এশার নামাজের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও,,,,

এশার নামাজের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও,,,,


এশার নামাজের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ইমাম সাহেব বসে আশেপাশে তাকাচ্ছেন। ঘটনা কি? সেই সময়ে মসজিদের দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো দুজন হাজ্বী। একজন সভাপতি, অন্যজন ক্যাশিয়ার। ওনারা সবার শেষে এসে অন্যান্য মুসল্লিদের এক প্রকার ডিঙ্গিয়ে সামনের কাতারে ইমাম হুজুরের পিছনে দাড়াতেই সামনের কাতার হতে দুজন পেছনে চলে এলো।





মুয়াজ্জিন দাড়িয়ে ইকামত দিতে শুরু করলো। ইমাম দাড়িয়ে গেলেন। বোঝা গেল এতক্ষন সভাপতি সাহেবের অপেক্ষা করছিলেন তিনি!





ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসেছিল সবাই, ইকামত শুরু হতেই সকলে কাতারবন্দি হয়ে দাড়াল। তিন কাতার মানুষ। তিন কাতারে তেত্রিশটা ফ্যান, আর ইমাম হুজুরের মাথার উপর একটা, এই চৌত্রিশটা ফ্যান ঘুরছে। শন শন, ক্যাচ ক্যাচ শব্দে মসজিদ ঘরটা শব্দের কারখানায় পরিনত! মুয়াজ্জিনের কন্ঠের ইকামত ফ্যান ঘোরার শব্দে হারিয়ে যায়, মুসল্লিরা শুনতে পায় না।





দ্বিতীয় কাতারে একটা ছোট ছেলে দাড়িয়ে ছিল, একজন তাকে হাত দিয়ে পেছনে সরিয়ে দেয়। বলে, এ তুই সামনে কেন? যা পেছনে যা! ছোট ছেলে ঠিক বুঝতে পারে না তার অপরাধ কি? পেছনের কাতারে চলে যায় মন খারাপ করে। লোকটা বিড়বিড় করে, কেন যে এ বাচ্চা গুলো মসজিদে আসে! লোকটা পেছন হতে একজন কে ডেকে নিয়ে কাতার পূর্ণ করে।





ইমামের মুখের কাছে মাইক্রোফোন লাগানো। ইকামত শেষ হতেই ইমাম হুজুর আল্লাহু আকবার বলে হাত বাধেন। সাউন্ডসিষ্টেম এ সে আল্লাহু আকবার ধ্বনি শোনা গেলেও তা ঠিক বোধগম্য নয়, সাউন্ডসিষ্টেমে সসস্যা থাকায়। তবুও মুসল্লিরা হাত বাধেন। বোধগম্য না হলেও তারা বোঝেন।





চার রাকাত ফরজ নামাজ। দুই রাকাতের পর বৈঠকেই ইমাম সাহেব নামাজের ইতি টানেন, মনের ভুলে। ডান কাধে সালাম ফেরাতেই পেছন হতে দুজন লোকমা দিয়ে আল্লাহু আকবার বলে দাড়িয়ে যায়। তাদের সাথে সাথে আরো বেশ কজন দাড়ায়। ফ্যান ঘুরছে, শন শন ক্যাচ ক্যাচ। ইমাম সাহেবের কন্ঠে সে আল্লাহু আকবার ধ্বনি পৌছায় না। মুসল্লিদের কারো মুখের কাছে তো আর মাইক্রোফোন নেই! যথারীতি তিনি বাম কাধে সালাম দিয়ে নামাজ শেষ করেন।





শুরু হয় গুঞ্জন। দু চারজন চিৎকার করে ওঠে। হাজ্বি সাবের গলা শোনা যায়, আপনারা কেউ লোকমা দিতে পারেন নি? অথচ উনিই ছিলেন ইমামের কাছাকাছি! হৈ চৈ শুনে মনে হয়, মসজিদ নয়, মাছের বাজার!





ইমাম সাহেব কথা না বলে আবার দাড়িয়ে আল্লাহু আকবার বলে হাত বাধেন। গুঞ্জন থামে। সকলেই হাত বাধেন। হাত বাধলে আর কথা বলা যায় না, তাই সকলে চুপ, শুধু ইমাম সাহেব পড়েন, ইহ্ দিনাস সিরাতুল মুসতাকিম…





ফরজ সালাতের পর দু রাকাত সুন্নত শেষে শুরু হয় তারাবি । ইমাম সাহেব পিছনে আসেন। একজন ছেলে ইমামের স্থানে দাড়ায়। ছেলেটা হাফেজ। খতম তারাবি। তাই তার সাথে চুক্তি হয়েছে। সাতাশ দিনে সে কুরআন খতম দিবে তারাবিতে। বিনিময়ে সে পাবে সাত হাজার টাকা।





হাফেজ হলেও, ছেলেটার বয়স কম। এই বয়সের ছেলেদের প্রায়ই দেখা যায় তাদের ফোনে পর্ণ । তারা বন্ধুত্বের আড্ডায় গালি দেয়। এ খবর মুরুব্বিরা না রাখলেও তাদের বোঝা উচিৎ ছিল। ছেলেটার পিছে তারাবি পড়ার চেয়ে একজন মুরব্বি হুজুরের পিছনে নামাজ আদায় করার গুরুত্ব বেশি।





চুক্তির নামাজ। ছেলেটা শুরু করে তেলোয়াত। পিছনে দাড়ানো মুসল্লিরা সানা শেষ না করতেই হাফেজের ফাতিয়া পাঠ শেষে অন্য সূরার সাত আট আয়াত শেষ। মাঝে মাঝে দু এক আয়াতের টান ছাড়া কুরআন তাদের শোনা হয় না।





চার রাকাত শেষ হতেই দেখা যায় বেশ কজন মুরব্বি পেছনে গিয়ে শুয়ে পরে। শুয়েই থাকে, যতক্ষন না প্রথম রাকাতে হাফেজ রুকুতে চলে যায়। হাফেজ রুকুতে যেতেই তারা উঠে ছুটে এসে হাত বেধে রুকুতে যায়। অথচ খতম তারাবি পড়ার জন্য এনারাই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে।





অর্ধেক তারাবি শেষ হতেই একজন সিজদাতেই শুয়ে পড়েন ঘুমে। সারা দিনের ধান কাটা শেষে ক্লান্ত শরীর, রোযা রেখে দুর্বল - তার পর এই খতম তারাবি! কত সহ্য হয়। শরীর, রোবট তো নয়!





নামাজ শেষে দোয়া। সকলে হাত তোলে, ইমাম দোয়া শুরু করেন। আল্লাহ জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দিন। এটা দিন, ওটা দিন। উপরে আরশে বসে আল্লাহ দেখেন তার বান্দাদের তামাশা। এ তামাশা দেখে আল্লাহ খুশি হতে পারেন কি না কে জানে! কিন্তু এত কিছুর পরে মুসল্লিরা মনের শান্তি পায় না। নামাজ শেষে যে শান্তি পাওয়ার কথা তা হতে তারা বঞ্চিত। কারন মসজিদে তো আর নামাজ আদায় হয় নি, হয়েছে নামাজের প্রদর্শন!


0 Comments: