারকে ফোন দেওয়ার পর সাথে সাথে যেতে বলল।আমাকে আল্ট্রা করার পর বলল এখনেই বাচ্চা বের করতে হবে না হয় বিপদ হতে পারে।একটু পর আমাকে ওটিতে নিয়ে যাবে জানি না কি আছে ভাগ্যে।আমি কি আমার বাচ্চার মুখ দেখতে পারব নাকি পারব না।এতটা অসহায় এর আগে কখনও লাগে নি।প্রতিটা মুহুর্তে শুধু কষ্ট লাগতে লাগল।





অবশেষে আমার ডেলিভার হলো।কিন্তু ডেলিভারের সময় আমি এমন কেন দেখলাম।এটা কি আমার মনের ভুল নাকি অন্য কিছু।আমি দেখলাম দুইজন নার্স যারা আমাকে ডেলিভারীর সময় ইনজেকশন দিয়েছিল তারা আমার বাচ্চা হওয়ার পর চলে যায়।কিন্তু দরজার সামনে গিয়ে দুইজনেই দুইটা সাপ হয়ে যায়।আমি তো ভয়ে আৎকে যাই।নাহ হয়তো আমার মনের ভুল।আমার সাথে এত কিছু ঘটছে তাই আমি এমন ভাবছি।





জানতে পারি আমার একটা মেয়ে সন্তান হয়েছে।আর ওজন নাকি ৬ কেজি হয়েছে।এত অল্প সময়ে বাচ্চা এত ম্যাচুউর কেমনে হল জানি না।আর কিছুক্ষন পরেই বাচ্চাকে আমার কাছে দেওয়া হবে।





অবশেষে আমার বাচ্চাকে আমার কোলে দেওয়া হলো।আমার স্বামী তো আমার বাচ্চাকে দেখে বলল।এ কার মত হয়েছে আমাদের মধ্যে কেউ তো এত সুন্দর না।কি মায়া ওর মুখে।আজকে থেকে ওর নাম মায়া।নামটার সাথে আমিও একমত হলাম।এত ফুটফুটে একটা বাচ্চা হবে কল্পনার বাইরে।কিন্ত যখন মায়া চোখ খুলল তখন খেয়াল করলাম চোখ গুলা যেন….





নাগরানী





১ম পর্ব





(ব্ল্যাক ভাইরাস গল্পটি লেখা হয়নি।
তবে খুব তারাতারি দিয়ে দিবো)


0 Comments: