একখান খোলা প্রশ্ন ছিল??? অযথা কেউ তর্কে লিপ্ত হবেন না ।।।তর্ক করলে সত্য জানা যায়না? যার নিজের অর্জন করা ধর্ম জ্ঞান নাই সেই রকম কোন ব্যক্তি দয়া করে লাইক কমেন্ট না করলে খুশি হব৷

তর্ক করার আগে,নিজের মেমোরিতে আগে থেকে বাপদাদার ওয়ারিশ সুত্রে যাহা জেনে জমা রেখে ছিলেন তাহা এক জায়গায় রেখে নিজে কোরানকে অধ্যায়ন করে কিছু সত্য জানার চেষ্টা করুন তখনই সব ষড়যন্ত্র আপনার কাছে পরিস্কার ধরা দেবে এবং সত্যের মুখামুখি দাঁড়াইতে পারবেন৷
মহান আল্লাহ সকল ফেরেশতাগনকে আদেশ করলেন এইমর্মে যে তোমরা হযরত আদম (আঃ) কে সেজদা কর ।।আল্লাহর আদেশমত সকল ফেরেশতা সেজদা করলেন কিন্ত তাঁদের সর্দ্দার জনাব আযাযীল ওরফে ঈবলীশ সেজদা করল না!
আল্লাহর সুস্পষ্ট আদেশ লংঘন করার জন্য ঈবলীশকে বিতাড়িত করে দেওয়া হল আল্লাহর দরবার থেকে । শুধু বিতাড়িত করা হল না , ঈবলীশকে চিরজীবনের জন্য মহালানতি এবং চিরজাহান্নামী সকল মানবে চির শত্রু বলে ঘোষনা দেয়া হল । এবং বিতাড়িত হবার পরে থেকে ঈবলীশ আর কখনই মহান আল্লাহর দরবারে প্রবেশ করতে পারে নি ।
বিষয়টি খুবই পরিস্কার যে আল্লাহ কতৃক যে বিতাড়িত হয় সে লানতি এবং জাহান্নামী বলে ঘোষিত হয় । কিন্তু তিনি একসময় আল্লাহর প্রিয় ভাজন ছিলেন ? শুধুমাত্র একটি আদেশ লংঙ্গনে চির অভিশ্রপ্ত ও আদম সন্তানদের শত্রুতে পরিণত হলেন?
উপরের বিষয়টি পবিত্র কোরআনে অনেক সুরাতেই বিস্তারিত বলা আছে ।।একটু সময় ব্যয় করলে সবকিছু নিজেই জানতে পারবে!যদি কোরানকে বাংলায় পড়ার চেষ্টা করেন?
সুপ্রিয় পাঠক ও জ্ঞানী সমাজ????????
ও বিবেকবানদের প্রতি আরজ!!!!!!
এবারে আসুন ইতিহাসের আরেক পর্বে ,এইটির মর্মে না বুঝিয়া দয়া করে কেউ উল্টো পাল্টে কমেন্টস করে নিজেকে প্রতারীত করবেন।
ভালোবাসা ভালো জিনিস কিন্তু সত্যকে নাজেনে মিথ্যাকে ভালো বাসলে উল্টো পতারিত হতে হয়৷ আলো ভেবে আলেয়ার পিছনে দৌড়ানোর মত হবে!
আজাজিল ফেরেশতার সর্দার হইতে এক নিমিষে ঈবলীশ হয়ে আল্লাহর দরবার থেকে গলা ধাক্কা খেয়ে বিতাড়িত হল কেন??? কারণ আল্লাহর একটি মাত্র হুকুম অমান্য করে বেয়াদবি করার কারণে৷আল্লাহ ও রসুলের দরবারে কোন বেয়াদবে স্থান হয়না৷সেই পূর্বে যত বড় মর্ত্তবার অধিকারী হোক না কেন?বেয়াদবি করার পর তার সেই মর্ত্তবা আর বলবৎ থাকেনা৷৷এইটায় স্রষ্ট্রার আইন!
ঐতিহাসিক এই ঘটনারই অনুরুপ আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল মহানবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) এর দরবার বা গৃহে তার অন্তিম সময়ে। এই ঘটনাটি ঘটেছিল খুব সম্ভবত ২৪ শে সফর ১১ হিজরী অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) এর ইন্তেকালের চার দিন পূর্বে বৃহস্পতিবারে দিন ঘটেছিল ।।।সেইজন্য অনেক আশেকে রসুল সেই দিনটিকে উম্মতি মুহাম্মদীর কপাল খাওয়ার দিন বলে জেনে থাকে৷
ঘটনার সারসংক্ষেপ –
ইন্তেকালের চার দিন পূর্বে রাসুল (সাঃ) ওনার গৃহে শুয়ে আছেন । শরীর খুবই অসুস্থ ।তাঁহার গৃহে অবস্থানরত সকলেই বুঝতে পারলেন যে ,
রাসুল (সাঃ) এর অন্তিম সময় খুবই সন্নিকটে ।
যে কোন মুহূর্তে রাসুল (সাঃ) আল্লাহর আহবানে সাড়া দিয়ে এই জগত নামে পৃথিবী হইতে পর্দা টেনে অনন্ত জগতে স্রষ্ট্রার সাথে মহা মিলনে চলে যাবেন৷ এই নশ্বর পৃথিবীকে ছেড়ে চলে যাওয়ার চার দিন পুর্বে সে সময় মহানবীর ঘরভর্তি লোকজন বিশেষ করে রাসুল (সাঃ) এর বিখ্যাত কয়েকজন সাহাবাসহ পরিবারবর্গগন ঘরের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ।তখন উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ করে
রাসুল (সাঃ) পরিস্কার ভাবে আদেশ দিলেন যে ––আমার অবর্তমানে আমার উম্মতের মধ্যে যাতে কোন ধরনের মতভেদ দেখা না দেয় তাই তোমরা আমার কিছু ওসিয়তনামা লেখার জন্য তোমরা খাতা ও কলম নিয়ে আমার কথাগুলি লিপিবদ্ধ কর! আমি তোমাদের জন্য এই ওসিয়তনামা লিখে দিয়ে যেতে চাই যে যদি তোমরা ইহাকে আমার পরে তোমরা অনুস্বরণ কর তাহলে কখনই গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট হবে না ।
এই ভারী মহা মুল্যবান কথা দুইটি হল:-আমি চলে গেলেও তোমাদের জন্য রেখে গেলাম কোরআন ও আমার আহলে বায়েত – এই দুইটি সর্বদা আঁকড়ে ধরে থাকবে তাহলে তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না।
মূলত এই কথাগুলি তিনি লিখিত ওসিয়তনামা করার জন্য মহানবী (সাঃ) খাতা কলম চেয়েছিলেন কিন্তু কোন কোন সাহাবাদের অতি উৎসাহি বাঁধার কারণে তাহা সম্ভব হয়ে উঠেনি৷
সংক্ষেপে এটাকেই হাদিসে কিরতাস বলে ।
প্রশ্ন –
ওসিয়তনামাটি লেখার জন্য মহানবী (সাঃ) সম্মুখে খাতা কলম নিয়ে মওলা আলী হাজির হয়েছিলেন?
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে –
নবীজী (সাঃ) এর সুষ্পষ্ট আদেশের পরেও এই কথা গুলিকে লিপিবদ্ধ করতে দেওয়া হয়নি খোঁডা একটি যুক্তির কারণে।যুক্তিটি ছিল মহানবী নাকি মৃত্যুর বিছানায় আজারাইলকে দেখে জ্ঞান শুন্য হয়ে আবুল-তাবুল বকতেছে(নাউজুবিল্লাহ) এই যুক্তিটি দাঁড় করিয়ে মওলা আলীকে লিখতে বাঁধাদেওয়া হয়৷এমন কি লিখার উপকরণ গুলি ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়ে ছিল৷
প্রশ্ন –
ওসিয়তনামাটি কেন লেখার জন্য কিছু সাহাবারা বাঁধার কারন হয়ে দাঁড়ালো ?
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে –
হযরত ওমরের প্রচন্ড বিরোধিতার জন্য এই মুল্যবান কথাগুলো তখন লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হয় নি । এমনকি মহানবী (সাঃ) এর সম্মুখে লিখার উপকরন গুলি ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন হযরত ওমর ৷
প্রশ্ন –
খাতা কলম না দিয়ে হযরত ওমর তখন মহানবী (সাঃ) কে কি বলেছিলেন ?
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে –
হযরত ওমরের উক্তিটি ছিল — রাসুল (সাঃ) মৃত্যু যন্ত্রনায় পাগলের প্রলাপ বকছে এবং ” হাসবুনা কিতাবাল্লাহ ” বা আমাদের কাছে কোরআন আছে , কোরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট ।
প্রশ্ন –
হযরত ওমরের এহেন আচরনের জন্য মহানবী (সাঃ) কি করেছিলেন ? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে –
মহানবী (সাঃ) স্বয়ং নিজে হযরত ওমর সহ তার দলবলকে নবীগৃহ থেকে বের করে দিয়ে শুধুমাত্র মাওলা আলী মা ফাতেমা ও হাসান হোসাইন ছাড়া বাকিদের ঘর হইতে নির্দেশ দেন ।
প্রশ্ন –
এত বড় পাপ কর্মের সংগঠিত হওয়ার পর হযরত ওমর কি নবীজী (সাঃ) এর কাছে পরে এসে কি ? কখনো ক্ষমা চেয়ে ছিলেন ????
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় না!! সেই সুযোগটি তিনি আর পাই নাই!
এত বড় একটি ঘটনা ঘটার পরে এবং মহানবী (সাঃ) এর মৃত্যু সংবাদ শোনার পরেও হযরত ওমর বনু সকীফাতে প্রায় তিন দিন ব্যস্ত ছিলেন মহানবী (সাঃ) এর শূন্য আসনে কে ক্ষমতাসীন হবে – সেটা নির্ধারনে ।
খলিফা নির্বাচন শেষে হযরত ওমর আবু বক্করসহ যখন নবীগৃহে আসলেন ততক্ষনে মহানবী (সাঃ) তাঁহার প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়ার সাথে পর্দা করে প্রভুর কাছে চলে গিয়েছিলেন ।
অতএব হযরত ওমরের পক্ষে মহানবী (সঃ) এর নিকট মাফ চাওয়ার কোন সুযোগ ঘটে নি । সুতারাং বড় বড় কথা না বলে এই দলীলের রেফারেন্স গুলো দেখুন তখন হয়ত আপনাদের ভুল ভাংঙ্গতে পারে ,,,আর এজীদের বংশগত যদি হয়ে থাকেন তাহলেতো আপনার কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নাই।নাই।আমার এই লিখা গুলো পড়ে হয়ত অনেকে আমাকে শিয়া,কাফের কত কিছু বলবেন তাতে আমার কিছু যায় আসেনা৷ নবীজি এবং আহলে বাইতকে ভালো বাসার কারণে যেকোন শাস্তি আমি মাথা পেতে বহন করতে পারি৷সত্যের জন্য কত মহা পুরুষ তাঁদের জীবনকে তুচ্ছ কত রকম কষ্টের স্বীকার হয়েছেন তাহা শুধু আ্ল্লাহই ভালো জানে৷
তথ্য সূত্র – সহীহ বুখারী , ইসলামিক ফাউন্ডেশন , ১ম খন্ড , পৃ – ১১৫ / ৫ম খন্ড , পৃ – ২৯ / ৭ম খন্ড , হাদিস – ৪০৭৬ / ৯ম খন্ড , হাদিস – ৫১৫৪ / সহীহ বুখারী , ৩য় খন্ড , হাদিস – ১২২৯ ( করাচী মুদ্রন ) / সহীহ বুখারীর ছয়টি স্থানে বর্নিত – কিতাবুস জিহাদ ওয়াস সায়ীর অধ্যায় / কিতাবুল খামিস অধ্যায় / মারাযুন নবী (সাঃ) ওয়া ওয়াফাতুহু / কিতাবুল মারযা অধ্যায় / কিতাবুল ইলম অধ্যায় / সহীহ মুসলিম শরীফ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন , ৫ম খন্ড , পৃ – ৫৩ , ৫৪ , হাদিস – ৪০৮৬ – ৪০৮৮ / মিনহাজুস সুন্নাহ , ৩য় খন্ড , পৃ – ১৩৫ – ইবনে তাইমিয়া / কিতাব আল – মিলাল ওয়ান্নিহাল , বর হাশিয়াহ কিতাবুল ফাসলুল ইমাম ইবনে হাযম , পৃ – ২৩ / তোহফায় ইশনে আশারিয়া , ১০ম অধ্যায় , পৃ – ৫৯২ / আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহা , ৫ম খন্ড , পৃ – ২০৮ এবং ৭ম খন্ড , পৃ – ৩৪৬ / ইমাম হাম্বল মুসনাদ , ৪র্থ খন্ড , পৃ – ৩৭২ / জনাব আল্লামা বাহরানী (রহঃ) তার গায়াতুল হারাম নামক গ্রন্থে সুন্নী ৮৯ টি হাদিস / মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বাল , খন্ড – ৩ , পৃ – ৩৬৪ (মিশর , ১৩১৩ হিজরী ) / হাদিসে কিরতাস এবং হযরত ওমরের ভূমিকা , আব্দুল করীম মুশতাক ইত্যাদি । (সংরক্ষীত)
দয়া করে পবিত্র কোরআনের দুটি আয়াত মনযোগ দিয়ে পড়ুন এবং নীচে উল্লেখিত মূল প্রশ্নটি সম্পর্কে কিছুটা চিন্তা ভাবনা করুন ।
“ – একজন মুমিন পুরুষ এবং একজন মুমিন নারীর অধিকার নেই , যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোন একটি বিষয় সিদ্বান্ত নিয়েছেন , তাঁদের বিষয় অন্য কোন কিছু পছন্দ করার এবং যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অমান্য করে নিঃসন্দেহে [সে] পথভ্রষ্ট হয়েছে সুস্পষ্ট ভুলের ভিতরে — “ ।
সুরা – আহযাব / ৩৬ ।
“
— রাসূল তোমাদেরকে যা দেন , তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন , তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর । নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা — “ ।
সূরা – হাশর / ৭ ।
প্রিয় পাঠক ,এখন মূল প্রশ্নটা হচ্ছে যে ,
মহান আল্লাহর দরবার থেকে আল্লাহ কতৃক বিতাড়িত হবার পরে ঈবলীশ চিরজাহান্নামী হয়ে গেল ।
তাহলে একই ঘটনার অনুরুপ ঘটনা –
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কতৃক বিতাড়িত ব্যক্তি কিভাবে আশারা মোবশশারা , রাঃআনহু মার্কা সনদ পায় এবং সাহাবার মত পদ মার্যাদায় থাকে?
একই কর্মে দুই ধরনের প্রতিফল কিভাবে সম্ভব??
কারো কাছে কোনো সঠিক উত্তর আছে কি??????
লিখাটি কিছু অংশ সংগ্রহীত বাকীগুলো বিভিন্ন পুস্তক হইতে তথ্য নির্ভর হয়ে লিখেছি যদি এতে কারো কিছু জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানতে পারেন৷
গোলামে মাইজভান্ডারী নুরুউদ্দিন বাবুল
শাহ আলী শাহ ভাই এর সহযোগিতার জন্য তার কাছে ঋণী৷




0 Comments: