তৌরাত, যা মূসার কাছে নাজিল হয়েছিল, সব ধরনের মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ করেছিল। দশটি মহা আদেশের প্রথম দুইটি ঘোষণা করে যে আল্লাহ ছাড়া আর কোন আল্লাহ নেই; একমাত্র তাঁরই এবাদত করতে হবে:
“আমা ছাড়া আর কারো এবাদত করবে না।
“আমার জায়গায় কোন দেবতাকে দাঁড় করাবে না। “পূজার উদ্দেশ্যে তোমরা কোন মূর্তি তৈরী করবে না, তা আকাশের কোন কিছুর মত হোক বা মাটির উপরকার কোন কিছুর মত হোক কিংবা পানির মধ্যেকার কোন কিছুর মত হোক। তোমরা তাদের পূজাও করবে না, তাদের সেবাও করবে না, কারণ কেবলমাত্র আমি আল্লাহ্ই তোমাদের মাবুদ। আমার পাওনা এবাদত আমি চাই। যারা আমাকে ঘৃণা করে তাদের গুনাহের শাস্তি আমি তাদের তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত দিয়ে থাকি।” হিজরত ২০:৩-৫
ঈসা মশীহ যখন আসেন, তখন পুরাতন নিয়মের আমলাতান্ত্রিক বিষয়গুলি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তিনি মূলত তৌরাত থেকে কথা বলেছিলেন যা মূসার মাধ্যমে ইজরায়েলের সন্তান্দের কাছে প্রকাশ করা হয়েছিল।
“সবচেয়ে দরকারী হুকুম হল, ‘বনি-ইসরাইলরা, শোন, আমাদের মাবুদ আল্লাহ্ এক। তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের সমস্ত দিল, সমস্ত প্রাণ, সমস্ত মন এবং সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমাদের মাবুদ আল্লাহ্কে মহব্বত করবে।" মার্ক ১২: ২৯-৩০
প্রেরিত পৌল অন্যান্য গুরুতর পাপের সাথে মূর্তিপূজাকে নিন্দা জানিয়েছেন:
“গুনাহ্-স্বভাবের কাজগুলো স্পষ্টই দেখা যায়। সেগুলো হল- জেনা, নাপাকী, লমপটতা, মূর্তিপূজা, জাদুবিদ্যা, শত্রুতা, ঝগড়া, লোভ, রাগ, স্বার্থপরতা, অমিল, দলাদলি, হিংসা, মাতলামি, হৈ-হল্লা করে মদ খাওয়া, আর এই রকম আরও অনেক কিছু। আমি যেমন এর আগে তোমাদের সতর্ক করেছিলাম এখনও তা-ই করে বলছি, যারা এই রকম কাজ করে আল্লাহ্র রাজ্যে তাদের জায়গা হবে না।” গালাতীয় ৫: ১৯-২১
প্রেরিত ইউহন্না অন্যান্য গুনাহের মধ্যে মূর্তিপূজা অন্তর্ভুক্ত করেন যা দোযখে জাবার যোগ্য গুনা:
“কিন্তু জ্বলন্ত আগুন ও গন্ধকের হ্রদের মধ্যে থাকাই হবে ভীতু, বেঈমান, ঘৃণার যোগ্য, খুনী, জেনাকারী, জাদুকর, মূর্তিপূজাকারী এবং সব মিথ্যাবাদীদের শেষ দশা। এটাই হল দ্বিতীয় মৃত্যু।” প্রকাশিত কালাম ২১:৮
জবুর শরীফে নবী মানুষকে আল্লাহর প্রশংসা করার আহ্বান জানিয়েছেন, কারন তিনি তার আপন মহিমায় এই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। '
“হে আল্লাহ্ভক্ত লোকেরা, মাবুদের বিষয় নিয়ে তোমরা আনন্দ-কাওয়ালী গাও; তাঁর গুণগান করা খাঁটি লোকদেরই কাজ। মাবুদের কালাম সত্য, তাঁর সব কাজে তিনি বিশ্বস্ত। মাবুদ ন্যায় কাজ ও ন্যায়বিচার ভালবাসেন; সারা দুনিয়া জুড়ে আছে তাঁর অটল মহব্বত।মাবুদের কালামে আসমান তৈরী হয়েছে; তার মধ্যেকার সব কিছু তৈরী হয়েছে তাঁর মুখের শ্বাসে। তিনি সমুদ্রের পানি জড়ো করে ঢিবি করেন, আর বিভিন্ন ভাণ্ডারে সেই গভীর পানি রাখেন। দুনিয়ার সব লোক মাবুদকে ভয় করুক, বিশ্বের সবাই তাঁর ভয়ে কাঁপুক; কারণ তিনি বললেন আর সব কিছুর সৃষ্টি হল; তিনি হুকুম দিলেন আর সব কিছু প্রতিষ্ঠিত হল।” জবুর শরীফ ৩৩:১, ৪-৯
জাবুরের মধ্যে নবী আলসা আল্লাহর পরাক্রমশালী কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য আল্লাহর এবাদত ও প্রশংসা করার জন্য আহ্বান করেছেন: তাঁর মহিমা ঘোষনা কর, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
“মাবুদকে শুকরিয়া জানাও, তাঁর গুণের কথা ঘোষণা কর; তাঁর কাজের কথা অন্যান্য জাতিদের জানাও।
তাঁর উদ্দেশে কাওয়ালী গাও, তাঁর প্রশংসা-কাওয়ালী গাও; তাঁর সব অলৌকিক কাজের কথা বল।
তাঁর পবিত্রতার প্রশংসা কর; যারা মাবুদকে গভীরভাবে জানতে আগ্রহী তাদের অন্তর আনন্দিত হোক।
মাবুদ ও তাঁর কুদরতকে বুঝতে চেষ্টা কর; সব সময় তাঁর সংগে যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী হও।
হে তাঁর গোলাম ইব্রাহিমের বংশধরেরা, তাঁর বেছে নেওয়া ইয়াকুবের সন্তানেরা, তোমরা তাঁর মহান কাজগুলোর
কথা মনে রেখো; তাঁর অলৌকিক কাজের কথা
আর বিচারে যে শাস্তির কথা তিনি বলেছেন তা মনে রেখো।” জবুর শরীফ ১০৫: ১-৬
জবুর থেকে এবাদতের মোনাজাত:
নবী মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা হিসাবে আল্লাহর প্রশংসা করেন:
" এস, আমরা মাবুদের উদ্দেশে আনন্দের কাওয়ালী গাই; আমাদের রক্ষাকারী পাহাড়ের উদ্দেশে আনন্দধ্বনি করি।
চল, আমরা শুকরিয়া জানাতে জানাতে তাঁর সামনে যাই, কাওয়ালীর মধ্য দিয়ে তাঁর উদ্দেশে আনন্দধ্বনি করি।
মাবুদই আল্লাহ্তা’লা; সমস্ত দেব-দেবীর উপরে তিনিই মহান বাদশাহ্।
দুনিয়ার সব গভীর স্থান তাঁরই হাতে রয়েছে; পাহাড়ের চূড়াগুলোও তাঁর।
সমুদ্র তাঁর, কারণ তিনিই তা তৈরী করেছেন; ভূমিও তাঁর হাতে গড়া।
এস, আমরা সেজদা করে তাঁর এবাদত করি; আমাদের সৃষ্টিকর্তা মাবুদের সামনে হাঁটু পাতি।
তিনিই আমাদের আল্লাহ্, আমরা তাঁরই বান্দা; তাঁর চারণ ভূমির ভেড়ার মত তিনি আমাদের দেখাশোনা করেন।” জবুর শরীফ ৯৫: ১-৭
নবী তাঁর সৃষ্টিকর্তা হিসাবে আল্লাহর প্রশংসা করেন:
“হে মাবুদ, তুমি আমাকে ভাল করে পরীক্ষা করে দেখেছ আর আমাকে জেনেছ। আমি যা কিছু করি তার সবই তো তুমি জান; তুমি দূর থেকেই আমার মনের চিন্তা বুঝতে পার। তুমি আমার কাজকর্ম ও বিশ্রামের বিষয় খুব ভাল করে খোঁজ নিয়ে থাক; তুমি আমার জীবন্তপথ ভাল করেই জান।হে মাবুদ, কোন কথা আমার মুখে আনার আগেই তুমি তার সবই জান। তুমি সব দিক থেকেই আমাকে ঘিরে ধরেছ, আর আমাকে তোমার অধীনে রেখেছ। তোমার এই জ্ঞান আমার পক্ষে বুঝতে পারা অসম্ভব; তা খুব উঁচু, আমার নাগালের বাইরে।
তুমিই আমার অন্তর সৃষ্টি করেছ; মায়ের গর্ভে তুমিই আমার শরীরের অংশগুলো একসংগে বুনেছ। আমি তোমার প্রশংসা করি, কারণ আমি ভীষণ আশ্চর্যভাবে গড়া; আশ্চর্য তোমার সব কাজ, আমি তা ভাল করেই জানি।” জবুর শরীফ ১৩৯:১-৬, ১৩-১৪
প্রচারে বিধি তুমার ধর্ম কি




0 Comments: