পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, "তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করিও না" তিনি আরও বলেন, "নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইয়াকুব, ইউসুফ তাদের পুত্রদের এই বলিয়া ওসিয়ত করিয়াছেন, বাবারা আল্লাহর দ্বীন তোমাদের হাতে মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করিও না"।









০১.প্রশ্নঃ- মুসলমান মানে কী বা মুসলমান শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
উত্তরঃ- মুসলমান শব্দের আভিধানিক অর্থ আত্মসমর্পণ। আর মুসলমান হওয়া মানে আত্মসমর্পণ করা।
০২.প্রশ্নঃ- কার কাছে আত্মসমর্পণ করবে ?
উত্তরঃ- স্রষ্টা বা আল্লাহর কাছে।
০৩.প্রশ্নঃ- যাকে দেখিনা বা যাকে দেখা যায়না তার কাছে কি ভাবে নিজেকে সমর্পণ করবো !!
উত্তরঃ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হচ্ছে মানুষ, আল্লাহর নূর প্রকাশিত হয় মানুষের চেহারার মধ্যমে। সুতরাং একজন মানুষের কাছে যাও, তার কাছে আত্মসমর্পণ করো, তাহলেই মহান স্রষ্টা বা আল্লাহর পরিচয় পাবে।
০৪.প্রশ্নঃ- এ কেমন কথা !!! আমিও তো মানুষ, আর মানুষ হয়ে মানুষের কাছে আত্মসমর্পণ কেনো করবো ??
উত্তরঃ- না, তুমি মানুষ নও, তুমি মানব, তোমাকে মানব থেকে মানুষ হতে হবে। এটাই তোমার পরীক্ষা, এজন্যই তোমাকে এ দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে। মনে রেখো, পৃথিবীতে সর্বদাই রুপের পরির্বতন হচ্ছে কারণ, রুপান্তরটাই পৃথিবী।
০৫.প্রশ্নঃ- কি ভাবে মানুষ হবো ??
উত্তরঃ- মানবিক গুনাবলীর উৎকর্ষতা সাধনের মাধ্যমে নিজের মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। আর তা করতে হলে একজন মানুষের কাছে যেতে হবে।
০৬.প্রশ্নঃ- মানুষ কে? তার কাছে যেতে হবে কেন ?
উত্তরঃ- "মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু" অর্থাৎ যে নিজেকে চিনেছে সে স্রষ্টাকে চিনেছে"। সুতরাং যিনি স্রষ্টাকে চিনতে পেরেছেন তিঁনিই মানুষ হতে পেরেছেন।
মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করলে যেমন ডাক্তার হওয়া যায়, প্রকৌশল কলেজ থেকে প্রকৌশলী ঠিক তেমনি একজন মানুষের সাহচর্যে থেকে পাশ করতে পারলে মানুষ হওয়া যায়।
০৭.প্রশ্নঃ- তাহলে তো পৃথিবীর সর্বত্র যেখানে তাকাই মানব দেখতে পাই, মানুষ কোথায় ??
উত্তরঃ- পৃথিবীর সবচেয়ে দামী খনিজ পাথর হীরা। এই হীরা যেমন পাওয়া যায় কয়লা খনিতে তেমনি এই মানব সম্প্রদায়ের মাঝে লুকিয়ে আছে সেই প্রকৃত মানুষ।
০৮.প্রশ্ন- মানুষ চেনার উপায় কি ??
উত্তরঃ যিনি নিজের মোহ, মায়া, হিংসা-বিদ্ধেষ, ক্রোধ ইত্যাদি মানবিয় দোষ দমন করতে পেরেছেন এবং নিজের আমিত্মকে বিলীন করতে পেরেছেন সর্বপরি যাকে দেখলেই স্রষ্টার কথা স্মরণ হয় তিনিই প্রকৃত মানুষ।





সংগৃহীত:


0 Comments: