সার্কিট ব্রেকারঃ চতুর্থ দিন
ছবিঃ মসজিদ আব্দুল গফুর, সিঙ্গাপুর ( পুরনো ফাইল থেকে নেওয়া ) 


আজ ছিলো পবিত্র শুক্রবার। মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র দিন। এই দিনে সাধারণত মসজিদগুলোয় ঈদের আমেজ লক্ষ করা যায়। কিন্তু সারা বিশ্বে এখন করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সিঙ্গাপুরও এর ব্যাতিক্রম নয়। ধর্মীয় উপাসনালয় থেকেও করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে এই নোটিসে সিঙ্গাপুর সরকার আজ একমাসের উপরে হলো মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সকল উপাসনালয় বন্ধ ঘোষনা করেছে। কয়েক মাস আগেও যেই মসজিদ গুলোয় লোকে লোকারণ্য ছিলো সেখানে আজ তালা ঝুলছে। তাই অনেক মুসুল্লিকে ঘরের ভিতর নামাজ আদায় করতে দেখলাম।

আজ চারদিন পর কিছু শুকনো খাবার কেনার জন্য ডরমিটরি থেকে কিছু দূর একটি দোকানে গিয়েছিলাম। চারদিকে থমথমে অবস্থা। রাস্তাঘাটে কোন গাড়ি চলাচল চোখে পড়েনি। হয়তো আমার এলাকাটা মূল শহর থেকে ভিতরে থাকায় মানুষের যাতায়াত নেই। কিন্তু অন্যান্য সময় এই একই রাস্তায় বাস, লরি, টেইলারের একটা ভীর লেগেই থাকে। আশেপাশে কিছু ডরমিটরি থেকেও লোকজনকে খুব একটা বের হতে দেখলামনা। আমার ধারনা সিঙ্গাপুর সরকারের এই সার্কিট ব্রেকার সিদ্ধান্তকে সবাই সাধুবাদ জানিয়ে মেনে নিয়েছে। তাছাড়া মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। প্রতিদিন যে হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে আরো একমাস আগে বন্ধ দিলে প্রবাসীরা হয়তো আরো বেশী খুশী হতো।

তবে আজ বিকেলে সিঙ্গাপুর প্রাইম মিনিস্টার যেই বক্তব্য দিয়েছেন এতে প্রবাসীদের আতংক অনেকটা কমে যাবে। পিএম তার বক্তব্যে প্রবাসীদের বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। শ্রমিকদের এই বন্ধের সময় থাকা, খাওয়া এবং বেতন পরিশোধে আস্বস্ত করেন। এখন কথা হলো কোম্পানি তার শ্রমিকদের প্রতি কতটা উদার হয় এটাই দেখার বিষয়!

আজও স্বাস্থ মন্ত্রনালয় থেকে করোনা ভাইরাসের যেই আপডেট প্রকাশিত হয়েছে তা আমাদের জন্য দুঃখজনক। ১৯৮ জন! জানিনা এর মধ্যে কতজন বাংলাদেশী শনাক্ত হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে আমাদের জন্য বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। ( চলবে ) 

0 Comments: