হে প্রিয় সত্য ধারণে সক্ষম মহান গণ আমার এক পরিচিত লোকের বয়ান করা একটি বাস্তব ঘটনা অতি সংক্ষেপে বলে মুল লেখায় যাব, ঘটনা প্রায় ২২ বছর আগের তখন তিনি ছিলেন নতুন যুবক। তিনি সরকারি চাকুরী করার সুবাধে তাকে ট্রেনিং এ যেতে হবে ময়মনসিংহ থেকে নাটুরে, অফিস থেকে তাকে সবাই বলে দেয় রাজশাহী , সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী ভ্রমণ খরচ নিয়ে ট্রেন যোগে যাত্রা করে। পথে ঘাটে ঝড় বৃষ্টি কুলিদের তাফালিং সব সয়ে বাহাদুরাবাদ ঘাট পাড় হন। এক ভিক্ষুক তার কাছে নদী ভাংগনের গল্প শুনান, তিনি দান করেন তাকে। নদীর ওপারে যেয়ে আরেক ট্রেন ধরতে হবে, উনার মালামাল বয়ে নিতে দুজন কুলিই স্পর্শ করে আর দুজনকেই পয়সা দেন তাদের ঝগড়া মেটাতে । ওপারে যেয়ে তিনি আবিষ্কার করেন তার জুতা ছিড়ে গেছে, জামা কাপড় ভিজে গেছে। জামা কাপড় জুতা পরিবর্তন করে তিনি পাশের দুকানে চা হাতে এক চুমুক দিতে না দিতেই ট্রেন যাত্রা শুরু করে, সব ফেলে দউরে ট্রেনে উঠেন। রাজশাহী যেয়ে আবার সে দু কুলির চক্করে, তাদের মুখ থেকে আসছিল সস্তা মদের গন্ধ। তাদের পয়সা দিয়ে উনি উনার গন্তব্যে রিকশা যুগে যান তখন সন্ধ্যা। তারা বলেন, আপনি ভুল জায়গায় এসেছেন আপনাকে যেতে হবে নাটোর। কি আর করা করা আবার সেই কুলি আবার মালামাল নিয়ে সেই ভর সন্ধ্যায় নাটোরের উদ্দেশ্য যাত্রা। উনি গভীর রাতে নাটোরে পউছে আবিষ্কার করেন উনার পকেট খালি।। তিনি একটা ভান ভাড়া করে বাস স্টেশন থেকে গন্তব্যে যেতে থাকেন গভীর রাতের জ্যোৎস্নায়। এটা ভেবে যে নিশ্চয়ই পরিচিত কেউ এসেছেন যার কাছ থেকে ভান ভাড়া দিবেন। উনি যখন গন্তব্যে পউছেন রাত ২/৩ হবে। যেয়ে পরিচিত আর কাউকে সনাক্ত করতে না পেড়ে ভান ওয়ালা কে বলে, ভাই আমার কাছে বিদেশি সেন্টের বোতল আছে আপনি এটা নিয়ে যান কাল এসে ভাড়া নিয়ে যাবেন। ভান ওয়ালা বলে না, আমি এখানেই ঘুমায় সকালেই ভাড়া নিয়ে যাব। কি বিপদ, কি অপ্রস্তুত অবস্থা। আর ঠিক তখনই রাস্তার ওপাশের জংগল থেকে বের হয়ে আসেন, সাদা পাঞ্জাবী পড়া দাড়িওয়ালা একজন। একটা অলৌকিক বিষয়, তিনি জানতে চান কি সমস্যা আর তা শুনে তিনি ভান ওয়ালা কে ভাড়া দিয়ে প্রস্থান করেন।
আমার সেই পরিচিত বলেন এটা তার জীবনের জন্য এক অলৌকিক ভ্রমণ ছিল। তিনি আরও বলেন, আরও কিছু ঘটনার কারণে তিনি মসজিদে যেয়ে পাচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে, জিকির আসগারে মশগুল হন। আর সাত দিনের মাথায় সে গভীর রাতের সেই ফেরেশতার দেখা পেয়ে যান। তার টাকা দিয়ে দেন, আর তার পরিচয় পেয়ে যান তিনি তাদের ট্রেনিংয়ের ওস্তাদ। আরও এক সপ্তাহ পর জুমার নামাজ শেষে আমার সেই পরিচিত যখন মসজিদের বাড়ান্দায় জিকির রত তখন সেই দাড়িওয়ালা লোকটা উনার কাছে আসেন। এসে বলে তুমিত আল্লাহর খাটি ইবাদত কর। আরও বলে আল্লাহর ওয়াস্তে মহব্বত কারিদের, ঠুটে ঠুট মিশিয়ে চুমা খেতে হয়। দুইজনের জিব্বা চুষতে হয়। আমায় গল্পের বয়ান কারি বলেন, আমি ছোট ছিলাম তাই ঊনার কথায় বিশ্বাস করছিলাম। কিন্তু উনি যখন সেই নিরজন মসজিদের ভিতর আমার ঠুটে চুমু খেয়ে আমার গুপ্ত অংগে স্পর্শ করে তখন আমি বুঝতে পারি উনার নিয়ত কি।। উনার এই বাস্তব গল্প শেষ করার আগে উনি বলেন এই গল্পের নাম দেন, ফেরেশতা যখন শয়তান।।
পরবর্তী অংশ লেখার আগে প্রথমেই মহান মালিকের দরবারে শুকরিয়া যে এই ফেইসবুকের পোস্ট থেকে প্রাপ্ত কথিত লাইক কমেন্ট শেয়ার এগুলো থেকে কোন পয়সা আসেনা, নাহলে আপনি যত বাস্তব ইসলাম বা সত্য প্রকাশ করেন না কেন তারা বলত এগুলো সব পয়সা কামাইএর ধান্ধা ছাড়া কিছু নয়। আর এটা আজ না থাকার কারণেই নিজের পয়সা, সময় খরচ করেই কিছু না কিছু সত্য সবার সামনে প্রকাশ করি। এই বই যদি না থাকত তবে সাধারণ মানুষের মাঝে লুকিয়ে থাকা কিছু সত্য আজ প্রকাশ হত না আর সাধারণ মানুষও তা জানতে পারত না। যেমন গাদিরে খুম, বনু সকিফা, বাগে ফাকাদ ইত্যাদি ইত্যাদি।।
ছোট বেলায় কোন বন্ধু যখন কোন বুদ্ধির খেলা দেখাত আমরা বলতাম, ও একটা ব্রিটিশ। প্রসঙ্গটা এ কারনেই আনলাম, দেখেন যেই চাল ব্রিটিশরা এই ভারত উপমহাদেশের মুসলিমদের জন্য দিয়ে গেছে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে আজ শত বছর পরেও আমরা তার কুফল ভুগ করছি। সমাজে সংসারে দেশে আজ অশান্তির জন্ম দিয়েছে সেই ধর্ম কানারা, এর ফল না জানি আর কত বছর বয়ে বেড়াবে ততকালীন ব্রিটিশ দের খেলার পুতুল এই অজ্ঞ মুসলিম সমাজ। আর এটাই ব্রিটিশ দের চাল, আর এ কারনেই তারা ব্রিটিশ। তারা মুলত ওহাবিবাদ প্রচার প্রকাশ করার ক্ষেত্র রচনা করে গেছে এর মাধ্যমে।। এই আউলিয়াদের ভারত উপমহাদেশে তারা সফল ভাবে এজিদি ও ওয়াহাবি ইসলামের বীজ বুনে দিয়েছে এই মাদ্রাসা নামে এবং তারা সফলও হয়েছে।। অথচ এই ব্রিটিশরাই সিকার করেছিল যে সাড়া ভারতের উপর যার হুকুম চলে তিনি খাজা মাইনুদ্দিন হাসান (রহঃ)। আর এই ওহাবিবাদের পর আজ এই মাদ্রাসা হতে আসা ছাত্ররা আউলিয়াদের নাম শুনতে পারে না, বদনাম করে। উল্লেখ্য, সেই প্রথম প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার প্রথম ২৬ জন প্রিন্সিপালই ছিল ইংরেজ।।
আজ সমাজের যত ঘৃনিত, লজ্জাজনক অপরাধ হচ্ছে তার আতুরঘর হয়ে দেখা দিচ্ছে মাদ্রাসা ও মসজিদ। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই জাতির জন্য মুক্তির পয়গাম যে যতদিন না এই ধর্ম বাবসা কেন্দ্রীক শিক্ষা একেবারে বন্ধ করা হবে ততদিন আরও অবনতি ঘটবে সমাজ বেবস্তার। মানুষ এখন এর অপকর্মের ফল জানতে পারছে আগে তাও জানতে পারত না। এর মানে কি, এর মানে হল শত বছর ধরে তাদের গোপন জুলুম মুখ বুজে সয়েছে না জানি কত মাসুম। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন যারা মাদ্রাসায় পড়ে তাদের করম জীবনের আর কোন উদ্দেশ্য নাই, মসজিদ মাদ্রাসায় চাকরি অথবা ওয়াজকারি হওয়া ছাড়া।। তাদের জন্য কিছু কারিগরি শিক্ষা রাখা যেতে পারে যেমনটা শুরুর দিকে ছিল।। আজ তাদের বদ আমলই বলে দেয় তাদের উদ্দেশ্য, তারা মুলত এই ধর্ম কে পুজি করে দুনিয়া লাভ করতে চায়, তাই তাদের মাঝে না পাই পবিত্রতা, না বুজুর্গ। পক্ষান্তরে তারা অপপ্রচার করে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আহলে বায়াতের বিরুদ্ধে, নারী সমাজের বিরুদ্ধে যা সত্যিকার ইসলাম সমর্থন করে না।।
অপরপক্ষ মাজারের তথা আউলিয়াদের সেবক। দেশ বিদেশের ৫ শতাধিক আউলিয়ার জীবনি আমি পড়েছি ও যেনেছি কিন্তু আজ যারা সেই মহান আউলিয়াদের পবিত্র মাজার কে পুজি করে নিজেদের দুনিয়ার ফায়দা লুটছে, তাদের কি বিধান। আর তাদের কারণেই আজ প্রশ্ন উঠে আমার মহান বজুরগ সেই আউলিয়াগনের উপর।।
আরেক পক্ষ দাড়ি টুপি পড়ে বাংলার সাধারণ মানুষের সামনে আরবি বয়ান করে নিজেরাই মহান আলেম মহান পীর সেজে বসে আছেন। বলেন আরবি হরফে ৩০ নেকি কিন্তু কথা হল আরব দেশে যারা সারাদিন আরবিতে কথা বলছেন, ঝগড়াঝাঁটি, গালাগালি করছেন আরবি হরফ দিয়ে, তারাও কি তবে কথিত নেকি হাসিল করছেন। উত্তর যদি না হয় তবে এই রকম মিথ্যা বয়ান না করাই শ্রেয়।।
পরিশেষে এটাই বলা যায় যে এই বাংগালী যতদিন না সত্যিকার মানুষ হবে ততদিন তার মুক্তি নেই। আমি কোন রাজনৈতিক দলের অনুসারী না কিন্তু রবীন্দ্রনাথ যখন এই বাংগালী কে অমানুষ বলেছিল, তখন শেখ মুজিব কষ্ট পেয়ে বলেছিলেন আমরা আজ মানুষ হয়েছি, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আর তাই হয়তো তিনি উনার ভাষনে পরবর্তীতে জনগণকে মানুষের মত মানুষ হবার জন্য বলতেন। কারণ একটা দেশের মুল সম্পদই হল সেই দেশের সত্যিকার মানুষ রুপি জনগণ। আজ আমরা ভাল জামাকাপড়, উঁচু উঁচু দালান, রাস্তা ভর্তি গাড়ি এগুলোই মনে করি দেশের উন্নয়ন। অথচ জনগনকে সত্যিকার মানুষ হবার কোন প্রকল্প আমরা নেই না। বাজেটের সবচেয়ে কম খরচের খাত শিক্ষা খাত যাও ভুল শিক্ষায় পরিপূর্ণ। অনেকেই হয়ত ভাবতেছেন, আপনিত কখনো এগুলো বলেন না। মনে রাখবেন সত্য প্রকাশ শক্তি মাওলার দান।। তবে আমরা যে বাস্তব ঘর মুখি সংসার মুখি ইসলাম প্রচার চালেঞ্জ সহকারে করেছি সেই, আল্লাহর ইসলাম কারো কাছেই ছিল না। আজ যদি আর সব ফেলে সেই বাস্তব সত্য ইসলামই পালন করেন দেশ আগামী ৫ বছরের মধ্যে দুনিয়ায় সবচেয়ে শান্তির দেশ বলে বিবেচনা লাভ করবে।। আমাদের ধারণ করা হাজার বছর ধরে পালন করা ইসলাম কেন এখনো পরিবারে, সংসারে, সমাজে, দেশে শান্তি এনে দিতে পারল না। এর মানে সত্যিকার ইসলামই আমরা জানতাম না। আরেক দল আছে বিভিন্ন কায়দায় কবিতা লিখে মানুষকে গোপন জ্ঞান দান করার নামে আচ্ছন্নতা দিয়ে ডেকে রাখেন যা নারী ও শিশু সমাজ ভয় ও আতনক নিয়ে থাকেন। এগুলো মুলত নারী ও শিশু সমাজের জন্য মারাত্মক ভীতি ও হুমকি। যা বাস্তব সংসার সমরথন করে না। যাই হউক, আমার এই লেখা নিজ ঘরের ইসলাম (শান্তি) বিসর্জ্জন দিয়েই লিখি তবুও যদি কেউ একজন উপকার লাভ করেন।। কিন্তু ফেইসবুক আমাদের জন্য কিছুই না, এটাকে বাংলায় পরের ধনে পোদ্দারি বলে। সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন আর সত্য জানুন।।
-জয়গুরু, জয় দয়াময়।।
-প্রাচীন কবি।।




0 Comments: