হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (রঃ)-এর অনুগ্রহে সৃষ্ট ওলীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে হযরত আকদাছ (রঃ)-এর স্বাধীন বেলায়ত সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে দ্রুত প্রসার লাভ করে। ওলীদের অনুসরণে ক্ষুদ্রজ্ঞানী মানবকুল অতি সহজে সত্যালোকের সন্ধান লাভ করতে সক্ষম হয়। বস্তুতঃপক্ষে এ সকল ওলীরাই হলেন সত্য ও অসত্যের, অন্ধকার ও আলোকের, সুপথ ও কুপথের সংগ্রামে হযরত আকদাছ (রঃ) এর প্রথম সেনাবাহিনী। মহান আল্লাহতাআলার প্রম-দপ্তরে বদর যুদ্ধে বীর সাহসী মোজাহেদ শহীদ ও গাজী সেনানীর মত তাঁদের নাম লিপিবদ্ধ থাকবে। এ সকল ওলীদের প্রেম অভিযানের ফলে লক্ষ লক্ষ পথহারা মানুষ খোদা পথের সন্ধান লাভে ধন্য হয়েছে। অবশ্য যযরত আকদাশ (কঃ) কেবলমাত্র এলেমধারী আলেমবৃন্দকে প্রেম-সম্পদ বিলাতে কিংবা অহংকারী আলেমদের এলেম-গর্ব চূর্ণ করে প্রেমের জলে অবগাহন করাতে এ ধরাধামে অবতীর্ণ হননি। যারা খোদা তত্ত্বে সর্বাঙ্গীন অন্ধ, যারা সংসার চক্রের মায়াজালে বন্দী, ধন-সম্পদের মোহে যারা বিভোর, স্রষ্টা ও পরকালের কথা যারা সম্পূর্ণ ভুলে বসেছে তাদের সকলের হৃদয়ে খোদায়ী প্রেমাগ্নি প্রজ্বলিত করার জন্যই তিনি ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর দুর্দমনীয় মহাশক্তির আকর্ষনে দূরদূর্ন্ত থেকে জ্ঞান-পিপাসু খোদা পাগল লোকেরা হযরত আকদাছ (কঃ) এর পানে পতঙ্গের মত ছুটে এসেছিল এবং তাঁর প্রেমাগুনে দগ্ধ হয়ে ওলী, হাদী প্রভৃতিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা নিবাসী চিওড়া কাজী বাড়িল নওয়াব মীর মোশাররফ হোসাইন সাহেব ও মরহুম শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক সাহেবের ঘটনাদ্বয় উল্লেখ করা সমীচিন মনে করছি। নওয়াব মীর মোশাররফ হোসাইন সাহেব হযরত আকদাছ (কঃ) থেকে রুহানী ফয়েজ লাভ করেছেন। হযরত বাবা ভন্ডারী (কঃ)-এর রওজা শরীফ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকালে এক বিশাল জলসায় নওয়াব সাহেব বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন যে তিনি নায়েবে আজিজ মিঞা মারফত প্রাপ্ত ডযরত আকদাছ (রঃ)-এর একখানা জুতা মোবারকের বদৌলতে বহু বিপদ থেকে পরিত্রাণ লাভ করেছেন। তিনি উক্ত জুতা মোবারক প্রতি সপ্তাহে আতর মাখিয়ে রাখতেন এবং বিপদের সময় হযরত আকদাছ (রঃ)-এর উছিলায় পরিত্রাণ লাভের জন্য খোদাতালার নিকট প্রার্থনা জানিয়ে সফলকাম হতেন। মরহুম শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক সাহেব ওকালতি পাশ করার পর হযরত আকদাছ (কঃ) সমীপে দোয়া চাইতে আসেন। তিনি একদিন প্রকাশ্যে জনসভায় বলেছিলেন, যতদিন হযরত মাইজভান্ডারী (রঃ) ও হযরত বোস্তামী (রঃ)-এর সুনজর তাঁর উপর বর্তমান থাকবে, ততদিন তাঁর মাথা নত হবে না এবং তাঁর জয় সুনিশ্চিত থাকবে। তিনি এ মহাপুরুষের শুভাশীষ কামনা করেন।
মাইজভান্ডারী দর্শনের প্রবর্তক হযরত গাউসুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (রঃ)-এর তিরোধানের পর মাইজভান্ডারী দর্শনের বিকাশ ধারা থেমে যায়নি। তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী হযরত গোলাম রহমান বাবা ভান্ডারী (রঃ), গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর গদীর উত্তরাধীকারী পৌত্র অছি-এ-গাউসুল আজম মওলানা শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (রঃ) ও শাহানশাহ হযরত জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (রঃ) মাইজভানডারী দর্শনের চুড়ান্ত বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন যার ফলশ্রুতিতে মাইজভান্ডারী দর্শন আজ একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন, মানব মুক্তির সহজলভ্য সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাছে ধরা দিয়েছে। মুক্তির বারতা শুনিয়ে যাচ্ছে অবিরত।




0 Comments: