সিঙ্গাপুরে লকডাউনে থাকা অভিবাসীরা নির্ঘুম রাত পার করছে।

সিঙ্গাপুরে লকডাউনে থাকা অভিবাসীরা নির্ঘুম রাত পার করছে।



দ্বীপ রাজ্যে সিঙ্গাপুরে গত কয়েকদিন যাবত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তবে সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো এখন অভিবাসীরা ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে৷

এরমধ্যে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে চলেছে। প্রথম একমাস ৫ জন বাংলাদেশী করোনায় আক্রান্ত ছিলো। এরপর হঠাৎ বাংলাদেশীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে৷

গত ৪ ঠা এপ্রিল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৪ জন। গত দুইদিনে অনেক অভিবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় জানি না তাদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশী। অন্যান্য দিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোন আক্রান্ত ব্যক্তিদের জাতীয়তা উল্লেখ্য করে কিন্তু দুইদিন যাবত তারা মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশ করলেও কোন দেশের কতজন তা প্রকাশ করছে না।

তবে স্থানীয়ভাবে আক্রান্তদের বেশীরভাগ বিভিন্ন ডরমিটরিতে অবস্থান করে।তাই সিঙ্গাপুর জনশক্তি মন্ত্রনালয়ে অভিবাসীদের নিরাপত্তা প্রদানে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে।

দুটি ডরমিটরকে সরকারিভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।তাছাড়া অনেকগুলো ডরমিটরি স্বেচ্ছায় লকডাউন ঘোষণা করে অভিবাসীদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। এখন বলা চলে সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের জন্য চলছে দু:সময়। এইসময় সবার উচিত নিজেদের শক্ত রাখা। মানসিক শক্তি হারানো যাবে না।

আমি গত দুইদিনে কয়েকটি ডরমিটরিতে অবস্থানরত অভিবাসীদের সাথে কথা বলেছি৷ তাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে সিঙ্গাপুরে প্রবাসীরা খুবই ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় আছেন।অনেকের মুখ দিয়ে কথাই বের হচ্ছে না৷

পংগল S11ডরমিটরির বাংলাদেশী নিজামুল হক বলেন, ভাই আমার দু'চোখে ঘুম আসে না। দেশে পরিবারের চিন্তা আবার এদিকে সিঙ্গাপুরের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আমার এক রুমমেট করোনায় পজিটিভ তাই আরো ভয়ে আছি। আমাকে এখন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এখন ভয় হচ্ছে, এই শেষ বিপদের সময় পরিবারের কারো দেখা পাবো না। কোন কারনে আমি যদি মারা যাই তাহলে তারা আমার লাশও দেখতে পাবে না।তার কথা শুনে খুবই ব্যথিত হই।

তুগান ওয়েস্টলাইট একজনের সাথে কথা বলে জানতে পারি, তিনিও করোনায় পজিটিভ এমনকি তার রুমের দশজন করোনায় পজিটিভ। সে আমাকে বলে, ভাই ২৬ শে মার্চ আমার সর্দি-জ্বর হয় আমি ডাক্তার না দেখিয়ে জ্বরের ট্যাবলেট খেয়ে বাসায় ঘুমিয়ে থাকি৷ বিকেলে সুস্থবোধ করি৷

কিন্তু ২৭ তারিখ সকালে আবারো জ্বর আসে৷ বসকে বলে ছুটি নিয়ে বাসায় বিশ্রাম নেই৷ বিকেলের দিকে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার ঔষধ দেয়৷ ঔষধ খেয়ে সুস্থবোধ করি। তার দুইদিন পর আমার রুমের একজন সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়৷ সে ডাক্তার দেখালে ডাক্তার তার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করে পজিটিভ পায়।

সে করোনায় পজিটিভ শুনে আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। ২ ই এপ্রিল রুমের সবার টেস্ট করা হয় এবং সবাই করোনায় পজিটিভ হয়৷ আমাদের জন্য দোয়া করবেন এখন আমরা সবাই ভালো আছি৷ তাকে শান্তনা দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেই৷

তুগান ওয়েস্টলাইট ডরমিটরির লকডাউনে থাকা বাংলাদেশী মোবারক শিকদার বলেন, সিঙ্গাপুর সরকার আমাদের ভালোর জন্য আমার ডরমিটরি লকডাউন ঘোষণা করেছে এমনকি প্রতিদিন রুমে সময়মতো খাবার দিয়ে যাচ্ছে৷ তাই সিঙ্গাপুর সরকারকে আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

পংগল S11 ডরমিটরিতে অবস্থান করা একজন বলেন, আমাদের জনশক্তি মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে খাবার সরবরাহ করছে। তারা আমাদের জন্য যথেষ্ট ভালো উদ্যোগ নিয়েছে তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই৷ 

0 Comments: