নবীজীকে ইয়া রাসূলুল্লাহ বলে ডাকা জায়েজ

নবীজীকে ইয়া রাসূলুল্লাহ বলে ডাকা জায়েজ


রাসূল (ﷺ)কে ‘‘ ইয়া রাসূলাল্লাহ ’’ বলে আহবান করা বা ডাকা যায়েজ।
হুযুর (ﷺ)কে দূর বা কাছ থেকে আহবান করা বৈধ- তাঁর পবিত্র ইহ-লৌকিক জীবনে ও তাঁর ওফাতের পরেও। তাই একজন ইয়া রাসুলাল্লাহ ’ বলে আহবান করুক, কিংবা এক দলের সবাই মিলে সমবেত কন্ঠে ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ ’ বলে শ্লোগান দিক এ উভয় ক্ষেত্রে এ আহবান বৈধ।
হুযুর (ﷺ)কে আহবান করার স্বপক্ষে প্রমাণাদি কুরআন করীম, ফিরিশতা ও সাহাবীদের কর্মকাণ্ড ও উম্মতের বিবিধ কার্যাবলীতে সুস্পষ্টরুপে বিদ্যমান রয়েছে। কুরআন করীমে অনেক জায়গা আছে।
ﻳَﺎﺍَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﻳَﺎﺍَ ﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮْﻝُ ﻳَﺎ ﺍَﻳَّﻬَﺎ ﺍﻟْﻤُﺰَﻣِّﻞُ ﻳَﺎ ﺍَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟْﻤُﺪَﺛِّﺮُ
হে নবী, হে রাসূল, ওহে কম্বলাবৃত বন্ধু, ওহে চাদরাবৃত বন্ধু ইত্যাদি বলে। দেখা যায়, উল্লেখিত আয়াতে সমূহে তাকে আহবান করা হয়েছে। অন্যান্য নবীদেরকে অবশ্য তাদের নাম ধরেই সম্বোধন করেছে কুরআন করীম । যেমন
ﻳَﺎﻳَﺤْﻴﻰ ﻳَﺎﺍِﺑْﺮَ ﺍﻫِﻴْﻢَ ﻳَﺎﺍَﺩﻡ ﻳَﺎﻣُﻮْﺳﻰ ﻳَﺎﻋِﻴْﺴﻰ
হে মুছা, হে ঈসা, হে ইয়াহয়া, হে ইব্রাহীম, হে আদম ইত্যাদি (ﷺ)কিন্তু মাহবুব (ﷺ)
কে আহবান করেছে প্রিয় উপাধিসমূহে ভূষিত করে। কবির ভাষায়ঃ-
ﻳﺎﺍﺩﻡ ﺍﺳﺖ ﺑﺎﭘﺪﺭ ﺍﻧﺒﻴﺎﺀ ﺧﻄﺎﺏ
ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺧﻄﺎﺏ ﻣﺤﻤﺪ ﺍﺳﺖ
নবীগণের জনক হযরত আদম (আঃ) কে ডাকা হয়েছে ইয়া আদামু বলে, আর মুহম্মদ (ﷺ)কে ডাকা হয়েছে ওহে নবী উপাধিতে ।
কুরআন করীম বরঞ্চ সাধারণ মুসলমানদেরকেও এভাবে আহবান করেছে- ﻳَﺎﺍَﻳُّﻬَﺎﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺍَﻣَﻨُﻮْﺍ (হে ঈমানদারগণ।) আর তাঁদেরকে নির্দেশ দিয়েছে- মাহবুব (ﷺ)আহবান করো সম্মানসূচক উপাধিসমূহের মাধ্যমে। কুরআন ইরশাদ করছে-
ﻟَﺎﺗَﺠْﻌَﻠُﻮْﺍ ﺩُﻋَﺎﺀَﺍﻟﺮَّﺳُﻮْﻝِ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﻛَﺪُﻋَﺎﺀِ ﺑَﻌْﻀُﻜُﻢْ ﺑَﻌْﻀًﺎ
তোমরা রাসুলকে এমনভাবে ডেকো না, যেভাবে তোমরা একে অপরকে ডাক। এখানে তাঁকে ডাকতে নিষেধ করা হয়নি । বরং অন্যান্যদেরকে ডাকার মত না ডাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআন অন্যত্র ইরশাদ করেছে-
ﺍُﺩْﻋُﻮْ ﻫُﻢْ ﻟِﺎﺑَﺎﺀِﻫِﻢْ ‌‌ তাদেরকে তাদের পিতার সাথে সম্পর্ক যুক্ত করে ডাকা)। এ আয়াতে এ কথাটির অনুমতি দেয়া হয়েছে যে, যায়েদ ইবনে হরিছা (রাঃ) কে ইবনে হারিছা অর্থাৎ হারিছা এর পুত্র বলে ডাক, কিন্তু তাঁকে ইবনে রাসুলাল্লাহ বা রাসুলুল্লাহর পুত্র বলে ডেকো না। এরূপ কাফিরদেরকেও অনুমতি দেয়া হয়েছে তাদের সাহায্যার্থে তাদের সাহায্যকারীদেরকে ডাকার-
ﻭَﺍﺩْﻋُﻮْﺍﺷُﻬَﺪَﺍﺀَ ﻛُﻢْ ﻣِﻦْ ﺩُﻭْﻥِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍِﻥْ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺻﺪِﻗِﻴْﻦَ
অর্থাৎ তোমরা যদি নিজের দাবীর ব্যাপারে সত্যবাদী হও, তা’হলে আল্লাহর সাথে সম্পর্কহীন তোমাদের অন্যান্য সাহায্যকারীদেরকে ডেকো ।
‘মিশকাত’ শরীফের প্রথম হাদীছে আছে, হযরত জিব্রাইল (আঃ) আরয করছিলেনঃ ﻳَﺎﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍَﺧْﺒِﺮْﻧِﻰْ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺎِﺳْﻠَﺎﻡِ
‘হে মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন । এখানে আহবান করার বিধান পাওয়া গেল। সে একই মিশকাত শরীফের ‘ওফাতুন্নবী’ শীর্ষক অধ্যায়ে আছে, হুযুর(ﷺ)
এর ওফাতের সময় মলকুল মউত আরয করছিলেনঃ
ﻳَﺎﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﺍَﺭْﺳَﻠَﻨِﻰْ ﺍِﻟَﻴْﻚَ
হে মুহাম্মদ (ﷺ)আল্লাহ তা’আলা আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছ্নে। দেখুন, এখানেও ইয়া মুহাম্মদ বলে আহবান করা হয়েছে। ইবনে মাজা শরীফের সালাতুল ‘হাজত’ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত উছমান ইবনে হানীফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, এক অন্ধ ব্যক্তি হুযুর (ﷺ)এর মহান দরবারে উপস্থিত হয়ে অন্ধত্ব দূরীকরণার্থে দোয়া প্রার্থী হয়েছিলেন, হুযুর (ﷺ)
তাকে শিখিয়ে দিলেন এ দু’আটিঃ
ﺍَﻟَّﻬُﻤَّﺎِﻧِّﻰْ ﺍَﺳْﺌَﻠُﻚَ ﻭَﺍَﺗَﻮَ ﺟَّﻪُ ﺍِﻟَﻴْﻚَ ﺑِﻤُﺤَﻤَّﺪٍ ﻧَّﺒِﻰِّ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﺔِ ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍِﻧِّﻰْ ﻗَﺪْﺗَﻮَﺟَّﻬْﺖُ ﺑِﻚَ ﺍِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻰْ ﻓِﻲْ ﺣَﺎﺟَﺘِﻰْ ﻫﺬِﻩ ﻟِﺘَﻘْﻀِﻰَ ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻓَﺸَﻔِّﻌْﻪُ ﻓِﻰَّ ﻗَﺎﻝُ ﺍَﺑُﻮْﺍ ﺍِﺳْﺤﻖَ ﻫﺬَﺍ ﺣَﺪِﻳْﺚٌ ﺻَﺤِﻴْﺢٌ
(হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি রহমতের নবী মুহাম্মদ (ﷺ)
মারফত তোমার দিকে মনোনিবেশ করছি। হে মুহাম্মদ (ﷺ)
আমি আপনার মাধ্যমে আপন প্রতিপালকের দিকে আমার এ উদ্দেশ্য (অন্ধত্ব মোচন) পূরণ করার নিমিত্তে মনোনিবেশ করলাম যাতে আপনি আমার এ উদ্দেশ্য পূরণ করে দিন। হে আল্লাহ, আমার অনুকূলে হুযুর (আলাইহিস সালাম) এর সুপারিশ কবুল করুন।) এ হাদীছটির বিশুদ্ধতা প্রসঙ্গে হযরত আবু ইসহাক (রহঃ) বলেছেন এ হাদীছটি বিশুদ্ধ (সহীহ)।
লক্ষ করুন দু’আটি কিয়ামত পর্যন্ত ধরাপৃষ্ঠে আগমনকারী মুসলমানদের জন্য শিক্ষার বিষয় বস্তুতে পরিণত হল। এখানে হুযুর (আলাইহিস সালাম) কে আহবান করা হয়েছে এবং তার সাহায্য ও প্রার্থনা করা হয়েছে।
ফতওয়ায়ে আলমগীর ১ম খণ্ডের কিতাবুল হজ্জ্ব এর আদাবু যিয়ারতে কবরিন্নবী আলাইহিস সালাম শীর্ষক বর্ণনায় উল্লেখিত আছেঃ-
ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﺍَﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎ ﻧَﺒِﻰَّ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍَﺷْﻬَﺪُﺍَﻧَّﻚَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ
অতঃপর নবীর রওযা যিয়ারতকারী ব্যক্তি বলবে-হে নবী, আপনার প্রতি আমার সালাম, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসুল।
এর পর লিখা হয়েছেঃ
ﻭَﻳَﻘُﻮْﻝُ ﺍَﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎﺧَﻠِﻴْﻔَﺔَ ﺭَﺳُﻮْﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍَﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎ ﺻَﺎﺣِﺐَ ﺭَﺳُﻮْﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻓِﻰ ﺍﻟْﻐَﺎﺭِ
যিয়ারতকারী এর পর বলবে ওহে রাসুলাল্লাহর সত্যিকার প্রতিনিধি, আপনার প্রতি সালাম ওহে রাসুলের গুহার সাথী (ছউর নামক পাহাড়ের গুহায় সহাবস্থানকারী) আপনার প্রতি আমার সালাম এর পর আরও লিখা হয়েছেঃ
ﻓَﻴْﻘُﺮْﺩُﺍَﺳَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎ ﺍَﻣِﻴْﺮَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴْﻦَ ﺍَﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎ ﻣُﻈْﻬِﺮَ ﺍﻟْﺎِﺳْﻠَﺎﻡِ ﺍَﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎﻣُﻜَﺴِّﺮَ ﺍﻟْﺎَﺻَﻨَﺎﻡِ
যিয়ারতকারী তারপর বলবে ওহে মুসলমানদের আমীর আপনার প্রতি সালাম ওহে মূর্তি নিধনকারী আপনার প্রতি সালাম,(রাদিয়াল্লাহু আনহুম।)। এখানে দেখুন হুযুর (আলাইহিস সালাম) কে ডাকা হয়েছে এবং তারই পার্শ্বদেশে শায়িত হযরত সিদ্দীকি ও ফারুক (রাঃ) কেও ডাকার বিধান রাখা হয়েছে। এ উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় আসীন ব্যক্তিবর্গ আওলিয়ায়ে মিল্লাত মশায়েখ ও বুযুর্গানে দ্বীন ও তাদের দুআ ও নির্ধারিত


0 Comments: