আজ রবিবার, আড্ডা প্রীয় সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের কাছে, এ দিনটি যেনো সাপ্তাহিক ঈদের আরেক নাম। ছয়টি দিন বিরামহীন শত ব্যস্ততার ভিরে, এ যেনো স্বস্থির এক নিঃশ্বাস। সকাল থেকে নিয়ে সারাটা দিন প্রীয় বন্ধুদের সাথে হই হুল্লুর আড্ডাবাজি আর ছুটে বেরানো এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। পরন্ত বিকেলে আড্ডার এক সমুদ্রে পরিনত হয়, মিনিমার্ট, আমতলা আর তেঁতুলতলা। রাস্তায় তিল ধারনের ঠাই থাকেনা মোস্তফা সেন্টার সংলগ্ন এলাকায়, হাটতে গেলে ঠেসাঠেসি, এ যেনো ছোট খাটো এক যুদ্ধ।
খাবার খেতে গেলে ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়, খানা বাসমতি, রাধুনী, আর মোহাম্মদিয়া রেস্টুডেন্টের লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থেকে। এক প্লেট বিরিয়ানি খেতে গেলে দেখা যায়, ঘারের উপর আরও কয়েক জন দন্ডায়োমান খাবার প্লেট হাতে, টেবিল খালি হবার অপেক্ষায়। ছুটি পাওয়া মানুষগুলো প্রীয়জনদের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত মোস্তফা সেন্টারের বিশাল সিরিয়ালে। দেশে টাকা পাঠাতে গেলে সে আরেক বিড়ম্বনা, পায়ে ব্যাথা ধরে যায় দাড়িয়ে থেকে ব্যাংকের লাইনে। হাটতে গেলে, আপনি না চাইলেও দেখা হয়ে যাবে কয়েকটা পরিচিত মুখের সাথে। সারাদিন ঘুরোঘুরি, আড্ডাবাজি, খাওয়া দাওয়া শেষে বন্ধুদের বিদায় জানিয়ে ক্লান্ত শ্রান্ত দেহে, আবারও সেই বিরক্তিকর লাইনে দাড়িয়ে ডরমেটরিতে ফেরা বাস কিংবা ট্রেনে।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দিনগুলি যেনো শুধুই অতিত। ছুটে চলা দুরন্ত দুটি পা এখন ডরমেটরির চৌকাঠে বন্ধি, থমকে গেছে জীবন যাত্রা। বুকের গহিনে ঝেঁকে বসেছে অজানা এক আতঙ্ক। কত দিন দেখা হয়না বন্ধুদের প্রীয় মুখগুলো, এখন আর নেই আড্ডার ঝাঁক গুলো, জনশূন্য মরুভূমি মিনিমার্ট, আমতলা, আর তেঁতুলতলা। খানা বাসমতি, রাধুনী, আর মোহাম্মদিয়া রেস্টুরেন্টের দরজায়, আজ নেই শ্বাসরুদ্ধকর সেই লম্বা লাইন। বহুল ব্যস্তময় মোস্তফা সেন্টারটাতেও চলছে লকডাউন, গাদাগাদি ভিরের সেই রাস্তা গুলি শুনশান ফাকা, পরেনা কারো পা। কারন করোনা ভাইরাস। সমস্ত প্রবাসীর আকাশে এখন দুঃশ্চিন্তার ঘন কালো মেঘের ঘনঘাটা। কত দিন চলবে এ বন্ধিদশা, শত ব্যস্ত দুটি হাত, দিক দিগন্তে ছুটে চলা দুটি পা আর কত দিন আটকে থাকবে চার দেয়ালের পিন্জিরায়। এমন সঙ্কটাপন্ন অবস্থা, আমাদের দেখা এই প্রথম।
ভেবোনা বন্ধু, এ বন্ধিদশা আর বেশিদিন নয়, আর হয়তো বেশিদিন আটকে রাখতে পারবেনা আমাদের। আল্লাহর অশেষ রহমতে, আমরা বেরিয়ে আসবো এই সংকটময় সময় থেকে। আমরা আবার মেতে উঠবো আড্ডাবাজি আর হাসি তামাসায়, সেই মিনিমার্ট, আমতলা, তেঁতুলতলায়। দাপিয়ে বেড়াবো সিঙ্গাপুরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত। আবার লোকে লোকে লোকারন্ন হয়ে উঠবে মোস্তফার চারি প্রান্তরের রোডঘাট। আবারও ভির জমবে রেস্টুডেন্ট গুলোর সকল ঘেটে, পথ চলতে গিয়ে খেতে হবে হিমশিম লোকের ভিরে। এ বিবিশিকাময় আতঙ্কের ঘোর কালো মেঘ কেটে সিঙ্গাপুরের আকাশে আবার উদিত হবে হাস্যেজ্জল সোনালী সূর্য্য, সেই অপেক্ষা এবং প্রত্যাশায়।
আমার সোনার বাংলা🇧🇩
আমি তোমায় ভালবাসি♥





0 Comments: