বায়েজীদ বোস্তামী (রহঃ) এর সংক্ষিপ্ত একটি ঘটনা,,,,
একদা একজন শরীয়তের আলেম, হযরত সুলতান বায়েজিদ বোস্তামী (রহঃ) এর দরবারে ১২ বছর থাকার পরও বায়োজিদ (রহঃ) এর নিকট গিয়ে বললেন,
হুজুর অনেক বছর আমি আপনার সান্নিধ্যে কাটালাম কিন্তু আপনার রহস্যজাত কালামগুলি আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব হয়নি।সুতরাং আমাকে অনুমতি দিন, আমি চলে যাই।
হযরত বায়েজিদ বললেনঃ
“হে মিয়া, তুমি আমাকে গুনাহগার করলে কেন?”
ঐ আলেম বলল,
হুজুর আপনাকে কি গুনাহগার করলাম?
হযরত বায়োজিদ বোস্তামী (রহঃ)বললেনঃ
১২ বছর আমার এখানে শ্রম দিয়েও তোমার কোন লাভ হল না বিধায় আমাকে তো আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে।
তখন ঐ যুক্তিবাদী আলেম বললঃ
হুজুর আপনার কথাগুলো আমার নিকট বোধগম্য হচ্ছে না কেন আমায় বলবেন?
হযরত বায়োজিদ বোস্তামী(রহঃ) বললেনঃ
“হে মিয়া, তোমার কাছে কিছু পয়সা আছে?
আলেম বলল, হ্যাঁ।
হযরত বায়েজিদ বোস্তামী(রহঃ)বললেনঃ
“তোমাকে একটি কাজ করতে হবে। তুমি তোমার পয়সা দিয়ে কিছু চনামুড়ি ক্রয় করে রাস্তার পাশে খেলায় রত ছোট ছেলেদের হাতে দিয়ে বলবে, “আমি রাস্তা দিয়ে যখন হাটব তোমরা তখন আমার গায়ে ঝাড়ু জুতা নিক্ষেপ করবে”।
তখন ঐ আলেম বললঃ
এর কারণ কি?আমার পয়সা দিয়ে আমি ঝাড়ু পিটা খাব?
হযরত বায়েজিদ বোস্তামী(রহঃ)বললেনঃ
“যতক্ষণ ঝাড়ু পিটা খাবে না তোমার অন্তর হতে আমিত্ব দূর হবে না। অর্থাত্ পীরের নিকট গেলে আমি কিছু, এমন মনোভাব ছাড়তে হবে”। এবার তাকে বিদায় দিলেন।
মুর্শিদের নিকট আত্মসমর্পণ করলে নিজ বলতে কিছুই থাকে না।তাই তো অনেক মুর্শিদভক্ত পাগলেরা বলে, “মুরিদ থাকবে মরার মতো পীর চালাবে তার ইচ্ছে মতো”।
মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলের আমিত্ব ভাব দূর করে কামেল মুর্শিদের গোলামী নসিব করুন।




0 Comments: