বদলে যাওয়ার তত্ত্ব জ্ঞান !





কে বদলাবে, আমি বদলাব! ঠিক আছে বদলে গেলাম। কোথায় বদলে গেলাম, কীভাবে বদলে গেলাম, কতোটুকু বদলে গেলাম, কার জন্য বদলে গেলাম ইত্যাদি প্রশ্নগুলির উত্তর একমাত্র আমার কাছেই আছে, অন্য কারও কাছে নয়। সমাজ এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজেনা। খোঁজার সময় কারও নেই, থাকার কথাও নয়।





জ্ঞানীরা মনে করেন একজন আমি বদলে গেলে, এক এক করে অগণতি আমি বদলে যাবে, সমাজ হবে মানুষের। একটি সরল সমীকরণ এবং একেবারে উপড়ে ফেলার নয়। কিন্তু মানব সভ্যতার এই দীর্ঘ ইতিহাসে এরকমটা কখনই ঘটেনি। তাই এটিও ভাববাদীতার একটি সমীকরণ ছাড়া এর বাস্তব সম্পর্ক সামাজিক মানুষের ক্ষেত্রে সত্যে পরিণত হয়না। বলার জন্য এটি মোক্ষম বটে, কিন্তু গ্রহণযোগ্যতায় শূন্যই থেকে যায়।





মানব ইতিহাসে মানুষের যৌথ জীবন শুরু থেকেই নেতৃত্ব নির্ভর। সে স্বাধীন হয়নি কখনও। স্বাধীনতার ক্ষেত্রটিকে বরাবরই একটি পরক্ষ খবরদারির মধ্যে, নিজের স্বাচ্ছন্নদ্য বোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই পরক্ষ নির্ভরতা তার সহজাত চরিত্র। তাই সে নিজের চরিত্র বদলাতে চায়না। জন্ম থেকেই মাতৃনির্ভরতা, বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পিতৃনির্ভরতা, নিজের বিকাশে সামাজিক নির্ভরতা, তাকে চারদিক থেকে বেঁধে রাখে। এই বন্ধনই একজন মানুষের সামাজিক বন্ধন, এখানেই সে তার নাড়ীর টান অনুভব করে। সর্প ছানা কিংবা কচ্ছপ ছানাদের কোনো মাতৃ-পিতৃ নির্ভরতা থাকেনা। ডিম ছেড়ে কচ্ছ কিংবা সর্পের মায়েরা অপেক্ষা করেনা, প্রকৃতির কোলে শুরু থেকেই যুদ্ধ করে তারা প্রকৃতির নির্বাচনে টিকে থাকে। মানুষের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেনা। আর সে কারণেই ঈদে পার্বেণে জীবনের চুড়ান্ত ঝুঁকি নিয়ে, চরম কষ্ট সহ্য করে, বিপুল পরিশ্রম মাথায় নিয়ে মানুষ ছুটে যায় তার শিকড়ে। ওটা না গেলেও চলে, কিন্তু তাকে যেতেই হয়। এটাই মানব চরিত্র। এই সাধারণ চরিত্রটিও সে বদলাতে চায়না, কারণ এর মধ্যেই তার চরম আনন্দ এবং নিবিড় অনুভূতি কাজ করে। কোনো যৌক্তিকতা দিয়ে সে তার এই অনুভূতির পরাজয় দেখতে চায়না। এখানে একক থেকে একটি সামষ্টিক চরিত্র গড়ে উঠেছে, এই সামষ্টিকতাকেও সে ভালোবাসে। সুতরাং, আমি বদলালে এই সমষ্টি বদলে যাবে, এমন সম্ভাবনা অন্তত আমার নজরে নেই।





মানুষ নিজের উন্নতি বলতে তার আর্থিক সামর্থ আর জীবনের স্বচ্ছন্দকেই বোঝে। এটা তার জিন কোডের মধ্যেই আছে। সে এটি বংশ পরম্পরায় বহন করে। অনুমান করা যায় এই প্রবণতা প্রাণ সৃষ্টির শুরু থেকেই। প্রাণের উদ্ভব হওয়ার মূহুর্তে সে যে স্বাচ্ছন্দ্য পরিবেশ খুঁজে নিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা আজও চলছে। সকল প্রাণীর মধ্যেই এটা আছে। এর সাথে জীবনের টিকে থাকার নিশ্চয়তা। সে এ নিশ্চয়তা ত্যাগ করতে চায়না বরং প্রতি মূহুর্তেই নিশ্চয়তাকে আর গভীরতম ব্যবস্থাধীন রাখার বস্তবতা অনুভব করে বলেই নিজের চারিদিকে বেড়াজাল তৈরি করে। এর মধ্যেই নিজেকে নিরাপদ মনে করে। এটা স্রেফ মানব চরিত্রেই আছে এমনটা নয়, সমস্ত প্রাণীকূলের মধ্যেই আছে। পার্থক্য এই মানুষ এর সীমাটা লঙ্ঘন করে। সীমা লঙ্ঘন করাটাকেই আমরা লোভ বলে চিহ্নিত করেছি। আমরা কেউ লোভহীন নই, কমবেশি সকলের মধ্যেই আছে। এর শুরুটাও সেই এককোষী জীবনকাল থেকেই। আতএব, মানুষের জন্মকোড ইতিহাসের মধ্যেই এমন ব্যবস্থা আছে, যেখানে তার এই চরিত্রকে বদলে দেয়ার সহজ কোনো রাস্তা নেই। এখানেই বিজ্ঞান তার নতুন দরজা উন্মুক্ত করেছে। জিন কোড বদলে নতুন জিন কোডের ধারাবাহিকতা সৃষ্টি করা। এখন সফল্য যথেষ্ট না হলেও, তা আর খুব দূরে নয়। এটা প্রাকৃতিক নির্বাচনের বিরুদ্ধতা নয়, তাকে আরও বিশুদ্ধ করণ। এই বিশুদ্ধ জিন কোডের মানুষরাই আগামী পৃথিবী শাসন করবে। অজ্ঞদের ভূমিকা গৌণ হয়ে যাবে, যোগ্যরা টিকে থাকবে। এটাই হবে নতুন প্রাকৃতিক নির্বাচন।


0 Comments: