কোন রূপে, কি হালে, কোন অবস্থায় আল্লাহ পাক মানুষকে কৃপা বা দয়া বিন্দু দানে কৃতার্থ করেন তাহা মানব বুদ্ধির অতীত। রিয়াজতের মাধ্যমে ভক্তি বোধক প্রতিকুল গুণাদি অপসারিত করিতে পারিলেই ভক্তির বিকাশ হইবে। তাই সুফিগন বলেছেনঃ চিত্ত শুদ্ধি, সৎ সঙ্গ ও আল্লাহ নামের জিকির ভক্তি পথের বিশেষ সহায়ক। ধর্মের আসল কাজ মানবগনের চিত্ত নির্মল করা। যাহারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) - এর প্রচারিত ধর্মের যথার্থ মর্ম গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক তাহাদিগের চিত্তকে কলুষ মুক্ত করা বিশেষ প্রয়োজন। কারণ যাহার চিত্ত শুদ্ধ হয় নাই, তাহারা ধর্মের উচ্চস্তরে উঠিতে পারে না এবং নফস, শয়তান ও ইন্দ্রিয়াদি ধমন করিতে না পারিলে তরিকতের পথে অগ্রসর হওয়া যায় না। সুতরাং ছিরাতুল মুস্তাকিম বা চিত্ত শুদ্ধির পথে যাবতীয় প্রবৃত্তি ও ইন্দ্রিয়াদি সংযম ও তপস্যার মাধ্যমে দমন পূর্বক সুপথে ধাবিত করিতে হইবে। কারণ রিপু ও ইন্দ্রিয়াদি দমন না হইলে ইবাদতের কোন স্তরে যাওয়া যাইবে না। কিন্তু যাহারা রিয়াজতের মাধ্যমে রিপুজিৎ, ইন্দ্রিয়াজিৎ ও সংযমী হইয়া চিত্ত শুদ্ধ করিয়াছে, তাহারাই ইসলামী সমাজে রাসুলের তরিকা মতে সুফি বলিয়া গণ্য। সেই সুফি ব্যক্তিদের দেখানো পথে রিয়াজতের যে কোন পন্থা অবলম্বন করে, আল্লাহ ওয়ালা হইতে পারিবেন। সংযমী হওয়া, নফসাদিকে আল্লাহর দিকে ধাবিত করাই ধর্মের প্রধান উদ্দেশ্য। সুফিয়ানা ছলে রিয়াজতের মাধ্যমে মন হইতে সমস্ত কুচিন্তা, দম্ভ, অহংকার দূর করিতে পারিলেই ছালেকের হৃদয়ে ভক্তির আলো প্রকাশিত হইবে। কাম–ক্রোধ রিয়াদি ভক্তি লাভের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক। একটি থাকিতে অন্যটি আশা করা বাতুলতা মাত্র। রাত্রিতে সূর্য দর্শনের ন্যায় অতীব কামুক ব্যক্তির পক্ষে ভক্তি অসম্ভব। চিত্তশুদ্ধির পরিপূর্ণতা আসলে, ভক্তি পথের প্রতিবন্ধক গুলো যথা পাপ, কুসঙ্গ, কু–চিন্তা, লোভ, মোহ, হিংসা, বিদ্বষ ইত্যাদি যাবতীয় চিত্ত প্রবৃত্তি দূরীভীত হওয়া যাইবে। তখন সে সুফি ছালেকের হৃদয়ে, সিগ্ধ ও শান্ত অলোক বিকীর্ন করিয়া, ভক্তি বিকশিত হইবে।




0 Comments: