সৃষ্টির সেরা জীব কুত্তা বিলাইরও সমকক্ষ নয়….

সৃষ্টির সেরা জীব কুত্তা বিলাইরও সমকক্ষ নয়….


সৃষ্টির সেরা জীব কুত্তা বিলাইরও সমকক্ষ নয়….





"জীবজন্তুরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্বিপাকের আগাম সংকেত পায়, যা মানুষ পায়না"- বিজ্ঞানীরাই এই স্বীকৃতি দিয়েছে। তারপরও "মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব" এটা আসলে আমরাই আমাদেরকে মহিমান্বিত করার জন্য বলি।





পাখির সন্তান পাখিই হয়, ককুকুরের বাচ্চা কুকুর হয় কিন্তু মানুষের বাচ্চা হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান আরও ডিটেলে ব্রাহ্মণ, কায়স্ত, শিয়া, সুন্নি, প্রোটেষ্টাইন, ক্যাথলিক হয়! কারণ মানুষের সন্তান শুধুই মানুষের মতো হলে সে প্রকৃতিতে তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখবে কি করে! বিশ্ব-চরাচরের স্রষ্টা যখন তাঁর সৃষ্টি কর্ম করেছিলেন তখন প্রকৃতির প্রতিটি বিষয়ের মধ্যে এক সুন্দর ভারসাম্য স্থাপন করেই দিয়েছিলেন। সেই ভারসাম্য ধ্বংস করেছে 'সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ'!





মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীকুল প্রকৃতির বেঁধে দেওয়া নিয়মের মধ্যেই থাকে। তাই তাদের কোন অসুবিধে নেই। তাদের ব্যাংক একাউন্ট নাই, মোবাইল নাই, গাড়ি নাই, ক্যাসিনো ব্যাবসা নাই। তারা বিন্দাস।
প্রাণী জগতে একমাত্র মানুষই দাঁত মাজে, ডেন্টিষ্টের কাছে যায়। তবুও শেষ বেলায় মানুষকে দাঁত বাঁধাতে হয়। বাকিদের দাঁতের রোগ তেমন একটা হয় না, প্রেশার, সুগার, কোলেষ্টেরল ইত্যাদি সমস্যাই নেই। যখন তাদের কোন কারণে শরীর বিগড়ায় প্রকৃতিতে স্বয়ংক্রিয় বা সেই বেঁধে দেওয়া সিস্টেমেই তার সমাধানও হয়ে যায়। প্রকৃতির বেঁধে দেওয়া সিস্টেমের ফলে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার দ্বারা এটা হয়। জীবজন্তুরা প্রকৃতিতে এভাবেই টিকে থাকে। আমরা তাদের উপায়টাকে বুঝতে পারিনা, কারণ "আমরা শ্রেষ্ঠ জীব"! স্তন্যপায়ী প্রাণীকুলে সন্তান জন্ম নিলে মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণী-মা কিন্তু হাতে করে নিজের স্তন সন্তানের মুখে পুড়ে দেয়না। মায়ের গোটা শরীরটার মধ্যে কোনটা স্তন সদ্যজাতকে কেউ কিন্তু শিখিয়ে দেয়না। সে কি করে মুহূর্তের মধ্যে সেটা চিনে নিয়ে মুখ দেয়! ব্যবস্থাটা সেই স্বয়ংক্রিয়!!





মানুষ নিজেই ঘোষণা করলো তাদের অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় আছে, বুদ্ধি আছে। তাই মানুষ প্রাণীকুলের শ্রেষ্ঠ জীব। নিজেদের শ্রেষ্ঠতার পরিমাপে নিজেদের মধ্যে ‘পণ্ডিত’ আর ‘মূর্খ’ দুটো ক্যাটাগরিও তৈরি করেছে। সেই নিরিখে নিজের সৃষ্ট সমাজ ব্যবস্থায় নানান বিভাজনের শুরু। মানুষের এই বুদ্ধি প্রকৃতি অন্যান্যদের নিরিখে আসলে ‘দুর্বুদ্ধি’ ছাড়া কিছুই নয়। মানুষ নিজের বুদ্ধিকে বিজ্ঞান নাম দিয়েছে। সেই বিজ্ঞান মানুষের নানান ‘কাজে’ লাগছে, কিন্তু কতটা ‘কল্যাণে’ লেগেছে সেটা তর্কের বিষয়। আধুনিক, উচ্চ-শিক্ষিত, বিজ্ঞান নির্ভর মানুষ এখনও ভেবে অবাক হয় কি করে শত শত বছর আগে মানুষ জ্যোতির্বিদ্যার মাধ্যমে গ্রহণ, অমাবস্যা, পূর্ণিমা নিরূপণ করতো! কি করে পাথরের ওপর পাথর বসিয়ে কারুকার্য মণ্ডিত সুউচ্চ পিরামিডের মতো স্থাপত্য নির্মাণ করতো! কিভাবে তৈরী করেছিল ব্যাবিলনের শুন্য উদ্যান!





সমুদ্র গর্ভের প্রাণীকূল কিংবা গাছের ডালে, কোটরে পাখি আপনিই ঘুমোয়। ঘোড়াতো দাড়িয়ে দাঁড়িয়েই ঘুমায়। শুনেছেন কেউ মানুষ ছাড়া অন্যকোনো প্রাণীদের ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমায়? বিজ্ঞান মানুষকে অনেক কিছু দিয়েছে, তবুও তাকে ঘুম কিনতে হয়!





সৃষ্টির সেরা জীব তকমায় মানুষ যতটা ভালো কাজ করেছে তার চাইতে বহুগুণ বেশী অপকর্ম করেছে তাবৎ সৃষ্টি কূলের জন্য।।


0 Comments: