এই বিষয়ে অনেক দুনিয়া পুজারী শয়তান আলেমরাও বলে থাকে, যে পীরের দরবারে গরু ছাগল বা অন্যকিছু নেওয়া জায়েজ নয় বরং হারাম। (নাউজুবিল্লাহ) বিশেষ করে এই কথা গুলো বলে থাকেন জামাতী ইসলামের ও লামাযাহাবীদের শীর্ষস্থানীয় দাঁড়ি টুপি পরিহিত মওদুদির অনুসারী কাঠ মোল্লারা।তারাই সাধারণ মুসলমানদের মাজে বিভিন্ন বিষয়ে কোরআন ওহাদিসের অব্যাখ্যা করে সবচেয়ে বেশী ভ্রান্ত ধারণা ডেলিভারী করে থাকে।
হাদিয়া,তুহফা ও সদকা সম্পর্কে
কোরআনের ব্যাখ্যা দেখুনঃ_
হে ঈমানদারগন, তোমরা যদি আমার হাবীবের সাথে গোপনে কথা বলতে চাও, তাহলে তাঁকে সদকা প্রদান করো ….(সূরা মোজাদেলা আয়াত-১২)

অতএব এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে হাদিয়া, সদকা, তুহফা ও নজরানা দেওয়ার নিয়ম স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। চিন্তা করে দেখুন মোল্লার কথা মানবেন নাকি কোরআনের কথা মানবেন: এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর সর্বপ্রথম হজরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহু নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নজরানা দিয়েছিলেন।
সূত্রঃ তাফসিরে কবীর, ইবনে কাছির চতুর্থ খন্ড 388 পৃষ্ঠা। চিন্তা করে দেখুন মোল্লার কথা
মানবেন নাকি রাসূল (সঃ) এর কথা মানবেন –
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ (রঃ) …….. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাঃ) কে একটি রেশমী জুববা হাদিয়া দেওয়া হলো। অথচ তিনি রেশমী কাপড় ব্যবহারে নিষেধ করতেন। এতে সাহাবীগণ খুশী হলেন। তখন তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, জান্নাতে সাদ ইবনে মু’আযের রুমালগুলো এর চেয়ে উৎকৃষ্ট। সাঈদ (রঃ) কাতাদা (রঃ) এর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে দুমার উকাইদির নবী (সাঃ) কে হাদিয়া দিয়েছিলেন।
(বোখারী শরীফঃ=খন্ডঃ=৩ অধ্যায়ঃ=৪৭)
‘হাদিয়া’ হল কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই কাউকে কোন কিছু প্রদান করা। এটি শরী‘আতে বৈধ।
(বোখারী শরীফঃ=২৫৭৬)
রাসূল (সঃ) ভালোবাসা বৃদ্ধির মাধ্যম হিসাবে পরস্পরকে হাদিয়া দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন
(আদাবুল মুফরাদ, ছহীহুল জামেঃ=৩০০৪)
আপনি কি কোরআন হাদিস ও কিতাবের কথা মানবেন নাকি জুব্বা পরিহিত কিছু মোল্লা নামধারী শয়তানের কথা মানবেন চিন্তা করে
দেখুনঃ_এই হাদিয়া, তুহফা ও সদকা আপনার পীর, শিক্ষক, বন্ধু, আত্নীয় সজন, প্রত্যেকে দেয়া যাবে। কোন ব্যক্তি যখন কোন কিছু জানার জন্য,শেখার জন্য বা কাউকে দেখার জন্য, কারো নিকট গমন করে, সেই যেন যাওয়ার সময় তার জন্য কিছু তুহফা বা নজরানা নিয়ে যায়। (ফতোয়াযে শামী,ও শাসী) আপনি কি "মা" আয়িশা (রাঃ) কথা মানবেন নাকি কিছু ফিতনাবাজ টাইটেল পাশ আলেমদের কথা মানবেনঃ
হযরত সুলায়মান ইবনে হাব হযরত আয়িশা হতে বর্ণনা করেছেন দেখুনঃ
সুলায়মান ইবনে র্হাব (রঃ) হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার বিষয় আমার জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আমার সতিনগণ (এ বিষয় নিয়ে আমার ঘরে) একত্রিত হলেন। ফলে উম্মু সালামা (রাঃ) বিষয়টি তাঁর কাছে উত্থাপন করলেন। কারো নিকট হাদিয়া, তুহফা, নজরানা পাঠানোটা রাসূল
(সঃ) এর সুন্নত। (বোখারী শরীফঃ=৩ খন্ড অধ্যায়ঃ=৪৭ হাদিস নং:= ৭৫৪)
রাসূল (সঃ) বলেছেন, পরস্পরে হাদীয়া প্রদান করো, ইহাতে ভালবাসা বৃদ্ধি হয়, ও বৈরীতা দূর হয়। সূত্রঃ মুয়াত্তা ঈমাম মালেক, (মেশকাত শরীফঃ=৪০৩পৃষ্ঠা।)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও নজরানা/হাদিয়া নিতেন। তোমরা কি রাসূল (সঃ) যা করেছেন, যা করতে বলেছেন, তা করবে নাকি কিছু অবিশ্বাসী মোল্লারা-যা বলে তা করবেঃ
দেখুন রাসূল (সঃ) এর বাণীঃ
হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমাকে যদি বকরীর পায়ের একটি খুরও হাদীয়া দেওয়া হয়, তবুও তা আমি গ্রহণ করবো। আর তা আহারের জন্য যদি আমাকে দাওয়াত করা হয়, তাতেও আমি সাড়া দিবো।(বোখারী শরীফ ও তিরমিজি শরীফ প্রথম খন্ডঃ=২৪৮ পৃষ্ঠা। মেসকাত শরীফেঃ=১৬১ পৃষ্ঠা।)উপরোক্ত হাদীস দ্বারা
প্রমাণিত হয়,, পীরের দরবারে নজরানা দেওয়া জায়েজ ইনা খাছ সুন্নত। এবং পীরের দরবারে হালাল পশুর বা তার গোশত নজরানা দেওয়া, ঐ গোশত খেতে যাওয়া সবই কুরআন শরিফ হাদীস শরিফ দ্বারা সমর্থিত। কাজেই বুঝতে হবে, যে বা যারা কুরআন হাদীসের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কোন বিষয় নিয়ে অযথা বিতর্কের সৃষ্টি করে, তারাই মোনাফেক। আর এই যুগেও মোনাফেক রয়েছে। তারা সব সময় সাধারণ মুসলমানদের নিকট কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে কালেম পীরদের, ও অলী আউলিয়াদের বিরোধে এবং দরবারের বিরোধে এই বলে সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করে যাচ্ছে যে, দরবারে মহিষ, গরু, ছাগল,টাকা পয়সা নজরানা, তুহফা, সদকা দেওয়া, হারাম, শিরক বা কুফুরি ফতোয়া দিয়ে যাচ্ছে। যা সম্পুর্ণ কোরআন ও হাদিস বিরোধী বক্তব্য। তাদের এই বক্তব্য-বা কটাক্ষ কুরআন- হাদীসের অবমাননাকেই নির্দেশ করে। আর এদের জন্যেই
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন এর
পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফে বলেন “তবে কি তোমরা কিতাবের কিয়দাংশ বিশ্বাস করো আর কিয়দাংশ অবিশ্বাস করো নাঃ যারা এরুপ করে পার্থিব জীবনে দুর্গতি ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে- খবর নন। আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল অথবা এক বিকাল ব্যায় করা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যত নেক আমল আছে উহার চেয়েও উত্তম।(আল হাদীস) ওহে নবী প্রেমিক ও অলী প্রেমিক মুসলমান তোমরা বেঈমান মোল্লাদের কথাই তোমাদের ঈমান আকিদাকে নষ্ট করে দিওনা।যা তোমাদের বুঝে আসে না,তোমরা তা আমার জিকির কারীর নিকট হতে জেনে নাও। দ্বীনি এলেম তলব বা অন্বেষন করা প্রত্যেক নর ও নারীর জন্য ফরজ।(আল হাদিস)
কোন ব্যক্তি দ্বীন শিক্ষা করার জন্য বেড় হলে ফেরেশতাগন তার পাযের নীচে নূরের পাখা বিছাইয়া দেন। (আল হাদীস)
তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ্য জাতী, তোমাদেরকে বাছাই করা হয়েছে মানুষের কল্যানের জন্যই । কারন তোমরা সৎকাজের আদেশ ও
অসৎ কাজে নির্ষধ করে থাক এবং নিজেরাও ঈমানের উপর মজবুতির সহিত থাক। (সুরা আল ইমরান)
আল্লাহ সবাইকে জানার ও বুঝার তৌফিক দান করুণ।
================আমীন================




0 Comments: