স্বামী-স্ত্রী মিলে একটা চাইল্ড কেয়ার ও বৃদ্ধাশ্রম চালায়, কোন সরকারি সাহায্য নেই, এই লকডাউনে কেউ খোঁজ নেয় নাই, পারলে হেল্প কইরেন।

স্বামী-স্ত্রী মিলে একটা চাইল্ড কেয়ার ও বৃদ্ধাশ্রম চালায়, কোন সরকারি সাহায্য নেই, এই লকডাউনে কেউ খোঁজ নেয় নাই, পারলে হেল্প কইরেন।

বিকেলে একটা অপরিচিত নাম্বারের কল পেলাম। বললো, ভাই আপনি অনেককেই হেল্প করছেন, কল্যাণপুরে স্বামী-স্ত্রী মিলে একটা চাইল্ড কেয়ার ও বৃদ্ধাশ্রম চালায়, কোন সরকারি সাহায্য নেই, এই লকডাউনে কেউ খোঁজ নেয় নাই, পারলে হেল্প কইরেন।

নাম্বার (+8801620-555222) নিয়ে তৎক্ষনাৎ কথা বললাম পরিচালক মিল্টন সমাদারের সাথে। ঘন্টাখানেক পর গেলাম সেখানে, সরেজমিনে দেখে আসলাম হতভাগ্য ৭২ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও ৮ জন অভিভাবকহীন অসুস্থ প্রতিবন্ধী শিশুদের। যাদের দেখভাল বা খোঁজ নেয়ার একদম কেউ নেই, এখানে মূলত তাঁদেরই জায়গা হয়।

সন্তান পরিত্যাক্ত অসহায় বাবা-মায়ের দৃষ্টির শূন্যতা আর কষ্টের কথা শুনলে চোখের পানি আটকাতে পারবেন নাহ! কলেজ শিক্ষক, ডাক্তার, উচ্চশিক্ষিত, অনেক সম্পদের মালিক ছিলো, অথচ শেষ বয়সে সন্তানরা আর দায়িত্ব নেয় না, খোঁজ নিচ্ছে না।

এক মায়ের পাঁচ সন্তান (৩ মেয়ে, ২ ছেলে) লন্ডন প্রবাসী, আর মাকে এক রাস্তায় ফেলে চলে গেছে, আরেক অসুস্থ বাবাকে পুরান ঢাকার বড় ব্যবসায়ী সন্তান বাড়ি লিখে নিয়ে কাওরানবাজার বরফ কলে ফেলে রেখে গেছেন, গাইবান্ধার এক বৃদ্ধ মায়ের জমি নিজেদের নামে লিখে নিয়ে মাকে ত্যাগ করেছে দুই অভাগা ছেলে... প্রায় প্রত্যেকেরই রয়েছে এমন হৃদয় বিদারক করুণ কাহিনী।

হায়রে হতভাগা সন্তান! যিনি জন্ম দিয়েছেন, কত কষ্ট-শ্রম-ঘামে বড় করেছেন.. যে মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত, যে বাবার সন্তুষ্টিতে স্রষ্টার সন্তুষ্টি, সেই অমূল্য ধন পিতামাতাকে কি নির্দয়ভাবে পরিত্যাগ করেছে!

উপহার হিসেবে ২ বস্তা চাল, ১ বস্তা ডাল, চিনি, পর্যাপ্ত সাবান, মাস্ক আর কিছু নগদ অর্থ দিয়ে এসেছি।

সেইসাথে ওখানকার একজন উপদেষ্টা সদস্য হিসেবেও নাম লিখিয়ে আসলাম, অনাগত আগামীতে সাধ্যমতো এই অসহায় বাবা-মা ও অভিভাবকহীন প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।

#ঠিকানাঃ চাইন্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার;
৪৬২, দক্ষিণ পাইকপাড়া, কল্যাণপুর, মিরপুর।

0 Comments: