উত্তরঃ সাধনার মূল লক্ষ হলো স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির বিলিন হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ কর্ম বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মানুষ যে বার বার আসা-যাওয়া করতেছে (জন্ম-মৃত্যু) এই আসা যাওয়ার পালা শেষ করে জন্ম-মৃত্যু বারণের মাধ্যনে নির্বান লাভ করে স্রষ্টার সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার জন্যেই সৃষ্টিকে সাধনা করতে হয়। তবে সাধনা করার সুযোগ দেওয়া হয়ছে শুধু মানব ও জ্বীন কূলকে। যেমন আল্লাহ বলেন 'আমি মানুষ এবং জ্বীনকে শুধু আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি'। তাই মানুষকে সাধনা করতে হয়। যে একাগ্র চিত্তে সাধনা করেন তাকেই সাধারন অর্থে সাধক বলা হয়। তবে সাধনায় সিদ্ধি লাভের আগে কেউই প্রকৃত সাধক নয়। সাধকের এই সাধনার সর্ব নিন্ম স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তরের মাঝে চারটি স্তর রয়েছে। সাধকের সাধনার স্তর চারটি। তা হলঃ
১.ফানা ফিশ শাইখ, ২.ফানা ফির রাসূল,
৩.ফানা ফিল্লাহ্, ৪.বাকা বিল্লাহ্।
১.ফানা ফিশ শাইখঃ
'ফানা ফিশ শাইখ' এর অর্থ হল পীরের মাঝে ফানা বা বিলন হওয়া। অর্থাৎ পীরের কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা। পীরের ইচ্ছায় ফানা, পীরের হুকুমে ফানা, পীরের জন্য ফানা, পীরের মাঝে ফানা হওয়াকেই ফানা ফিশ শাইখ বলে। অর্থাৎ নিজের ইচ্ছাকে কালেক্টেওয়া পীরের জন্য। এটাই সাধনার প্রথম স্তর।
২.ফানা ফির রাসূলঃ
ইহার অর্থ রাসূলের মাঝে ফানা হওয়া। যখন ফানা ফিশ শাইখ এর স্তর পারি দিবে, তখন আপন পীরের ছুরতে রাসূলের নূরানী ছবি, দেখতে পাবে। যে চেহারা এতো সুন্দর ও নূরময় হবে যে, মনে হবে লক্ষ কোটি নক্ষত্রের আলো তার পীরের মাঝ হতে বিচ্ছুরিত করতেছে সমস্ত দুনিয়াকে আলোকিত করে দিয়ে। ঐ নূরের আলোতে তখন ভক্তের দেহের সমস্ত মোকাম ও মঞ্জিল রাসূলের নূরে নূরাম্বীত হয়ে যাবে। যে রূপের বর্নণা দিতে গিয়েই জালালউদ্দিন রুমি বলেছেন..
"দেখলে ছবি পাগল হবি
ঘরে রইতে পারবি না
এই চৌদ্দ ভুবনে আমার মুর্শিদ মাওলানা
সেদিন আরশ কুরসি সাগর পাহার
কিছু দেখার বাকি থাকবে না।"
(বাউল কবি জালাল খাঁ বানী)
এই স্তরে আসার পরই সাধক ওলীর দরজায় পৌঁছে যাবে। তখন সে ভাবে বিভুর হয়ে মুখ দিয়ে যদি কিছু বলে, তবে তা হয়ে যাবে, কিন্তু সর্ববস্থায় হবে না। তবে তখন থেকেই তাকে ওলী হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩.ফানা ফিল্লাহ্ঃ
ইহার অর্থ আল্লাহর মাঝে বিলিন বা ফানা হওয়া, আল্লাহতে মিশে যাওয়া। ফানা ফির রাসূল এর স্তর পার হওয়ার পরই সাধক এই স্তরে উপনিত হন। তখন তিনি কামেল ওলী হয়ে যান। তবে পূর্ন কামেলে মোকাম্মেল হন না। তাই তাদের আবারও জন্ম নিতে হয়।




0 Comments: